আচমকা ভয়াবহ যুদ্ধ সীমান্তে! কোন পথে এগোচ্ছে ভারত-চিন সংঘাত
India China conflict : অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চিন সংঘর্ষ! জখম দু’পক্ষই

সীমান্তে ফের সংঘাতে ভারত এবং চিন। গালওয়ানের পর এবার তাওয়াং। জানা যাচ্ছে, গত ৯ ডিসেম্বর অরুণাচল প্রদেশে তাওয়াং সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা LAC বরাবর ভারতীয় এবং চিনা সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওইদিন চীনা পিএলএ–র একটি অবৈধ নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। তাতেই দু’পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।আকস্মিক এই ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিল না কোনও পক্ষই। ফলস্বরূপ, দু’পক্ষেরই কয়েকজন করে সেনা জখম হয়েছে।
ভারত চীন সংঘর্ষের কথা উঠলেই মনে পড়ে যায় বছর দুই আগের গালওয়ান সংঘাতের কথা। সেবারের যুদ্ধের সঙ্গে অবশ্য আজকের ঘটনাকে এক সারিতে ফেলা যায় না। ভয়ানক রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় ২০ জন সেনা। গালওয়ানের মতো না হলেও এবারে দু’পক্ষেরই কয়েকজন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকা থেকে পিছিয়ে আসে। সংঘর্ষের পরেই দু’পক্ষের সেনাকেই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। জখম বেশ কয়েকজন ভারতীয় সেনাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় গুয়াহাটির হাসপাতালে। শুধু তাই নয়, এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য ওই এলাকায় মোতায়েন ভারতীয় সেনা কমান্ডার এবং চীনা পিএলএ কমান্ডারের মধ্যে বৈঠকও করা হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
China Zero Covid Policy Protest: সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন মানুষ। জীবনের কথা না ভেবেই উইঘুর মুসলিমদের পাশে দাঁড়ায় জনতা, গণ অভ্যুত্থান হয় প্রবল মাত্রায়।
তবে সীমান্ত মানেই কি যুদ্ধ অনিবার্য? ভারত আর চিনের বারবার সংঘাত কি সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে আমাদের? বিভিন্ন সূত্র থেকে জন্য গিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখাটি নির্দিষ্ট করা নেই। ফলে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বেশ কিছু এলাকায় ভারত ও চিন দু’পক্ষই নিজেদের বলে দাবি জানিয়ে এসেছে বারবার। ২০০৬ সাল থেকেই চলছে এই প্রবণতা। কিন্তু তার আগেও কি যুদ্ধ দেখেনি এই দুই দেশ?
১৯৬২ সালের ২০ অক্টোবর। ভয়াবহ সেই দিন, হঠাৎ করেই চিনা আক্রমণ নেমে আসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর। চিনের আশি হাজার সৈন্যের বিপরীতে ভারতের তখন মাত্র দশ থেকে বিশ হাজার সৈন্য। তাতেই লড়াই চলেছিল জানকবুল। তৎকালীন ভারত কখনো ভেবেই উঠতে পারেনি যে চীন তাদের উপর আক্রমণ করবে। আর সেই ভাবনার সুযোগ নিয়েই আক্রমণ হানে চিন।
এরপর অনেক জল গড়িয়েছে, শান্তি রক্ষার জন্য বৈঠকও হয়েছে অনেক কিন্তু আখেরে লাভ হয়নি বিশেষ। ২০০৬ সাল থেকে ক্রমাগত চলছে সংঘাত। এর মধ্যেই ঘটে যায় ২০২০ সালের গালওয়ানের ঘটনাও। এই ঘটনার পরও একাধিকবার বৈঠকে বসেছেন দুদেশের সেনাকর্তারা। তবে সমস্যার যে পুরোপুরি সমাধান হয়নি তা তো বোঝাই ইচ্ছে আজকের ঘটনায়। শুক্রবার ৯ ডিসেম্বর উভয় দেশের সেনাদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার পর আবারও সোমবার অর্থাৎ ১২ ডিসেম্বর পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাহলে কি এ আগুন নেভায় নয়, বৈঠক করেও কি শান্তি শৃঙ্খলা ফেরানো সুনিশ্চিত করতে পারবে না দুপক্ষ? প্রশ্নগুলো ভাবাচ্ছে। আর এই ভাবনার মধ্যেই বারবার হারিয়ে যাচ্ছে তরুণ রক্ত।
















