চোখের নিচের অংশ ফুলছে? কোলেস্টেরল না তো! রান্নাঘরের এই পাঁচ মশলাতেই জব্দ হতে পারে রোগ
High cholesterol reduce tips : চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নির্দিষ্ট ওষুধ তো রয়েছেই তবে আপনি কি জানেন আপনার হাতের কাছেই রয়েছে রোগ মুক্তির উপায়? রান্নাঘরের পাঁচটি এমন মশলা কোলেস্টেরলকে করতে পারে জব্দ।

বয়স সবে চল্লিশ ছুঁইছুঁই, হাজারটা রোগের বাহানা ডেকে আনে শরীর। আজকের আধুনিক সময়ে কোলেস্টেরল শব্দটার সঙ্গে অবশ্য সকলেই কম বেশি পরিচিত। ব্যবহারিক জীবনের অভ্যাসই আমাদের স্বাস্থ্যের বদল করতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। যদিও শরীরে ভালো এবং খারাপ দুই শ্রেণীর কোলেস্টেরল থাকে। তবে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ব্যাড কোলেস্টেরল। HDL cholesterol শরীরে অপকার করে না ঠিকই তবে, LDL Cholesterol- শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। কারণ এই কোলেস্টেরল শরীরে জমলে হতে পারে বিভিন্ন সমস্যা। হার্ট অ্যার্টাক, স্ট্রোকের সমস্যা বেড়ে যায়, এমনকী মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে ব্যাড কোলেস্টেরল। এর থেকে বাঁচতে চিকিৎসকেরা অস্বাস্থ্যকর চর্বি, বেশি ক্যালোরি যুক্ত খাবার রোজকার ডায়েট থেকে বাদ দিতে পরামর্শ দেন। কোলেস্টেরল হল হলুদ রঙের চটচটে মোম জাতীয় একরকম পদার্থ। আর শরীরে এই খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১৩০ বা তার বেশি থাকলে তখনই বাড়ে ঝুঁকি। আজকাল উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় অনেকেই ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নির্দিষ্ট ওষুধ তো রয়েছেই তবে আপনি কি জানেন আপনার হাতের কাছেই রয়েছে রোগ মুক্তির উপায়? রান্নাঘরের পাঁচটি এমন মশলা কোলেস্টেরলকে করতে পারে জব্দ। জানুন কী কী -
১। হলুদ - রান্নাঘরের অতি পরিচিত মশলা এটি। কমবেশি সব ডাল এবং তরিতরকারির রং ফেরাতে হলুদের জুড়ি মেলা ভার। রান্নায় ব্যবহৃত এই হলুদের মধ্যে থাকে কারকিউমিন। শুধু তাই নয়, হলুদের গুঁড়ো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ লাগে হলুদ। তাই হঠাৎ করে শরীরের কোনও অংশে ছোটখাটো কেটে গেলে চটজলদি রক্ত বন্ধ করতে এক চিমটে হলুদ চিপে ধরার কথা বলা হয়। যেহেতু হলুদে কারকিউমিন থাকে তাই এটি দেহে ব্যাড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসকেরাও পরামর্শ দেন রোজ সকালে খানিকটা কাঁচা হলুদ খাওয়ার।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ত্রি-মাত্রিক মুদ্রণের মাধ্যমে ২০২১ সালেই ইজ়রায়েল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকরা বানিয়েছিলেন রক্ত-জালিকা। এবং সেই রক্ত-জালিকা কেবল বানাননি তাঁরা, তার মধ্য দিয়ে রক্ত-প্রবাহ যে হচ্ছে, তা-ও হাতে-নাতে দেখিয়েছিলেন।
২। গোল মরিচ - যে কোনও খাবারে অল্প গোলমরিচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলে স্বাদে দারুণ বদল হয়। তরিতরকারি অথবা কাঁচা স্যালাডে অনেকেই পছন্দ করেন গোলমরিচের স্বাদ। লঙ্কার মতো না হলেও হালকা একটা ঝাঁঝ এবং ঝাল অনুভূত হয় এতেও। গোলমরিচে থাকে পাইপেরিন। যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শুধু তাই নয়, এতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণও রয়েছে। এগুলি দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এমনকী ফ্যাটি কোষগুলিকে ভাঙতেও সাহায্য করে গোলমরিচ। ফলে ফ্যাটি কোষগুলোর প্রভাবে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে না।
৩। দারচিনি - গরম মশলার মধ্যে অন্যতম প্রধান হল দারচিনি। দারচিনির চা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। শুধু কোলেস্টেরল নয়, এর দ্বারা হৃদরোগের ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দারুণ উৎস এই মশলাটি। এতে রয়েছে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণও। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে দারচিনি। তাই চড়া ব্লাড সুগারে আক্রান্ত রোগীদের জন্যও দারুণ উপকারী এই মশলা। তবে শুধু যে রক্তে শর্করা কমাতেই এর গুরুত্ব রয়েছে তাই নয়, সেই সঙ্গে রক্তে ব্যাড কোলেস্টেরল কমাতেও কার্যকর দারচিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি গোলমরিচের গুণাগুণের কারণেই এর বিপুল চাহিদা পৃথিবীজুড়ে।
৪। মেথি - শুক্ত অথবা ডাল রান্নায় ফোড়োন হিসেবে ব্যবহার করা হয় মেথি। এই মশলাটির বিবিধ উপকারিতা রয়েছে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতেও সহায়তা করে মেথি। মেথির মধ্যে এমন কিছু যৌগ রয়েছে যা অন্ত্র এবং লিভারে কোলেস্টেরল শোষণকে ধীর করে। ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা থাকে নিয়ন্ত্রণে।
৫। জোয়ান - পরোটা অথবা কোনও ভাজা জাতীয় খাবারে জোয়ান ব্যবহার করা হয়। জোয়ানের দানা দাঁতে পড়লে হালকা একটা ঝাঁঝ তৈরি হয়, তাতেই রান্না স্বাদ বদল হয়। বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে জোয়ানের ব্যবহার করা হয়। পেটের সমস্যা এবং হজমের সমস্যা এড়াতে বাঙালি বাড়িতে রাখা থাকে জোয়ানের আরক। শুধু তাই নয়, নুন লেবু দিয়ে তৈরি জোয়ান মুখসুদ্ধি হিসেবেও দারুণ জনপ্রিয়। জোয়ানে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ডায়েটারি ফাইবার পাওয়া যায় যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও জোয়ানে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ। যা শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। তাই শরীর আইঢাই করছে বুঝলে অনেকেই জোয়ানের কৌটো হাতড়ান।
















