হাতছানি ডাক পাহাড়-সমুদ্রে ঘেরা আন্দামানের, পুজোয় পা রাখুন বাঙালির নিজস্ব স্বর্গে

"পুজোয় আজকাল কলকাতায় বড় ভিড় হয়। এত লোক, এত শব্দ ঠিক ভালো লাগে না, চলো কোথাও ঘুরে আসি এবার", আবিরবাবু তার স্ত্রী সাহানাকে বললেন। সাহানা শুনে বললেন, "যাওয়াই যায়, মেয়েটা কিন্তু বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এখানে মজা করতেই পছন্দ করে।" "এরম ব্যাপার না কি? ডাকো দেখি তাকে", বললেন আবির। ডাক পড়ল আদরের মেয়ের। "বাবা আমার এটা কলেজের থার্ড ইয়ার, আমি কোথাও যাব না কিন্তু পুজোয়", সরাসরি জবাব মেয়ে ঈশানীর। "বেশ। আচ্ছা, যদি আন্দামান যাওয়া হয়?"

 

এর পর আর বেশি বেগ পেতে হয়নি আবীরবাবুকে। মেয়ে সটান ইন্টারনেট খুলে বসে পড়েছে ট্যুর প্ল্যান করতে। পুজোর ভিড় নিয়ে সেও কিঞ্চিৎ বিরক্ত ছিল, তার ওপর ধবধবে সাদা বালির সৈকত, পাম গাছের সাড়ি, সমুদ্রের স্বচ্ছ জল, তার নীল রঙ, কোরাল প্রাচীর, এই এত কিছু দেখার লোভ আর সামলাতে পারলনা ঈশানী। কিন্তু কী বেরলো ঈশানীর গবেষণা থেকে? দেখে নেওয়া যাক।

 

প্রথমেই বলা দরকার, আন্দামান এবং নিকোবর তিনশোটি দ্বীপের এক দ্বীপপুঞ্জ। কিছু দ্বীপ মানুষের বসবাস এবং পর্যটনযোগ্য করে তোলা হয়েছে। বাকি সব দ্বীপ অক্ষত রাখা হয়েছে। যার মধ্যে একটি দ্বীপ হল সেন্টিনেল দ্বীপ, যেখানকার আদিবাসীদের বাইরের পৃথিবী থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা ভারত সরকার বহু বছর ধরে করে রেখেছেন।

 

আরও পড়ুন: আর দার্জিলিং-গ্যাংটক নয়, গরমের ছুটি কাটান কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে এই গ্রামে

 

সে যাই হোক, আন্দামান ভ্রমণের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা। আপনাকে আগে থেকে ঠিক করে নিতে হবে, আপনি নিল আইল্যান্ডে আর হ্যাভলক আইল্যান্ডে প্রকৃতির শোভা উপভোগ করতে করতে বিশ্রাম করতে চান? না ভাইপার বা ব্যারন আইল্যান্ডের মতো কম বিখ্যাত, নিরিবিলি জায়গাও ঘুরে দেখতে চান। না কি কোরাল রিফের দর্শন পেতে স্কুবা ডাইভিং? একটু পরিকল্পনা করে নিলে ভালো।

 

কীভাবে যাবেন?
বে অফ বেঙ্গলের ওপর, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বেশ দূরে প্রকৃতি যত্ন করে স্বর্গ গড়েছে। তাই সবথেকে সুবিধা হবে, যদি আপনি বিমানে যাত্রা করেন। অনেকটাই দ্রুত পৌঁছে যাবেন। তবে অ্যাডভেঞ্চারের শখ থাকলে, বা আপনি যদি সমুদ্রকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে চান, তাহলে জাহাজ যাত্রা আপনার জন্য আদর্শ।

 

কখন যাবেন?
আন্দামানে খুব গরম বা খুব ঠান্ডা পরে না। আপনি বছরের যে কোনও সময়ে যেতে পারেন। তবে যেহেতু একেবারে সমুদ্রের গর্ভে এটি অবস্থিত, তাই এই মরশুমি ঘূর্ণিঝড়ের সময় থেকে শুরু করে বর্ষার শেষ অবধি আন্দামান-নিকোবর যাওয়ার পরিকল্পনা না করাই ভালো। এই দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় হলো অক্টোবর থেকে মে।

