ট্রোল উপেক্ষা করে সোচ্চার প্রেম, ৪৬-এর সুস্মিতা সেন এখনও বেপরোয়া

ইতিমধ্যেই ‘মিস ইউনিভার্স’-এর বাবা সুবীর সেন, ভাই রাজীব সেন এবং প্রাক্তন প্রেমিক রহমান শল-এর কাছে বারংবার ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে তাঁদের এই বিষয়ে ঠিক কী মত।

গত পরশুর সন্ধেবেলা থেকে নেটপাড়া হোক কিংবা মিডিয়া মহল, সর্বত্র কার্যত দক্ষযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এই যজ্ঞের মূল উপাদান সুস্মিতা সেন আর ললিত মোদি। পরশুদিন সন্ধেবেলা প্রায় এক দশক আগে ‘ফেরার’ হওয়া ললিত জানান, তিনি আর বঙ্গতনয়া সুস্মিতা প্রেম করছেন, গাঁটছড়াও বাঁধবেন খুব তাড়াতাড়ি। আবেগবশত ‘বেটার হাফ’ কথাটিও লিখে ফেলেন তিনি, পরে অবশ্য তা শুধরে নেন। এরপর থেকেই মিডিয়া মহলের রাতের ঘুম প্রায় উড়ে গেছে বললেই হয়, সারাদিন ধরে মাটি খুঁড়ে বের করা হচ্ছে ললিত এবং সুস্মিতার জীবনের পুরনো খুঁটিনাটি সব তথ্য। সুস্মিতা সেনের সম্পর্কের তালিকায় কারা কারা ছিলেন, ললিতের সুস্মিতার প্রতি আগের থেকেই কোনও আগ্রহ ছিল কি না, ললিত মোদির চরিত্র ঠিক কতখানি ঝাঁ চকচকে– বাদ পড়ছে না কোনওকিছুই।

শ্রীলেখা মিত্রর বিতর্কিত পোস্ট

এ তো গেল মিডিয়ার কথা। এবার আসা যাক, সোশ্যাল মিডিয়া কী বলছে, সেই কথায়। ইন্টারনেট আমাদের অনলাইন শিক্ষা দিতে কতখানি সক্ষম হয়েছে, এর উত্তর কেউ জানে না কিন্তু ইন্টারনেটের সুবাদে মানুষ ‘ট্রোলিং’ নামক এক নতুন সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে খুব যত্ন করে, এবং সেই প্রবণতার গতি বলতে গেলে আলোর থেকেও খানিক বেশি। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি ঘটনার মতো, এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেও গত পরশু থেকে ট্রোল আর মিমের বন্যা বইছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিল্পীদের কুরুচিকর মন্তব্যও এক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই সক্রিয় থাকেন টলিউডের অন্যতম অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র, সমাজের নানা ছোটখাটো অন্যায় কিংবা কটূ মন্তব্য নিয়ে বেশ প্রতিবাদী ভাবমূর্তিই ফুটে উঠতে দেখা যায় তাঁর মধ্যে। সুস্মিতা এবং ললিতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি একটি মিম শেয়ার করেছেন, যার মূল বক্তব্য ছিল ‘যারা জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করেন নিজেদের সুন্দর দেখানোর উদ্দেশে, তাঁদের জন্যও ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হোক।' বোঝাই যাচ্ছে, ললিত মোদির স্থূল চেহারাকে ব্যাঙ্গ করেই এই পোস্টটি শেয়ার করেছেন তিনি, এই কুরুচিকর পোস্ট শেয়ার করায় তাঁকেও আবার পরে ট্রোল করেছেন অনেকজন। বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন তো আবার সরাসারি বলেই দিয়েছেন, টাকার জন্যই কি সুস্মিতা সেন এরকম অনাকর্ষণীয় একজন মানুষের প্রেমের ফাঁদে পা রাখলেন!

