চোখের পলকে উড়ে যাচ্ছে সব সম্পদ? এই নিরাপদ রাস্তায় বিনিয়োগ করলে নিশ্চিন্ত থাকবেন

আপনি ক্রিপ্টোকয়েনে বিনিয়োগ করেন? দীর্ঘমেয়াদি? না প্রাত্যহিক লেনদেন? যে হারে ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম ওঠা নামা করে, তাতে হার্ট বা রক্তচাপ কোনওটাই বিনিয়োগকারীর স্থিতিশীল থাকার কথা নয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ চোখের পলকে উধাও হয়ে যেতে পারে। আবার উল্টোটাও হয়। এই এত ঝুঁকির কারণে অনেকেই এখনও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করতে সাহস পাননি।

 

কিন্তু কিছু কয়েন আছে, যেগুলো অতটাও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। মানে, আমি যদি বাজারকে কোনও খরস্রোতা নদীর সঙ্গে তুলনা করি, আর কয়েনগুলোকে যদি ধরি নৌকো, তাহলে সাধারণ ক্রিপ্টোকয়েনগুলো নদীতে এমনিই ভাসছে, এবং যে কয়েনগুলোর কথা আপনাকে বলতে চলেছি, তা কোনও এক খুঁটির সঙ্গে বাঁধা আছে। বিশাল স্রোতে সেও ভেসে যেতে পারে, কিন্তু সম্ভাবনা বাকিদের থেকে অনেকটাই কম।

 

ভূমিকা আর বড় করে লাভ নেই। কথা হচ্ছে স্টেবল কয়েন নিয়ে। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, স্টেবল কয়েন বস্তুটি কী?

 

আরও পড়ুন: প্রিয়জনকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে উপহার? বিটকয়েন নাকি অন্য কিছু দেবেন?

 

স্টেবল কয়েন হল এমন একটি কয়েন, যার বাজারমূল্য মার্কিন ডলার বা সোনার দামের অনুপাতে পরিবর্তন হয়, যে কারণে এটি সাধারণ ক্রিপ্টো বাজারের অনিশ্চয়তার থেকে দূরে থাকে। বিনিয়োগ হিসেবে অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ। শুরুতেই যে উদাহরণটা দিলাম। এই ঝুঁকিপূর্ণ বাজারে স্টেবল কয়েনকে ডলার বা সোনার শক্তপোক্ত খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়।

 

কিন্তু কিছুদিন আগেই, এই কম ঝুঁকির কয়েনও ধসে পড়েছে। টেরা ইউএসডি, যা চতুর্থ বৃহত্তম স্টেবল কয়েন, তার মুল্য পড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ডলারের মাত্র তিরিশ শতাংশে। যার জেরে মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের।

 

স্টেবল কয়েনের এই মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী বাজারমূল্য হল প্রায় ১৭০ বিলিয়ন ডলার। যদিও ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারমূল্যের তুলনায় তা অনেকটাই কম। বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারমূল্য এই মুহূর্তে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার।

 

কিন্তু স্টেবল কয়েনও আস্তে আস্তে বাজারের দখল নেওয়া শুরু করেছে। টেদার, যা বৃহত্তম স্টেবল কয়েন, তার বাজারমূল্য ৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০২০-র শুরুতে যার মূল্য ছিল মাত্র ৪.১ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে আছে ইউএসডি কয়েন, যার বাজারমূল্য ৪৯ বিলিয়ন ডলার।

 

এই স্টেবল কয়েনগুলো বাজারের দখল এত দ্রুত নিতে পারছে, তার কারণ এই কয়েনগুলো ব্যবহার করেই বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন করেন। এমনকী, দাম খুব দ্রুত যখন ওঠা-নামা করে, তখন তারা স্টেবল কয়েনেই তার অর্থ সঞ্চয় করে রাখেন। ২০১৮ সালের পর থেকেই এই কয়েনের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকী, আইনের ফাঁদ এড়িয়ে যেতেও বহুল পরিমাণে এর ব্যবহার হচ্ছে।

 

স্টেবল কয়েন মুলত দু'ধরনের হয়। এক ধরনের কথা আগেই উল্লেখ করেছি। তাদের পিছনে ডলার বা বন্ডের খুঁটির জোর থাকে। যেমন টেদার, বাইনান্স ইউএসডি, ইউএসডি কয়েন। এদের কাছে যথেষ্ট সম্পদ থাকে, যে কারণে এই কয়েনগুলোর মুল্য ডলারের সমানুপতিক হয়।

 

আর এক ধরনের কয়েন হল অ্যালগোরিদম-নির্ভর। যেমন, টেরা ইউএসডি। এর পিছনে কোনও সম্পদের জোর নেই। এর মূল্য নির্ধারণ হয় একটি জটিল পদ্ধতিতে, যেখানে টেরার সঙ্গে লুনা নামক একটি কয়েনের বিনিময় চলে, যার মাধ্যমে টেরা নিজের দাম ধরে রাখে। যেহেতু বিনিয়োগকারীরা লুনার ওপর আস্থা হারান, এবং বিক্রি করতে শুরু করেন, সেই কারণে টেরার মূল্যে ধস নামে।

 

টেরার মূল্যে ধস নামার পরেই অর্থনীতিবিদরা নড়েচড়ে বসেছেন। তাঁরা স্টেবল কয়েনকেও আর ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি নন।

 

সুতরাং, নিজ অর্থ বিনিয়োগ করবেন যথেষ্ট গবেষণা করেই। অহেতুক ভয় পাওয়ারও কারণ নেই, কিন্তু ঝুঁকি থাকলে সব দিক বিবেচনা করাই বাস্তবসম্মত।

More Articles

;