“নিজেকে ভালোবাসো তুমি এবার...”, পরীমনিকে কেন এ কথা বললেন তসলিমা?

Pori Moni: পরীমনির জীবন অনেকটা আমার মতো, বললেন তসলিমা নাসরিন

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
“নিজেকে ভালোবাসো তুমি এবার...”, পরীমনিকে কেন এ কথা বললেন তসলিমা?

একদিকে সাম্প্রতিক ভাইরাল নায়িকা পরীমনি, অন্যদিকে বহুল পরিচিত মুখ তসলিমা নাসরিন। দুজনেই বিতর্কিত। কর্মজীবনে নানা কিছু করলেও বারবার শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের জেরেই। গতকাল মধ্যরাত্রে সামনে এসেছে বাংলাদেশী নায়িকা পরীমণির বিতর্কিত একটি পোস্ট।

‘হ্যাপি থার্টিফার্স্ট এভরিওয়ান! আমি আজ রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম এবং নিজেকেও মুক্ত করলাম একটা অসুস্থ সম্পর্ক থেকে। জীবনে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার থেকে জরুরি আর কিছুই নেই।’ - এটাই ছিল বিতর্কিত পোস্ট। যার জেরে পরীমনির পঞ্চমবার বিবাহ বিচ্ছেদের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। তারপর থেকেই উত্তাল নেট মাধ্যম। কেউ পরীমনিকে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখার কথা বলেছেন, কেউ আবার বাঁকা মন্তব্য করে মুখ ঘুরিয়েছেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির বদল ঘটেনি। বছর শুরুর উৎসবের আমেজেও আলোচনার কেন্দ্রে সেই বিতর্কিত পরীমনি।

এসবের মধ্যেই আলোচনার তোপ আরও বাড়িয়ে দিলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পরীমনির উদ্দেশ্যে তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ সকালে একটি পোস্ট করেন। সেখানেই পরীমনির জীবনকে নিজের জীবনের সঙ্গে সরাসরি তুলনা টানেন লেখিকা। সেই পোস্টে তসলিমা লেখেন, “পরীমনির জীবনটা অনেকটা আমার জীবনের মতো। মানুষকে ভালোবাসে, বিশ্বাস করে, আঘাত পায়, কাঁদে, সরে আসে, আবার বিশ্বাস করে, আবার আঘাত পায়, আবার কাঁদে, আবার সরে আসে, আবার বিশ্বাস করে --। এ যেন একটা চক্রের মতো। সৎ, সরল এবং সংবেদনশীল মানুষই এই চক্রের মধ্যে পড়ে যায়।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চার মাসের ছোট্ট ছেলে কোলে বাড়ি ছাড়লেন অভিনেত্রী, যে কারণে বারবার বিচ্ছেদের শিকার পরীমনি

Pori Moni : ভাঙছে রাজ পরীমনির সংসার, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে বিতর্কিত ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী

পরীমনিকে নিয়ে তসলিমা নাসরিনের পোস্ট

আর এখানেই স্পষ্ট হয়ে যায় একটা সামাজিক ছবি। সমাজের মেয়েদের অবস্থান নিয়ে শুরু হয়ে যায় বাড়তি টানাপোড়েন। সেই ১৮ বছর বয়স থেকে বারবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন পরীমনি। প্রথমবার বাড়ি থেকে দেখাশোনা করে গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেন তাঁর। যৌতুক সংক্রান্ত কারণে বিয়ের মাত্র ২ বছরের মাথায় বিচ্ছেদের পথে এগয় সম্পর্ক। তারপর একে একে ফুটবলার ফেরদৌস কবীর সৌরভ, সাংবাদিক তামিম হাসান, সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান রনি হয়ে অতঃপর বিয়ে করেন অভিনেতা শরিফুল রাজকে। কিন্তু এর আগের কোনও সম্পর্কই বেশিদিন টেঁকেনি। এমনকী রাজের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে এসেছিল একমাত্র সন্তান রাজ্য, কিন্তু তাতেও বদল হল না পরিস্থিতির। আগের চারবারের মতো সেই একই পথে পরীমনি।

আর এখানেই মিলে যান তসলিমা। তাঁর জীবনেও একাধিক বিয়ে, এবং বিবাহ বিচ্ছেদের নজির রয়েছে। তসলিমা ১৯৮২ সালে কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর প্রেমে পড়েন এবং তাঁকে বিয়ে করার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। অথচ মাত্র চার বছরের মাথাতেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়, অবশেষে ১৯৮৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানকে বিয়ে করেন; সেই বিয়েও ভেঙে যায় ১৯৯১ সালে। আবারও বিয়ে করেন একই বছরে, সাপ্তাহিক বিচিন্তার সম্পাদক মিনার মাহমুদকে, কিন্তু সেই সম্পর্কও পরিণতি পায়নি। তাই পরীমনির জীবনের গ্রাফটা দেখে স্বাভাবিকভাবেই হুবহু নিজেকেই যেন দেখতে পান তসলিমা।

জীবনে বারবার বিশ্বাস করে ঠকে যাওয়া একটা মানুষ যে কী ভীষণ যন্ত্রণার শিকার হতে পারেন সেকথাই বলেন তিনি। কিন্তু পরীমনিকে তিনি আর পাঁচজন মেয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলতে নারাজ। পরীমনি ব্যতিক্রম। যে এই তথাকথিত সমাজের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করতে পারে। যে ভয় পে না মেয়ে নামক ট্যাবুতে। তসলিমা নিজের পোস্টে আরও বলেন, “পরীমনি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। ও যদি মাথা উঁচু করে, মেরুদণ্ড সোজা করে একা বাঁচতে না পারে, তবে আর পারবে কে? আমি পেরেছি। আরও অনেকেই পেরেছে। নিজেকে ভালোবাসলে পারা যায়।”

তসলিমা বহুবার বহু বিতর্কিত মন্তব্যে ঝর তুলেছেন। কখনও তা নিতে বাহবা দিয়েছে অনুরাগীরা, কখনও আবার ধুয়ে দিয়েছে ওই নেট মাধ্যমই। কিন্তু আজকের পরিসর সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ প্রশ্নটা সমাজে নারীদের অবস্থান নিয়ে। প্রশ্ন একটাই, বারবার বিয়ে ভেঙে যাওয়া মানেই কি সেই মেয়ের সম্পূর্ণ দোষ? নাকি বাঁচার জন্য বিয়েটাই একমাত্র উপায়? প্রশ্নের উত্তরও একপ্রকার দিয়েছেন তসলিমা। তিনি পরীমণিকে বলেছেন, নিজেকে ভালোবাসার কথাই।

অর্থাৎ সম্পর্ক কোনও নিয়ম হতে পারে না। বন্ধন কোনও শিকল হতে পারে না। দম বন্ধ লগল মুক্তি আবশ্যক। তাতে লজ্জার কিছুই নেই। পরীমনির জীবনের ঠিক ভুল নিয়ে বিচার করার আমরা কেউ নয়, সে দায় পাঠকেরই। তবে রসায়ণ যাই হোক না কেন, সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখাতে পাড়ার জন্য যে দমটা লাগে সেটা বোধ হয় নায়িকার ভালরকমই আছে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।