ঘরে বসে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা রোজগার! আইআরসিটিসি এজেন্ট হবেন কী ভাবে?

IRCTC Agent: ট্যুরিজমের ব্যবসায় আইআরসিটিসির হয়ে কাজ করে আপনিও ঘরে বসে মাসে মাসে উপার্জন করতে পারবেন। সেইসঙ্গে পাবেন বেশকিছু সুবিধা।

inscript
৩ মিনিট
ঘরে বসে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা রোজগার! আইআরসিটিসি এজেন্ট হবেন কী ভাবে?

দেখতে দেখতে একটা বছর শেষের পথে। হাতে গোনা কয়েকদিন পরই শুরু হবে আরও একটা বছর। ভ্রমণপ্রিয় মানুষেরা ইতিমধ্যেই ক্যালেন্ডার আর খাতা কলম নিয়ে বসে গিয়েছেন। ছুটিছাটার হিসেব সেরে নিজেদের ঘুরতে যাওয়ার যাবতীয় প্ল্যান করে রাখছেন। তারপর ব্যাগপত্র গুছিয়ে ট্রেন ধরার পালা। ভ্রমণ আর ট্রেনের সঙ্গে ভারতে জড়িয়ে আছে আরও একটি নাম – আইআরসিটিসি। টিকিট, খাওয়া দাওয়া, ঘুরতে যাওয়া সমস্ত কিছু নিয়ে একটা বিশাল সম্ভার নিয়ে হাজির হয় রেলের এই সংস্থা।

পুরো নাম ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন। ভারতীয় রেলের অধীনস্থ এই সংস্থা এখন ভ্রমণপ্রিয় মানুষের সঙ্গী। ট্যুর প্ল্যানিং হোক বা ট্রেনের মধ্যে খাবার – নিজেদের পরিষেবা পৌঁছে দিতে সদা তৎপর আইআরসিটিসি। সেইসঙ্গে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ মিলিয়ে ট্যুরিজম ব্যবসাতেও ছাপ রাখে তারা। সব মিলিয়ে একটা সুস্থ বাস্তুতন্ত্র গড়ার লক্ষ্যেই নিজেদের সম্প্রসারিত করছে আইআরসিটিসি।

সেইসঙ্গে রয়েছে কাজের সুযোগ তৈরি করা। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তরুণ-তরুণীরা। কাজের যে কোনও সুযোগ পেলে তাঁরা সেটা কাজে লাগাতে চান। আইআরসিটিসি এজেন্ট তেমনই একটি সুযোগ। ট্যুরিজমের ব্যবসায় আইআরসিটিসির হয়ে কাজ করে আপনিও ঘরে বসে মাসে মাসে উপার্জন করতে পারবেন। সেইসঙ্গে পাবেন বেশকিছু সুবিধা।

কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই ট্রেনে চড়তে টিকিট লাগে না! চোখ ধাঁধানো যে পথে চলে দেশের একমাত্র 'ফ্রি ট্রেন'!

Bhakra Nangal Railway: প্রাথমিকভাবে এই স্পেশাল ট্রেনে দশটি বগি থাকলেও এখন বাকি রয়েছে মাত্র তিনটি বগি। এই ট্রেন খুব একটা বেশি জোরে চলে না, কিন্তু তাও প্রতিদিন ৮০০ জন মানুষ এই ট্রেনের মাধ্যমে সফর করেন।

আইআরসিটিসি এজেন্ট না হয়েও আপনি বিনামূল্যে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন। কিন্তু সেখানে সুযোগের সংখ্যা সীমিত। আইআরসিটিসি স্বীকৃত এজেন্ট না হয়ে এই কাজ করাও উচিত নয়। এজেন্ট হয়ে গেলে বিভিন্ন সুবিধা আপনি পাবেন, যেমন:

১) আনলিমিটেড টিকিট কাটার সুযোগ। এর ফলে আপনি নিজেই একটি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এজেন্ট হলে আপনার সীমিত টিকিট থাকার চিন্তা থাকবে না।