Andaman trip in 5 days


 
প্রথম দিন
পাের্ট ব্লেয়ারে পৌঁছে বেশি সময় নষ্ট না করে দুপুরেই হারবার জুস যাত্রা। দুপুর ৩টে, তারপর আইল্যান্ড।

 

বিকেলে সেলুলার জেলের লাইট এবং সাউন্ডের শো। সন্ধ্যে ৬টা থেকে ৭টা হিন্দিতে, ৭টা থেকে ৮টা ইংরেজিতে।

 

দ্বিতীয় দিন
পোর্ট ব্লেয়ার শহর ভ্রমণ।

 

ঘোরার জায়গা: ১) চ্যাথম শ মিল, ২) ফরেস্ট মিউজিয়াম, ৩) হেডডা মিনি জু, ৪) সমুদ্রিকা মিউজিয়ম, ৫) এন্ড্রোপােলজি মিউজিয়ম, ৬) উদ্যােগ পরিশর, ৭) ফিসারিজ মিউজিয়ম, ৮) জুলজিক‍্যাল মিউজিয়ম, ৯) নিত্যু সাইন্স সেন্টার।

 

তৃতীয় দিন
সকাল থেকে সন্ধে পৰ্যন্ত যাত্রা।

 

১) গান্ধী মেরিন ন্যাশনাল পার্ক, ওয়ান্দুর, ২) জলি বয়-রেড স্কিন আইল্যান্ড নর্থ বে।

 

রাস্তায় পড়বে: সিপ্পিঘাট এগ্রিকালচারাল ফার্ম, রবার প্লানটেশন এবং বলিদান বেদি-হমফ্রিগঞ্জ।

 

চতুর্থ দিন
রােজ আইল্যান্ড (ব্রিটিশ এবং জাপানি টাইম ক্যাপিটাল)

নৌকার সময়: সকাল ৮:৩০, সকাল ১০:৩০ থেকে দুপুর পর্যন্ত।

দুপর: চিড়িয়া টাপু, ওয়াটার স্পাের্টস্ কমপ্লেক্স (মেরিনা পার্ক)।

 

পঞ্চম দিন
এয়ারপাের্টের দিকে যাত্রা, মেনল্যান্ড থেকে।

 

এছাড়া আপনারা যদি অন্যান্য বিশেষ আইল্যান্ডে যেতে চান তাহলে নিচে উল্লিখিত স্থানগুলি ঘুরতে পারেন। আইল্যান্ডে যাওয়ার জন্য বাস-বােট, হেলিকপ্টার সার্ভিস পাওয়া যায়।

 

সেলুলার জেল
১৮৫৭ অবধি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মানচিত্রে একটা বিন্দু মাত্র ছিল। তারপর ১৮৫৭-তে স্বাধীনতার জন্য প্রথম বিদ্রোহ হল, ব্রিটিশরা এই দ্বীপগুলিকে বিশেষ ভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করলেন।

 

আন্দামানের পাের্ট ব্লেয়ারে অবস্থিত সেলুলার জেল স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্রিটিশের ত্রাস হয়ে উঠতেন যে দেশপ্রেমিকরা, তাঁদের ঠিকানা ছিল এই জেল। হাজার হাজার দেশপ্রেমিক এখানে চূড়ান্ত অত্যাচারিত হয়েছেন, প্রবল একাকিত্বে, লাঞ্ছিত, জর্জরিত হয়ে প্রাণ ত্যাগ করেছেন। এইভাবেই আন্দামান তার কুখ্যাত কালাপানি উপাধি পায়।

 

আজ সেলুলার জেলে দেশের সেইসব বীর সন্তানদের উদযাপন করা হয়। তাদের বীরত্বের কাহিনিকে জীবন্ত করা হয় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো-র মাধ্যমে।

 

এই সঙ্গে এই আইল্যান্ডগুলির অভূতপূর্ব সৌন্দর্য উপভােগ করুন, এখানকার বনস্পতি, সমুদ্র, জীবজন্তু, আকর্ষক সামুদ্রিক ও জঙ্গলের জীবন, অতি মনােরম কোরাল রিফস, সমুদ্রসৈকত ম্যানগ্রোভ দিয়ে ঘেরা।

 

রােজ আইল্যান্ড
রােজ আইল্যান্ড, ব্রিটিশ এবং জাপানি সাম্রাজ্যের সময় পাের্ট ব্লেয়ারের রাজধানী ছিল, একটি ছােট আইল্যান্ড পাের্ট ব্লেয়ার জাহাজঘাঁটিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যেন দাঁড়িয়ে আছে।