আরও পড়ুন: প্রেম না হয় করলেন, সুস্মিতা আদৌ ললিত মোদির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবেন?

শুধু মিম আর ট্রোলেই থেমে থাকেনি নেট এবং মিডিয়া মহল। ইতিমধ্যেই ‘মিস ইউনিভার্স’-এর বাবা সুবীর সেন, ভাই রাজীব সেন এবং প্রাক্তন প্রেমিক রহমান শল-এর কাছে বারংবার ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে তাঁদের এই বিষয়ে ঠিক কী মত। মিডিয়ার এই প্রশ্নের উত্তরে সুস্মিতার বাবা জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এই বিষয়ে তাঁর মেয়ে আপাতত কিছুই জানায়নি। ললিতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তিনি মিডিয়ার কাছেই প্রথম শুনছেন, তাই তিনি এই বিষয়ে কিছুই মন্তব্য করতে অপারগ। অন্যদিকে রহমান জানিয়েছেন, অভিনেত্রী যদি কিছু করে থাকেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই অনেক ভেবে-চিন্তেই করেছেন। রহমান আরও জানান, তিনি এই সম্পর্ক নিয়ে বেশ খুশি।

তবে সুস্মিতা সেন এবং ললিত মোদির সম্পর্ক নিয়ে শুধু নয়, এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোল কালচারের মুখে পড়তে হয়েছে অনেক নামজাদা ব্যক্তিবর্গকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিখ্যাত পাকিস্তানি অ্যাক্টিভিস্ট মালালার কথাই। মাত্র ২৩ বছর বয়সে অক্সফোর্ডে পড়াকালীন তিনি বিয়ে করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আসির মালিককে। বিয়ে করার ঘটনা নিয়েও সেদিন ট্রোলের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। যেই মেয়েটিকে স্ত্রী-শিক্ষা নিয়ে কথা বলার দোষে আজ থেকে বহু বছর আগে মাথায় গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছিল তালিবান গোষ্ঠী, তাঁকেও ‘ফেক ফেমিনিস্ট’ হিসেবে দাগিয়ে দিতে থাকে নেটিজেনরা। বলে রাখা ভালো, মালালার একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করার প্রসঙ্গ নিয়ে তসলিমার গলায় সেদিন বেশ আক্ষেপের সুর শোনা গিয়েছিল।

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Sushmita Sen (@sushmitasen47)

 

প্রথম দিন সম্পর্কের বিষয় নিয়ে একেবারেই মুখ খোলেননি বঙ্গললনা। তবে ১৫ জুলাই সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই মেয়ের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘I am in a happy place!!! NOT MARRIED…NO RINGS…unconditionally surrounded by love’। আসলে সুস্মিতা সেনকে নিয়ে মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে যে দৃঢ়, আত্মনির্ভর এবং স্বাধীনচেতা এক নারীবাদী আদর্শের অবয়ব গঠিত হয়ে আছে, সম্ভবত সেখান থেকেই ললিত মোদির মতো একজন 'দুর্নীতিগ্রস্ত' মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার বিষয়টা মেনে নিতে পারছেন না অভিনেত্রীর অনুগামীরা। তবে শেষ পর্যন্ত একটা কথা না বললেই নয়, হাজারও ট্রোলিং-এর মাঝেও সুস্মিতা সেন কিন্তু তাঁর দৃঢ়তায় একভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেন। সম্পর্কের বিষয় নিয়েও পোস্টে বেশ কড়াভাবে ভদ্র ভাষায় গোটা দেশকে বলে দিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সবার এত মাথা না ঘামালেও চলবে, এবং যাঁরা তাঁর সঙ্গে ললিত মোদির সম্পর্ক নিয়ে কুরুচিকর মিম কি‌ংবা ট্রোল করেছেন, তাদের উদ্দেশ‍্যে শেষে লিখেও গেলেন, ‘নান অফ ইওর বিজনেস’।

More Articles

;