প্রেম না হয় করলেন, সুস্মিতা আদৌ ললিত মোদির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবেন?

Sushmita Sen is dating Lalit Modi:কখনো তাঁর সিনেমা নিয়ে, কখনো বা দুই কন্যাসন্তান রেনি ও আলিশা’কে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে এবং সর্বপোরি বয়সে পনেরো বছরের ছোট রহমানের সঙ্গে সম্পর্কে থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নেটিজেনদের চর্চার বিষয়...

সৌন্দর্যের দুনিয়ায় ভারতের হাতেখড়ি হয়েছিল বহু বছর আগেই কিন্তু ১৯৯৪ সালে সুস্মিতা সেনের হাত ধরে ভারত যেন যুক্তাক্ষরের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় প্রথম স্থান পেল, কারণ সেই বছর প্রথমবারের জন্য অপার বিশ্ববাসীকে সাক্ষী রেখে সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস এবং বুদ্ধিমত্তার জোরে বাঙালি কন্যা ফিলিপিন থেকে ঘরে ফিরেছিল ‘মিস ইউনিভার্স’র খেতাব নিয়ে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত, ভারতবাসীর মনে সুস্মিতা সেন অব্যার্থ, অজেয় এবং আদর্শ এক ডিভা হিসাবে অবস্থান করছে। ২০০০ সালে লারা দত্ত কিম্বা ২০২১ সালে পাঞ্জাবের মেয়ে হারনাস সিন্ধু ভারতকে দুই-দুইবার মিস ইউনিভার্সের তাজ এনে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষের মনে সুস্মিতা সেনের স্থান কোথায় যেন একটু আলাদা, তাই তো খেতাব জেতার এতগুলো বছর পরেও তাঁর জীবনের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়গুলো মিডিয়ায় প্রতিবার ঝড় তুলেছে। তিনি কখনো তাঁর সিনেমা নিয়ে, কখনো বা দুই কন্যাসন্তান রেনি ও আলিশা’কে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে এবং সর্বপোরি বয়সে পনেরো বছরের ছোট রহমানের সঙ্গে সম্পর্কে থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নেটিজেনদের চর্চার বিষয় হয়ে থেকেছেন।

তবে এবারের ঘটনা সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেল। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যবসায়ী ললিত মোদি এবং সুস্মিতা সেনের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি সামনে আসার পর থেকেই মিডিয়া মহলে রীতিমতো শোরগোল পরে গেছে। ছবিগুলি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন স্বয়ং ললিত মোদিই এবং সেইসঙ্গে প্রথমে তিনি সুস্মিতা সেনকে নিজের ‘বেটার হাফ’ বলে চিহ্নিত করলেও পরবর্তীতে আবার একটি পোস্ট করে তিনি জানান, আপাতত তাঁরা দু'জন-দু'জনকে ডেট করছেন, তবে খুব শীঘ্রই এই সম্পর্ক পরিণতি লাভ করতে চলেছে। গত বছরেই সুস্মিতা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের কথা জানিয়ে লেখেন, বন্ধুত্ব দিয়ে যে সম্পর্কের শুরু হয়েছিল তা বরং শুধু বন্ধুত্ব হিসাবেই থাক। সম্পর্কে বিরাম চিহ্ন পরার পরেও রহমান এবং সুস্মিতাকে একসঙ্গে বহু জায়গায় দেখা গেছিল এবং সেই কারণেই অনুগামীরাও আশা করেছিলেন আবার হয়তো একবার সম্পর্কে জোয়ার আসলেও আসতে পারে তবে গতকালের ললিত মোদীর পোস্টের পর একথা কার্যত স্পষ্ট যে, রহমানের অধ্যায় বহুদিন আগেই মন থেকে চুকিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