 

এই আইল্যান্ডে বর্তমানে পুরনাে প্রাসাদ যেমন বলরুম চিফ কমিশনারেট হাউস, গভর্নমেন্ট হাউস, চার্চ, হাসপাতাল, বেকারি, প্রেস, এবং টুপ ব্যারাকগুলাে ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি নিয়ে ভগ্নাবশেষ হয়ে আছে। যখন ডা. জেমস প্যাটিনসন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাষ্পচালিত জাহাজ সেমিরামিসে ১০ মার্চ, ১৮৫৮ সালে পাের্ট ব্লেয়ারে এসেছিলেন, তখন থেকে ১৯৪২ পর্যন্ত এটা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল, তারপর এই দ্বীপ জাপানিদের অধীনে যায়, তারপর তারা ছেড়ে গেলে আবার পুরনাে শাসনে ফিরে আসে।

 

ভাইপার আইল্যান্ড
ছােট, নৈসর্গিক সুষমায় সুন্দর, এই আইল্যান্ডটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পীড়ার মূক দর্শক। যে বন্দিরা পেনাল সেটলমেন্ট অমান্য করত তাদের পায়ে বেড়ি দিয়ে, তাই নিয়ে তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হত । ননীগােপাল, নন্দলাল, পুলিন দাসের মত বন্দি সেলুলার জেলে ভুখ হরতাল করার পর এই শাস্তি পেয়েছিল।

এই আইল্যান্ডের নাম একটি ভাইপর নামের জাহাজ থেকে হয়েছে। যাতে করে এল. টি. আর্চিবল্ড ব্লেয়ার ১৭৯৪ সালে এখানে এসেছিলেন। জাহাজটি একটি দুর্ঘটনায় পড়ে এবং এই আইল্যান্ডের কাছে ভেঙে পড়ে। উঁচু পাহাড়ের ওপরে বধ্যভূমি তৈরি করা হয়েছিল, যেটা সব বন্দিরা দূর থেকেই দেখতে পেত‌। শের আলি পাঠান যিনি লর্ড মে-কে হত্যা করেছিলেন, তাঁকে এই আইল্যান্ডে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

 

করবিনস্ কেভ
একটি অত্যন্ত সুন্দর সমুদ্রসৈকত, যেখানে ভালোভাবে স্নান করা যায়। সৈকতের কাছেই হােটেল এবং হর্নবিল গেস্ট হাউস, যেখান থেকে সামনে সমুদ্রের পুরােটাই দেখা যায়।

 

মহাত্মা গান্ধী পার্ক
দিলথামন লেক পাের্ট ব্লেয়ারের মাঝখানে তৈরি এই পার্কে বাচ্চাদের পার্ক, মনােরঞ্জন পার্ক, ওয়াটার স্পাের্টস, নেচার ওয়াক, লেক, বাগান, রেস্তোরাঁ আছে।

 

আন্দামান ওয়াটার স্পাের্টস্ কমপ্লেক্স
এই সুন্দর কমপ্লেক্সে প্রায় সবরকমের জলের খেলা, যেমন প্যাডেল বােট, রােবট, গ্লাস বটম বােট, কয়া, ওয়াটর সাইক্লিং ইত্যাদি আছে । রােমাঞ্চভরা খেলার মধ্যে ওয়াটার স্কিইং, ওইন্ড মরফিং, স্পিড বােট, সেল বােটস্, জেমিনি বােট, ওয়াটার স্কুটারস্ ইত্যাদি আছে । সি ওয়াটার সুইমিং পুল, টয়লেট, চেঞ্জ রুম, চিলড্রেন ট্রাফিক পার্ক, নেচার ওয়াক, ফুড প্লাজা ইত্যাদি, এই রকমটা ইন্ডিয়াতে প্রথম। আপনারা জলের নিচে কোরাল রিফও দেখতে পাবেন।

 

ফিসরিস্ মিউজিয়ম
প্রায় ৩৫০ রকমের সামুদ্রিক প্রজাতি এখানে দেখা যাবে, এই মিউজিয়মটি সমুদ্রগর্ভের প্রকৃতির একটি ধারণা আপনাকে দেবে।

 

কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ এম্পােরিয়ম, উদ্যোগ পরিশর
মুক্তো এবং স্থানীয় কাঠ দিয়ে তৈরি নানা ধরনের জিনিস, বােট নিকোবর নৌকো, মাদুর, টেবিল ইত্যাদি এখানে পাওয়া যায়।

 

চিড়িয়াখানা
এই ছােট চিড়িয়াখানায় এই দ্বীপের পাখি আর প্রাণীদের বাস। বন্যপ্রাণ নিয়ে আগ্রহ থাকলে ঘুরে আসবেন।

 

সিপ্পিঘাট স্পাের্টস্ কমপ্লেক্স
এখানে বােটিং করা যায়। অ্যাথলিটদের পছন্দের জায়গা এই কমপ্লেক্স। সবথেকে সুন্দর বিষয় হলো, ব্যাকওয়াটারের মাঝে ম্যানগ্রুভের গাঢ় সবুজ রং দিয়ে এই জায়গাটি ঘেরা।

 

মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক, ওয়ান্দুর
এই ২৮১.৫ কিমি. বিস্তৃত মেরিন ন্যাশনাল পার্কে খােলা সমুদ্র, সুন্দর কোরল, ট্রপিকল রেন-ফেড ফরেস্ট, আকর্ষক ফ্লোরা এবং ফনা, ট্রিলস, সামুদ্রিক জীব আছে। পনেরোটি দ্বীপ নিয়ে এই পার্ক তৈরি হয়েছে।

 

জলি বয়
জলি বয় দিয়ে জলের তলার কোরাল ও সামুদ্রিক জীবনের শ্বাসরোধকারী দৃশ্য দেখা যায়। গ্লাস বটম নৌকোগুলাে দিয়ে কোরাল কলােনিকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়।

 

রেড স্কিন
জলি বয়ের মতন এই আইল্যান্ডেও জলের তলায় অপরূপ কোরাল ও সামুদ্রিক জীবন দেখা যায়।

 

চিক আইল্যান্ড
জলের তলায় কোরালের বাগান ও সমুদ্রসৈকতের হাতছানি, মাঝে মাঝে ডলফিনেরও দেখা পাওয়া যায়। সাঁতার, স্কুবা ডাইভিং, স্নরকেলিং এবং ক্যাম্পের জন্য উপযুক্ত আদর্শ জায়গা‌।

 

চিড়িয়া টাপু
সাধারণত এটাকে পাখিদের আইল্যান্ড বলা হয়। এটি দক্ষিণ আন্দামানের সবচেয়ে দক্ষিণ বিন্দুতে স্থিত, ছবির মতো সৈকত ম্যানগ্রোভে ঘেরা। ছােট পাহাড়ের ওপরে ফরেস্ট গেস্ট হাউস থেকে এই আইল্যান্ডে অদ্ভুত দৃশ্য, জলঢাকা কোরাল আর অপূর্ব সূৰ্যডােবা দেখা যায়।

 

ওয়ান্দুর বিচ
এটাকে এখন মেরিন ন্যাশনাল পার্ক করা হয়েছে, এটি সাঁতার ও পিকনিকের জন্য আদর্শ। একটি জেটি আছে, যেখান থেকে রেড স্কিন ও জলি বয়ের জন্য নৌকো পাওয়া যায়। জেটির কাছেই ফরেস্ট গেস্ট হাউস, যেখান থেকে সমুদ্রের সামনের দৃশ্য দেখা যায়।

 

মাউন্ট হ্যারিয়েট (ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে ভাল স্থান)
ব্রিটিশ আমলে চিফ কমিশনারের গরমের দিনের মুখ্যালয় ছিল এখানে। ১২০০ ফিট উঁচু মাউন্ট হ্যারিয়েট, ট্রেকিংয়ের পক্ষে আদর্শ, মাউন্ট হ্যারিয়েট মােটর লঞ্চ দ্বারা মেরিন জেটি থেকে যাওয়া যায়, একটি আদর্শ পিকনিক স্পট যেখান থেকে পাের্ট ব্লেয়রের সম্পূর্ণ দূরের দৃশ্য উপভােগ করা যায়। ট্রেকারদের জন্য একটি ফরেস্ট রেস্ট হাউসের ব্যাবস্থা আছে।

 

