করোনার প্রভাব এবার কংগ্রেসের জোড়ো যাত্রায়, চিঠিতে কোন হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের
Jodo Yatra : করোনা বিধি না মানলে কংগ্রেসকে জোড়ো যাত্রা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

সম্প্রতি বিক্ষোভের মুখে পরে চিনের জিরো কোভিড বিধি প্রত্যাহার করেছে সরকার। তারপর থেকেই লাফিয়ে বাড়ছে করোনা। সংখ্যাটা এতটাই ভয়াবহ হতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দাবি করেছে যে, ২০২৩ সালে চিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ লক্ষের কাছাকাছি। এদিকে আবার শীতের পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতেও চোখ রাঙাচ্ছে করোনা। করোনার পরবর্তী ঢেউ আরও ভয়ংকর হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। এই অবস্থায় দেশ জুড়ে চলছে কংগ্রেসের জোডো যাত্রা। দুদিন আগেই এই যাত্রা ১০০ দিন পর করে ফেলেছে।
কংগ্রেসের ভেঙে পড়া ভিত থেকে ঘুরে দাঁড়াতে রাহুল গান্ধীর স্বপ্নের পদক্ষেপ এই জোড়ো যাত্রা। এই পদযাত্রার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করে তোলাই তাঁর লক্ষ্য। কিন্তু এরই মধ্যে দেশ জুড়ে করোনা আবহ মাথাচাড়া দেওয়ায় রাহুল গান্ধীকে সরাসরি চিঠি পাঠাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ প্রশ্ন তুলেছেন, এহেন একটি মিছিল কতটা করোনা বিধি মানা হচ্ছে সেই নিয়ে। মিছিলে অংশ্রহণকারী প্রত্যেকেই মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকের নিশ্চিতভাবে টিকাকরণ ইতিমধ্যে হয়েছে কিনা সেই বিষয়েও নজর রাখতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। অন্যথায় মিছিল বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bharat Jodo Yatra: তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত এই যাত্রা শুরু হল ৭ সেপ্টেম্বর থেকে। পাঁচ মাসের কর্মসূচিতে কংগ্রেসের শতাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে রাস্তাতেই রাত কাটাবেন রাহুল গান্ধি।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজ্যকে টেস্ট এবং সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্র। তারই মধ্যে কংগ্রেসের জোড়ো যাত্রার ১০০ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। ১০ দিনের একটি বিরতি কাটিয়ে আবারও যাত্রা করবে বলেই জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেই যাত্রা শুরু আগেই পরিস্থিতির বদল দেখে নিয়মাবলী জারি করল কেন্দ্র।
এর জেরে কি বন্ধ হয়ে যেতে পারে রাহুল গান্ধীর স্বপ্নের যাত্রা? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। খোদ কংগ্রেস নায়ক রাহুল গান্ধী পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এই মিছিলের সাফল্যে ভয় পেয়েছে কেন্দ্র, তাই যেন তেন প্রকারে মিছিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। এই বিষয়ে সুর চড়িয়েছেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা তথা বহরমপুুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীও। বিজেপির গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনের সময় খোদ নরেন্দ্র মোদী কতটা কোভিড বিধি পালন করেছিলেন সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে কি করোনা সতর্কতার নামে কংগ্রেসের কাজে বাসা দেওয়াই বিজেপি একমাত্র লক্ষ্য, এ নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
রাজনীতির ময়দান এরকমই। এখানে ঘটনা এবং পাল্টা ঘটনার টানাটানি থাকবেই। এক দল অন্য দলকে সুযোগ পেলেই আঁচড়ে, খিমচে দেওয়াই যেন দস্তুর। এখানে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কিই বা এসে যায়। তাই একদল পদযাত্রা করে বিপদ ডেকে আনল পরিবর্তে প্রশ্ন ওঠে অন্য দলের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে। কিন্তু এই দুইয়ের জের টানতে হয় সাধারণ মানুষকেই। সারাদেশে করোনা পরিস্থিতি যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে তাতে চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসক মহলে। এই পরিস্থিতিতে সঠিক টেস্ট, টিকাকরণ, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং সর্বোপরি সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কার্যত অসম্ভব।
















