গরম পড়তেই মাত্রা ছাড়াচ্ছে ইলেকট্রিক বিল? ছোট্ট যেসব বদলেই হতে পারে মুশকিল আসান
Reduce electric bill : নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক জিনিসের দাম উর্ধমুখী, তার সঙ্গে আবার এই চড়া হারে ইলেকট্রিক বিল, মাথায় হাত পড়েছে মধ্যবিত্তদের। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেনে নিন সহজ কিছু উপায়, যে ছোট্ট বদলেই হতে পারে মুশকিল আসান।

ফেব্রুয়ারি মাসেই বেজায় গরম, পারদ রীতিমতো আকাশ ছোঁয়া। রোজই খবরে বলছে এই বছর শতাব্দীর সবচেয়ে বেশি গরম পড়বে। চাঁদি ফাটা রোদ্দুরে ইতিমধ্যেই অবস্থা কাহিল। মাথার উপরে ফুল স্পিডে পাখা ঘুরছে। দুপুরের দিকে গরম থেকে বাঁচতে এসিও চলছে কোথাও কোথাও। এছাড়া ফ্রিজ, এয়ার কুলার এসবের ব্যবহার তো রয়েছেই। এর জেরে স্বাভাবিক ভেবেই হু হু করে বাড়ছে ইলেকট্রিক বিলের পরিমাণ। একেই নয়া বাজেটে নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক জিনিসের দাম উর্ধমুখী, তার সঙ্গে আবার এই চড়া হারে ইলেকট্রিক বিল, মাথায় হাত পড়েছে মধ্যবিত্তদের। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেনে নিন সহজ কিছু উপায়, যে ছোট্ট বদলেই হতে পারে মুশকিল আসান। বাড়তি ইলেকট্রিক বিলের পরিমাণে রাশ টানতে মেনে চলুন এই সব নিয়ম।
ধরা যাক আপনার ঘরে রয়েছে পুরনো আমলের টিউন লাইট, বদলে ফেলুন তাড়াতাড়ি। বদলে নিয়ে আসুন কম পাওয়ারের এল ই ডি টিউব। কিছু জায়গায় অতিরিক্ত টিউব বদলে কম পাওয়ারের সি এফ এল। এছাড়াও পুরাতন হলুদ আলোর বাল্ব জ্বালালে প্রচুর মিটার ওঠে তাই সেই জায়গায় এল ই ডি বাল্ব লাগাতে পারেন। এতে আলোও জোরালো হবে এবং সেই সঙ্গে মিটারও কম আসবে। ১.৫ থেকে ৭ ভোল্টের এল ই ডি বালব পাওয়া যায় বাজারে। দাম একটু বেশি পড়ে ঠিকই, কিন্তু একবার লাগালে সিএফএল-এর থেকেও কম কারেন্ট পোড়ে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
National Smell : ভারতে এরকম কিছু না থাকলেও, এই বিশ্বের এমন একটি দেশ রয়েছে যেখানে পশু, পাখি, ফুল, ফলের মতো রয়েছে জাতীয় গন্ধও।
আজকালকালকার মডার্ন ফ্ল্যাটে কনসোল ওয়্যারিং, বদলাতে হলে অনেক ঝঞ্জাট! দেওয়াল চটিয়ে ওয়্যারিং পালটাতে হয়! কিন্তু তাও, ১০ বছর বাদে বাদে নতুন ওয়্যারিং করা দরকার। পুরনো ওয়্যারিং-এ মিটার বেশি পোড়ে তাই নতুন করে ওয়্যারিং করলে তাতে নতুন ভালো তার ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও দুম করে পাওয়ার কাট হতে গেলে মনে করে বাড়ির সমস্ত ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স প্লাগ থেকে খুলে রাখুন। না হলে কারেন্ট এলে এক ঝটকায় বিল চড়চড় করে বাড়বে।
এছাড়াও কিছু কিছু ছোট ছোট বদল আনতে হবে ব্যবহারিক জীবনে। যেমন ধরা যাক, মোবাইল চার্জ দেওয়া হয়ে গিয়েছে বলে মোবাইল প্লাগ থেকে খুলে নিয়েছেন। কিন্তু সুইচ বন্ধ করেনি। এই ভুলেও বাড়ে বিদ্যুতের বিল। এসির ক্ষেত্রেও রিমোট দিয়ে বন্ধ করার পর সুইচ বন্ধ করি না অনেক সময়। এতেও অতিরিক্ত ইউনিট পোড়ে। তাই যে কোনও বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের পর সুইচ বন্ধ করা জরুরি। এছাড়াও নতুন কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্র কেনার সময় স্টার রেটিং দেখে কতটা বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে তা জেনে তবেই কেনা উচিত পুরনো যন্ত্রের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিল বাড়তে পারে এটা মাথায় রাখা দরকার। তাই দশ পনেরো বছরের পুরনো যন্ত্র বদলে আধুনিক যন্ত্র নিয়ে আসতে হয়তো সাময়িকভাবে কিছু পয়সার খরচ হবে ঠিকই, তবে বিদ্যুতের বিলের উপর চাপ অনেকটাই কমবে। এছাড়াও নিয়ম করে সব যন্ত্রেরই সার্ভিসিং করান সময় মতো। এসির তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রির নীচে নামাবেন না। তাতে বেশি ইউনিট খরচ হয়। অথবা ইনভার্টার এসি কিনতে পারলে সবচেয়ে ভাল, একান্তই তা না পারলে এনার্জি সেভিং মোড অন করে রাখুন। তাতে আপনার ইলেকট্রিক বিল অনেকটাই সাশ্রয় হবে।
ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ছোট বদল আনতে পারেন। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ঘন্টাখানেক ফ্রিজ বন্ধ রাখুন, এতে ফ্রিজের ভিতরের অংশ ঠান্ডায় থাকার ফলে খাবার দাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় নেই। কিন্তু ফ্রিজ বন্ধ রাখায় বিদ্যুতের বিলের ওপর চাপ কমে। ফ্রিজের নীচে বা পিছনে থাকা কন্ডেনসার কয়েলটি ভ্যাকিউম ক্লিন করুন। ময়লা জমে থাকলে, ইলেকট্রিক বিল প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। নিয়ম করে বাড়ির সমস্ত ইলেকট্রিক ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি সার্ভিসিং করান এতে একদিকে যেমন যন্ত্রের স্থায়িত্ব বাড়ে তেমনি পাশাপাশি বিদ্যুতের বিলের ওপর চাপও কমে।