সুস্মিতা সেন যে কেবলমাত্র সৌন্দর্যের গুণে মানুষের মনে একচ্ছত্র অধিকারের স্থান দখল করেছেন, তা বললে হয়তো খানিক ভুলই বলা হবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সমস্ত বেড়াজাল ভেদ করে চলতে প্রথম থেকেই দেখা গেছে ভারতের প্রথম মিস ইউনিভার্সকে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে মিস ইউনিভার্স-এর শিরোনাম লাভ করেছিলেন তিনি, সামনে তখন একাধিক সুবর্ণ
সুযোগ অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষ হলে হয়তো এই সুযোগগুলোকে এক নিমেষে লুফে নিয়ে জীবনে অনেক বড় কিছু করার চেষ্টা করতো কিন্তু এই অভিনেত্রী সেইসব সোনালী স্বপ্নের হাতছানিকে দূরে রেখে ২২ বছর বয়স থেকেই ভেবেছিলেন ‘সিঙ্গেল মাদার’ হওয়ার। একটি ইন্টারভিউতে তিনি বলেন, ২৪ বছর বয়সে প্রথম সন্তান রেনিকে দত্তক নেওয়ার কারণে তাঁকে পৌছাতে হয়েছিল কোর্ট অবধি। দ্বিতীয় সন্তানের বেলায় সেই লড়াই হয়েছিল আরো কঠিন কারণ সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী পরপর দুজন কন্যাসন্তানকে দত্তক নেওয়া যায় না।

শুধু ব্যাক্তিগত জীবনেই নয়, পেশাগত জীবনেও তাঁকে দেখা গেছে অন্য নায়িকাদের তুলনায় একটু অন্যধারার ছবিকেই বেছে নিতে। বলিউডে যেখানে বেশিরভাগ অভিনেত্রী রোম্যান্টিক ফিল্ম দিয়ে নিজেদের যাত্রা শুরু করতেই অধিক পছন্দ করেন, সুস্মিতা সেন সেখানে তাঁর ডেবিউ হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন ‘দাস্তাক’ নামের একটি থ্রিলার মুভিকে। এমনকি রেনি এবং
আলিশকে দত্তক নেওয়ার পরে, লোকের কটুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জেদের সঙ্গে ঘর-বাহির দুই সামলেছেন দক্ষ হাতে।

সম্ভবত সুস্মিতা এবং ললিতের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পিছনে এই জেদের খানিক অবদান রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড জেদী এবং একগুঁয়ে স্বভাবের ললিত মোদিকে নিয়ে তাঁর বাবা শেষ দিন অবধি আফশোস করে গেছেন। ললিতের বাবার একপ্রকার ভয় পেতেন যে, এই জেদই একদিন তাঁর জীবনে সর্বনাশ না ডেকে আনে। বন্ধুদের কথায় ছোটবেলা থেকেই ললিত ছিল ভালো ম্যানেজার। সেই গুণেই দ্বারাই হয়তো তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কোষাগার প্রায় ৭ গুণ বাড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন, কিংবা বিশ্ব ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে আইপিএল-এর মতজনপ্রিয় লিগের জন্ম দিতে পেরেছিলেন, অথবা ২০১৯ সালে লোকসভা ইলেকশনের কারণে রাতারাতি আইপিএল-কে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। এতকিছুর পর অবশেষে ২০১৩ সালে পাহাড় সমান আর্থিক দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের অভিযোগে তাঁকে চিরকালের জন্য বহিষ্কার করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এরপরেই দেশ ছাড়েন তিনি, ফেরার হয়ে যান লন্ডনের কোনো এক স্থানে। প্রায় এক দশক পরে সুস্মিতা সেনকে কেন্দ্র করে তিনি আবার খবরের শিরোনামে।

সুস্মিতা এবং ললিতের সম্পর্ক ঠিক কতদিন ধরে দানা বেঁধেছে, তা বলা মুশকিল। তবে যোগাযোগ যে তাদের বহুদিনের, তা সাস্ত্রীক ললিতের সঙ্গে সুস্মিতার ছবি অথবা ললিতের ট্যুইটারের খুচরো কিছু ট্যুইট দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়। ললিত মোদী কিম্বা রহমান শোলের আগেও ‘মিস ইউনিভার্স’-এর প্রেম জীবনে ভিড় করে আসতে দেখা গেছে একাধিক তারকা এবং ব্যাবসায়িদের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রনদীপ হুডা, অনীল আম্বানি, বান্টি সচদেব, সাবির ভাটিয়া, ওয়াসিম আক্রম অথবা বিক্রম ভট্টের মত বড়ো বড়ো নাম। এখন দেখার এইবার সুস্মিতার সঙ্গে ললিতের সম্পর্ক আদৌ পরিণতি পায় কি না এবং বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার পর নারীবাদী ভাবমূর্তি ঠিক কতখানি অক্ষুণ্ণ থাকে অভিনেত্রীর !

More Articles

;