ছোটদের মধ্যেও দিনকে দিন বাড়ছে 'নীল ছবি' দেখার নেশা! চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল গবেষণায়

Teenagers Watching Pornography Frequently : যত দিন যাচ্ছে, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ‘নীল ছবি’ অর্থাৎ পর্নোগ্রাফিক সিনেমা, ভিডিও দেখার প্রবণতা বাড়ছে।

inscript
৩ মিনিট
ছোটদের মধ্যেও দিনকে দিন বাড়ছে 'নীল ছবি' দেখার নেশা! চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল গবেষণায়

স্কুল হোক বা টিউশন, বাড়ি ফিরেই নিজের ঘরে ঢুকে পড়ছে খুদে সদস্যটি। সারাদিন মোবাইল, নয়তো কম্পিউটারের পর্দায় চোখ সেঁটে আছে। কী এমন দেখছে সে? এত নেশা কেন? মা-বাবা হিসেবে চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। কোনও ‘কু-সঙ্গে’ পড়ছে না তো? এমন ভয়ও পাচ্ছেন তাঁরা। অভিভাবকদের ভয়ের কি সত্যিই কারণ আছে? সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা অবশ্য জানান দিচ্ছে, ভয়ের কারণ লুকিয়ে আছে ঘরের ভেতরেই। কারণ, সেই পরিসংখ্যান বলছে, যত দিন যাচ্ছে, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ‘নীল ছবি’ অর্থাৎ পর্নোগ্রাফিক সিনেমা, ভিডিও দেখার প্রবণতা বাড়ছে। এখন সেই জায়গাটা বেশ মারাত্মক আকারই নিয়েছে।

ভারত তো বটেই, অনেক জায়গাতেই যৌনতাকে একটু বাঁকা চোখেই দেখা হয়। সেক্স, যৌনতা – এই শব্দগুলো শুনলেই একটা ‘খারাপ’ তকমা লাগিয়ে দেওয়ার ‘প্রথা’ অনেকদিনের। অথচ এই ব্যাপারটি অত্যন্ত স্বাভাবিক, নিত্যনৈমিত্তিক একটি ঘটনা। কিন্তু একেবারে শিশু বয়সে পর্নোগ্রাফি ছবি দেখা? ডাক্তারদের মতে, এটা একেবারে স্বাভিক ঘটনা নয়। কৈশোরে, পরবর্তীতে যৌবনেও যৌনতার প্রতি কৌতূহল, আকর্ষণ থাকবেই, সেটা জানা কথা। কিন্তু দিনের পর দিন পর্নোগ্রাফিক ছবি, ভিডিওর প্রতি রীতিমতো আসক্ত হয়ে পড়া, তাও একেবারে ছোট বয়সে, সেটা বিভিন্ন সংকটের চিহ্ন তো বটেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কামসূত্রেও যা নেই! পাড়াগাঁয়ের লুকোচুরি যেভাবে শেখায় শিরশিরে যৌনতার সহজপাঠ

Sexuality: বয়ঃসন্ধির শরীরে শিরশিরে ব্যথা নিয়ে এ ওকে স্পর্শ করে দেখছে, বুঝতে চাইছে আদিম রহস্যগুলি।

সেই ছবিটাই উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ডিগনিফাই’-এর একটি সমীক্ষায়। সম্প্রতি তারা ইংল্যান্ডের হার্টফোর্ডশায়ারের স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে এই বিশেষ সমীক্ষা চালিয়েছে। লক্ষ্য ছিল, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীরা। অন্তত ৪০০০ জনকে পর্নোগ্রাফি এবং এই ভিডিও, ছবিদেখার নেশা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। তার রিপোর্ট সামনে আসার পরই হকচকিয়ে গিয়েছেন সবাই। দেখা গিয়েছে, পাঁচজনের মধ্যে একজনের পর্ন ফিল্ম দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতি দশজনের মধ্যে একজনের তো রীতিমতো নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। শুধু তাই নয়, অন্তত ২২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন জায়গায়, বারবার পর্নোগ্রাফিক ছবি দেখেছে। এবং এখনও দেখে চলেছে।

এই সমীক্ষা চলাকালীনই উঠে আসে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ৪০০০ জনের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, প্রথম কবে ‘নীল ছবি’ দেখেছে তারা? এই প্রশ্নটির অনেকেই উত্তর দেয়নি। অনেকে পর্ন দেখার কথা অস্বীকারও করেছে। কিন্তু যা জবাব এসেছে, তা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। একজনের বক্তব্য, সে মাত্র তিন বছর বয়সে প্রথম পর্নোগ্রাফিক ছবি দেখে! সবসময় যে অনলাইন ওয়েবসাইট সার্চ করেই দেখা হয়, তা নয়। অনেকসময় বন্ধুবান্ধব, বয়সে বড়দের হাত ধরেও এই পর্নোগ্রাফির আসক্তি চলে আসে। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গড় হিসেবে মোটামুটি ১২ বছর বয়সেই এই ছোট শিশুরা পর্নোগ্রাফির কবলে পড়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হেঁটেছিলেন গান্ধী-সুভাষের বিপরীতে! যৌনতা নিয়ে কেন পাপবোধ ছিল না নেহরুর?

Nehru and Vasantasena: ভোগের এই শিক্ষা বিস্মৃত হয়েছে হিন্দুত্ববাদী বর্তমান ভারত। অবদমিত পিতৃতান্ত্রিক হাম্বারব ভালোবাসার কিচ্ছু্টি জানে না।

এখানেই উঠে এসেছে উদ্বেগের ছবিটা। যেহেতু অনেকেই খোলাখুলি এই ব্যাপারটি স্বীকার করতে চায় না, তাই সংখ্যাটি কয়েকগুণ বাড়ার আশঙ্কা দেখছেন সমাজতাত্ত্বিকরা। এমনকী, বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরীই বাড়িতে এই কথা বলে না। বাবা-মার কাছে লুকিয়ে যায় সবটা। আর এর পেছনে আমাদের দ্রুতগতিতে চলা জীবনই অনেকটা দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কীরকম? আজকের অর্থনৈতিক, সামাজিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বেশিরভাগ জায়গাতেই স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই চাকরি করেন। সকাল সকাল নিজের সন্তানকে একটু দেখেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান কাজে। ফেরেন সেই রাত করে। তারপর ক্লান্তি, অবসাদ – সব মিলিয়ে সেভাবে বাড়ির বাচ্চাকে সময়ই দেওয়া হয় না। অথচ সেই জিনিসটাই সবচেয়ে বেশি দরকার। শাসনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার, নজরদারিও প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে, বয়ঃসন্ধির সময় কিশোর-কিশোরীদের অবশ্যই খেয়ালে রাখা উচিত। তাদের কৌতূহল, শারীরিক, মানসিক পরিবর্তন নিয়ে খোলাখুলি, স্বচ্ছ আলোচনা জরুরি। কেবল বাড়ি নয়, সমাজ ও স্কুলেও এমনটা ওঁরা উচিত বলে মনে করছেন গবেষকরা। তা না হলে এমন পরিসংখ্যানের গ্রাফ আরও ওপরের দিকেই উঠবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।