ফের জেন জেড আন্দোলনে সরকার পতন! কেন ফুঁসে উঠল মাদাগাস্কার?
Madagascar Government Overthrown: রাষ্ট্রপতি অ্যান্ড্রে রাজোয়েলিনা আবার দাবি করেছেন, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, তাই তিনি দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এবারে আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কায় বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়। তরুণ প্রজন্মের লাগাতার আন্দোলনের মুখে ভেঙে পড়ল মাদাগাস্কার সরকার। রাষ্ট্রপতি অ্যান্ড্রে রাজোয়েলিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হলেন। সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে: এখন তারাই দেশের দায়িত্ব নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাকে অভ্যুত্থান বলেই দেখা হচ্ছে, নেপথ্যে এবারেও জেন জেড।
গত কয়েক মাস ধরেই মাদাগাস্কারে জনজীবন বিপর্যস্ত। বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের তীব্র সংকট, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আর দুর্নীতিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ ছিল। বিশেষ করে জেন জেড সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ শুরু করে। ধীরে ধীরে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার তরুণ রাজধানী আন্তানানারিভো-র রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gen Z Protest: অদূর ভবিষ্যতে ভারতবর্ষেও যদি জেন-জি মুভমেন্ট হয় তাহলে বহু ভাষাভাষী, জাতপাত বা ধর্মের বিভেদ ঘুচিয়ে আজকের ছেলেমেয়েরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে তো?
প্রথমদিকে সরকার আন্দোলন দমাতে চায়। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দেশের একটি প্রভাবশালী সেনা ইউনিট CAPSAT— সরকারের প্রতি অনুগত না থেকে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ায়। এতে সরকারের ভিত নড়ে যায়। তারা ঘোষণা করে, তারা আর সরকারের পাশে নেই। বরং, জনগণের দাবি মেনে তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। এরপর প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন, সেনা ও প্রতিবাদীরাও রাজধানী দখল করে নেয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ফরাসি সামরিক বিমানে দেশ ত্যাগ করেন। এর পরই রাজধানীর সরকারি দফতর ও প্রেসিডেন্ট হাউস সেনা নিয়ন্ত্রণে আসে। সেনারা জানায়, তারা দেশের সংবিধান ও সংসদ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের এই আন্দোলনে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত। রাজধানী ও আশপাশের শহরগুলিতে দোকানপাট, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
GEN-Z's FINANCIAL INFLUENCE AND HABITS: আউটলুক বিজনেস-এর তথ্য বলছে, নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৫৬.২% ছিল ৩০ বছরের নিচে অর্থাৎ অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর অংশীদারিত্ব দ্রুত বাড়ছে।
রাষ্ট্রপতি অ্যান্ড্রে রাজোয়েলিনা আবার দাবি করেছেন, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, তাই তিনি দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি একটি ফেসবুক লাইভে বলেছেন, “আমি নিজের ও দেশের সুরক্ষার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।” অন্যদিকে, সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে দেশ চালাবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশই বলছেন, এভাবে সেনা ক্ষমতা নেওয়া গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন মাদাগাস্কারে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে। তবে এই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত দেশকে স্থিতিশীলতা দেবে, নাকি আরও অরাজকতা তৈরি করবে— তা এখনই বলা কঠিন।






