সন্তান দত্তক থেকে হাসপাতালে হাজিরা, সমপ্রেমীদের যে যে এক্তিয়ার রুখল আদালত

Same-sex marriage verdict: আজ থেকে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই সমকামী বিবাহের আইনি স্বীকৃতির জন্য লড়াই চালাচ্ছেন এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই মামলায় রায়দান ছিল মঙ্গলবার।

Sohini Das
৩ মিনিট
সন্তান দত্তক থেকে হাসপাতালে হাজিরা, সমপ্রেমীদের যে যে এক্তিয়ার রুখল আদালত

বহু লড়াই, বহু সংগ্রামের পর সমপ্রেমে বৈধতা মিলেছিল। কিন্তু শুধু প্রেমের স্বীকৃতিই তো যথেষ্ট নয়। দু'জন ভালোবাসার মানুষকে একসঙ্গে থাকতে হলে সামাজিক স্বীকৃতিটুকুও তো জরুরি। সরকারের সঙ্গে জরুরি সন্তানকে বড় করার অধিকারও। আর সেখানে এসেই বারবার আটকে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ আদালত। সমলিঙ্গের প্রেমে স্বীকৃতি দিলেও সমলিঙ্গ বিয়ের পক্ষে রায় দিতে পারল না সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের রায়ের দিনেও কোনও আশার আলো দেখতে পেলেন না 'এলজিবিটিকিউ' সম্প্রদায়ের মানুষ। এমনকী কাঁটা বিঁধে রইল সন্তান দত্তক নেওয়ার ব্যাপারেও। এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চে থাকা তিন বিচারপতিই বিরোধিতা করলেন সন্তান দত্তকের। পক্ষে সায় দিয়েছেন অবশ্য বাকি দুই বিচারপতি।

২০১৮ সালে সমলিঙ্গের প্রেমকে স্বীকৃতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল ভারতীয় দণ্ডবিধিক ৩৭৭ ধারাকে। সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল রামধনু মিছিল। তবে দেশের এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষের লড়াইটা শুরু হয়ে গিয়েছিল সেদিন থেকেই। কারণ শুধু স্বীকৃতিই নয়, স্বপ্নটা ছিল আরও উঁচু এবং বড়। সেই স্বপ্নের পথ ধরেই ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সমপ্রেমী মানুষজন। আর পাঁচটা মানুষের মতো দাম্পত্য ও সন্তান পালনের স্বপ্ন নিয়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সমপ্রেমে সমস্যা নেই, সমকামের বিয়েতে কেন 'না' সুপ্রিম আদালতের?

Same Sex Marriage Supreme Court Verdict : আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই রায়ের মানে এই নয় যে ক্যুইয়ার ব্যক্তিরা প্রেম বা যৌনতার সম্পর্কে যেতে পারবেন না।

সেই মামলা ওঠে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে। যেখানে ছিলেন বিচারপতি সঞ্জয় কউল, বিচারপতি রবীন্দ্র ভাট, বিচারপতি হিমা কোহলি ও বিচারপতি পিএস নরসিমহা। সমলিঙ্গের বিয়ের রায়ের বৈধতা নিয়ে কথা বলার প্রসঙ্গেই উঠেছিল সন্তান দত্তকের প্রসঙ্গ। সমকামী যুগলেরা সন্তান দত্তক নেওয়া নিয়ে পক্ষে মতামত জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি কউল। তাঁরা মনে করেছেন, সমপ্রেমী যুগলদেরও সন্তান দত্তক নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। তবে এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন বিচারপতি রবীন্দ্র ভাট, বিচারপতি হিমা কোহলি ও বিচারপতি পিএস নরসিমহা। ফলে রায় ৩:২ অনুপাতে বিভক্ত হয়েছে। বিচারপতি রবীন্দ্র ভাট, বিচারপতি হিমা কোহলি ও বিচারপতি পিএস নরসিমহা প্রধান বিচারপতির মতামতের সরাসরি বিরোধিতা করেন। যার উত্তরে প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, " শুধুমাত্র বিষমকামী যুগলেরাই ভালো অভিভাবক হতে পারেন, এমন অনুমান আইন বা আদালত করতে পারে না। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, সমলিঙ্গের যুগলদের সন্তান দত্তক নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটি, যা সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিশ্বে ৩২ টি দেশেই বৈধ, কেন সমকামী মানুষদের বিবাহের বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদির সরকার?