২) সবথেকে বড়ো কথা, আইআরসিটিসি স্বীকৃত এজেন্ট হলে আপনি টিকিট কাটার ক্ষেত্রে কমিশনও পাবেন। ঘুরতে যাওয়ার দূরপাল্লার টিকিটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কমিশনের পরিমাণ থাকে। স্লিপার ক্লাসের টিকিট কেটে দিলে প্রতি টিকিট ২০ টাকা কমিশন পাবেন। অন্যদিকে, এসি ক্লাসের টিকিট কাটলে প্রতি টিকিট ৪০ টাকা কমিশন। ২০০০ টাকার কম মূল্যের টিকিট কাটলে পিজি চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ০.৭৫ শতাংশ টাকা পাবেন। আর ২০০০ টাকার ওপর হলে সেই হিসেব দাঁড়াবে ১ শতাংশে। বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলে করলে এই কমিশন আপনি পাবেন না।

৩) অফিসিয়াল এজেন্ট হলে আপনার দোকানের নাম, জায়গা সমস্তটাই আইআরসিটিসির ওয়েবসাইটে দেখা যাবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রেনের হর্নেই লুকিয়ে সমস্ত ইঙ্গিত! ভারতীয় রেলের হর্ন ব্যবস্থার অজানা যেসব তথ্য

Unknown Facts of Indian Railway: তিনটি ছোট হর্ন খুব কমই বাজানো হয়। এর অর্থ, মোটরচালকরা মোটরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।

৪) আপনি জেনারেল, এসি, স্লিপার ক্লাস, তৎকাল, আরএসি সমস্ত পর্যায়ে টিকিট কাটতে পারবেন। কেবল ট্রেনের রিজার্ভেশন নয়; বাস, ফ্লাইট হোটেল, ট্যুর প্যাকেজ বুকিংয়ের মতো কাজও করতে পারবেন।

কীভাবে হবেন আইআরসিটিসি এজেন্ট?

এর জন্য সবার প্রথমে নিজের প্যান কার্ড আর আধার কার্ড হাতের কাছে রাখুন। সেইসঙ্গে আপনি যেখান থেকে কাজ করছেন, সেখানকার অ্যাড্রেস প্রুফও অবশ্যই লাগবে। এই ক্ষেত্রে আধার কার্ড, বিদ্যুতের বিল, ভাড়া নেওয়ার কাগজপত্র কিংবা যে কোনও সরকার স্বীকৃত ডকুমেন্ট যেখানে আপনার দোকানের ঠিকানা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

এসবের সঙ্গে অবশ্যই লাগবে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থা এবং প্রিন্টার। টিকিট কাটা এবং ছাপার জন্য এসবের প্রয়োজন। যদি এগুলো না থাকে, তাহলেও সমস্যা নেই। নিজের মোবাইলের মাধ্যমেও আপনি কাস্টমারের টিকিট বুক করতে পারবেন। পাশাপাশি নিজের ছবি লাগবে; সঙ্গে রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত মূল্য।

আইআরসিটিসি কিংবা আইআরসিটিসি অ্যাপ্রুভড কোনও থার্ড পার্টির ওয়েবসাইটে গিয়ে এজেন্ট হওয়ার যাবতীয় অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি, মোবাইল আর ইমেল আইডিও সেখানে দিতে হবে। সেইসঙ্গে এক বছরের রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে ৩,৯৯৯ টাকা দিতে হবে। প্রতি বছর এই রেজিস্ট্রেশন নতুন করে করতে হবে।

কত টাকা উপার্জন করতে পারবেন?

এর উত্তর সম্পূর্ণটাই নির্ভর করবে এজেন্টের ওপর। টিকিট বিক্রির সংখ্যা ও যোগাযোগ বেড়ে গেলে আপনি বাড়িতে বসে বসেই অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা রোজগার করতে পারবেন! এই অঙ্কটা বাড়তেও পারে। সময় দিয়ে, যোগাযোগ বাড়িয়ে ঠিকঠাক কাজ করলে সেই অঙ্কটা ৮০ হাজারও ছুঁতে পারে!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।