নিল আইল্যান্ড
পাের্ট ব্লেয়ারের পূর্বদিকে ৩২ কিমি. দূরে অবস্থিত, নিল আইল্যান্ডে গাঢ় সবুজ বনানী ও বালুকাময় সৈকত আছে। এটি মােটর বােট, ফেরি, সর্ভিস দ্বারা পাের্ট ব্লেয়ারের সঙ্গে ভালোভাবে যুক্ত। একটি ফরেস্ট হাউস টুরিস্টদের জন্য আছে, যা রাত্রেও পাওয়া যায়।

 

হ্যাভলক আইল্যান্ড
পাের্ট ব্লেয়ারের পূর্ব দিকে ৩৮ কিমি. দূরে একটি সৈকত। এটি একটি অতি মনােরম দ্বীপ, যেখানে বালুকাময় সুন্দর সৈকত আছে। যেখান থেকে আপনি কোরাল রিফ বা প্রাচীর উপভোগ করবেন।

 

ব্যারেন আইল্যান্ড, আগ্নেয়গিরি
পাের্ট ব্লেয়ার থেকে ১২০ কিমি. উত্তর-পূর্বে আন্দামান সমুদ্রে একটি ছােট প্রায় গােল আইল্যান্ড যার ক্ষেত্রফল ৪.১৫ কিমি.। মনে করা হয়, লেট টারশিয়ারি পিরিয়ডে এখানে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, প্রায় ২ মিলিয়ন বছর আগে এবং পরে বিভিন্ন ভূতাত্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে এই ভলক্যানাের 'কোন'-টা'-টা (মাথা) নিষ্ফলা আইল্যান্ডে পরিবর্তিত হয়ে যায়। এখন যে কোন-টা আছে সেটা ‘রােন অফ কড়ল’-এর কেন্দ্র ভাগ।

 

১৭৯৫ সালে প্রথম বার এখানে বিস্ফোরণ প্ৰত‍্যক্ষ করেন ক্যাপ্টেন ব্লেয়ার। বিস্ফোরণের ফলে লাভা, বিশাল পাথরের টুকরোতে এই জায়গা ভরে যায়।

 

যদিও এর নাম ব্যারেন আইল্যান্ড, কিন্তু এখানে সবুজ বনানীর সমারােহ যেখানেসেখানে। ১৩টি প্রজাতির পাখি, ১০টি প্রজাতির প্রজাপতি, ৯টি প্রজাতির সেন্টিপেড ও মাকড়সা পাওয়া যায়, যদিও এই আইল্যান্ডে পানীয় জলের কোনও স্রোত নেই।

 

নর্থ বে
এটি কোরাল ও মেরিন জীবনকে দেখার জন্য নৌকোয় দুই ঘণ্টার যাত্রা। আপনি লাইট হাউস এবং আইল্যান্ডের তীরের সৌন্দৰ্য এবং সমুদ্রকে কাছ থেকে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখতে পাবেন। নর্থ বে-র দিকে যেতে যেতে আপনি ডলফিনও দেখতে পাবেন।

 

এভিস আইল্যান্ড (মায়া বন্দর) নর্থ আন্দামান
মায়াবন্দর জেটির থেকে কুড়ি মিনিটের আকর্ষক নৌকো যাত্রা। আমরা পৌঁছই একটি আশ্চর্য আইল্যান্ডে যেটা সাদা বালু দিয়ে, হাজারের ওপরে নারকেল গাছ দিয়ে ও পারদর্শী স্বচ্ছ জল দিয়ে সমৃদ্ধ। কোরালের ছােট ছােট দল, রঙিন মাছ এবং একটি অভূতপূর্ব সূৰ্য ডােবার দৃশ্য, এই আইল্যান্ডটি এত ছােট যে, আপনি ৩০ মিনিট হাঁটলে আবার সেখানেই পৌঁছবেন, যেখান থেকে আরম্ভ করেছিলেন। এই আইল্যান্ডে একটি সমস্যা আছে, এভিসে একটিও স্যান্ড ফ্লাই নেই, যা আন্দামানের অন্যান্য সৈকতে পাওয়া যায়।

 

এই হল সংক্ষেপে আন্দামান ভ্রমণের পরিকল্পনা। খরচটা সম্পূর্ণভাবে যাঁরা যাবেন, তাঁরা কী ধরনের প্যাকেজ নেবেন, তার ওপর নির্ভর করবে। তাই খরচের বিষয় উল্লেখ করা হলো না। তবে আনুমানিক খরচ ৬০,০০০ থেকে ১ লক্ষ জনপ্রতি ধরে রাখা যায়।

 

 

 

More Articles

;