Same Sex Marriage: নেদারল্যান্ডস ২০০০ সালে প্রথম দেশ হিসেবে সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেয়। এশিয়ায়, তাইওয়ান প্রথম দেশ যারা ২০১৯ সালে এই ধরনের বিয়েকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আজ থেকে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই সমকামী বিবাহের আইনি স্বীকৃতির জন্য লড়াই চালাচ্ছেন এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই মামলায় রায়দান ছিল মঙ্গলবার। গতবার আদালত নিয়ে হাসিমুখে ফিরতে পারলেও এদিনের রায়ের পর ম্লানমুখেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে এলজিবিটিকিউ-দের। আদালত বিবাহের স্বীকৃতি নিয়ে কোনও একক সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। তাই এ ব্যাপারটি কেন্দ্রীয় কমিটির হাতেই ছেড়েছে তারা। এর আগেও এই মামলায় বারবারই কেন্দ্রের হাতেই সিদ্ধান্ত ছাড়ার দিকে হেলে থেকেছে সুপ্রিম কোর্ট। এ বারেও তার ব্যতিক্রম হল না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটিকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ।

এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় জানান, সমলিঙ্গ সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য কেন্দ্রের একটি বিশেষ কমিটি গড়া প্রয়োজন। ওই সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষিত করার দায়িত্বটি পালন করবে ওই কমিটি। তবে এ কথাও বারবার মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি প্রধান বিচারপতি যে বিবাহ কোনও অনড়, অটল বিষয় নয়। তাতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, "ব্যাক্তিগত স্তরে যে কোনও কাজকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়। সামাজিক যে বিবাহ আজকে সমাজে স্বীকৃত, তা কিন্তু আইন না থাকলে সম্ভব হত না।" একই সঙ্গে সমকাম যে কোনও শহুরে বিষয় নয়, তা-ও বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

২০১৮-র সেই যুগান্তকারী কার্যত পাল্টে দিয়েছিল এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সামাজিক অবস্থান। যে সমাজ একদিন দুষ্কৃতির চোখে দেখে এসেছে সমকামী বা সমপ্রেমীদের, সেই দৃষ্টিভঙ্গির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে আজ। সমকামীতা যে কোনও অপরাধ নয়, আদালতের রায়ে সেই জায়গাটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। কার্যত সমপ্রেমী মানুষের কাছে সেটা ছিল স্বাধীনতার দিন। তার পর থেকে তথাকথিত সমাজের কাছে অনেকটাই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে ওই সম্প্রদায়ের মানুষ। আর তার পরেই স্বাভাবিক ভাবে সামনে এসেছিল সমপ্রেমী বিবাহ ও সন্তান দত্তকের দাবি। বিবাহ স্বীকৃত না হলে, বিমা থেকে শুরু করে হাসপাতালে অসুস্থতার সময় সঙ্গী হিসেবে বন্ডে সই করার সুবিধার মতো অজস্র সুবিধা থেকেই বঞ্চিত হবেন সমপ্রেমীরা। যা মঙ্গলবারের সুপ্রিম রায়ে এক প্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই দেশের নানা শহর থেকে প্রায়শই সমপ্রেমী বিবাহের খবর সামনে আসে। তবে সেই পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে অজস্র কাঁটা। বহু ক্ষেত্রেই আজও সমপ্রেমী মানুষদের একঘরে করে রাখা হয়, মেলে না অনেক সুযোগসুবিধা এবং অধিকারও। তবে কখনও না কখনও সেই অধিকারও যে আদায় করে নেবেনই সমপ্রেমীরা, সেই আশা তাঁরা ছাড়ছেন না মোটেই। আর সেই সঙ্গেই মিলবে সন্তানকে বড় করার অধিকারও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?