অর্থই অনর্থ নয়, যত টাকা ততই সুখ! কীভাবে? প্রমাণ করল যে গবেষণা...
Money and Happiness: ঠিক কত উপার্জন করলে একজন মানুষ সুখী হতে পারবেন তার কোনও 'কাটঅফ পয়েন্ট' মেলেনি গবেষণাতে।

টাকা মাটি, মাটি টাকা! রামকৃষ্ণও গিয়েছেন, সে জমানাও গিয়েছে। এখন শেষটুকু সত্য, মাটি টাকা, স্রেফ মাটি কেন, মাটি, বালি, জমি, যা বিক্রয়যোগ্য তাই টাকা। সে যতই নিন্দুকেরা বলুক টাকা মানেই দুশ্চিন্তা, অর্থ মানেই অনর্থ, সক্কলের মুখে ছাই দিয়েছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। একটি বড় গবেষণা বলছে, যত টাকা ততই সুখ! আপনার কাছে যত বেশি অর্থ থাকবে, আপনি তত বেশি সুখী হবেন।
২০১৮ সালের একটি গবেষণা বলেছিল, অর্থ-সম্পত্তি আপনাকে একটি নির্দিষ্ট অবস্থা পর্যন্ত সুখী করে তোলে। কিন্তু একবার যদি আপনার বেতন ৬০-৭৫,০০০ ডলারের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিসেবে) কাছাকাছি পৌঁছে যায় তাহলে আপনার খুশির মাত্রা কমে যায়। উপার্জন বাড়লেও আর আপনার মানসিক সুস্থতার উন্নতি হয় না। প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণার লেখক ম্যাথিউ এ. কিলিংসওয়ার্থ সেই পুরনো গবেষণার ফলাফলগুলি এখনও একই আছে কিনা তা দেখার জন্য পদ্ধতির একটি কৌশলগত পরিবর্তন করেন এবং সেই পরীক্ষাটির পুনরাবৃত্তি ঘটান।
প্রাথমিক গবেষণায় ট্র্যাক ইওর হ্যাপিনেস অ্যাপ থেকে আয়ের তথ্য এবং সুখে থাকার রেটিং নেওয়া হয়েছিল। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের সুখের মাপের রেটিং করতে বলা হয়েছিল যে তারা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে কতটা খুশি হয়েছেন। এর জন্য সঠিকভাবে মনে রাখতে হবে যে, সেই মানুষটি অতীতের বিভিন্ন সুখের মুহূর্তে ঠিক কী অনুভব করেছিলেন। তারপরে সেই স্মৃতিগুলিকে সঠিকভাবে একত্রিত করতে হবে। এই পদ্ধতিতে মানুষের স্মৃতিশক্তির ত্রুটি এবং নিজে আদৌ সুখী কিনা সেই বিচারে গোলমাল হতেই পারে।
গবেষক ম্যাথিউ বলছেন, এই সম্ভাবনার পথও খোলা থেকে যায় যে, মনে রাখা সুখের অনুভূতির সঙ্গে যোগসূত্র থাকা সত্ত্বেও, আয়ের সঙ্গে মানুষের প্রকৃত সুখে থাকার কোনও যোগসূত্র নাও থাকতে পারে। কোন কোন সুখের মুহূর্ত আমার মনে আছে, কী কী মনে নেই সেই অনুভূতিগুলি পক্ষপাতদুষ্টও হতে পারে। প্রকৃত মানসিক সুস্থতা ও সুখের কিন্তু আয়ের সঙ্গে ভালোরকমের সম্পর্ক আছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mental Health issue due to Pollution: যত দিন যাচ্ছে, দূষণে জেরবার হচ্ছে নগর থেকে মফস্বল। তবে কেবল ফুসফুস নয়, মস্তিস্কেও প্রভাব ফেলছে বায়ুদূষণ...
তাই নতুন গবেষণার জন্য ম্যাথিউ এ কিলিংসওয়ার্থ এমন তথ্য খুঁজছিলেন যাতে স্মৃতি সংক্রান্ত পক্ষপাত রইবে না। একই অ্যাপ ব্যবহার করে, নতুন গবেষণায় সারা দিন ধরে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "আপনি এখন কেমন অনুভব করছেন?" উত্তরে তারা জানাতে পারেন, 'খুব খারাপ' বা 'খুব ভালো'। একেবারেই ভালো না নাকি প্রচণ্ড ভালো? এভাবে বিভিন্ন মাপে নিজেদের সুখকে বিচার করতে বলা হয়। "সামগ্রিকভাবে, আপনি আপনার জীবন নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?”- এই প্রশ্নটিও করা হয়েছিল তাদের।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৩৩,৩৯১ জন কর্মজীবী বয়সের প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে পাওয়া ১,৭২৫,৯৯৪ তথ্য সংগ্রহ করে গবেষক দেখতে পান যে, আয় এবং সুখের স্তরের মধ্যে সম্পর্কটি বেশ রৈখিক। সারা দিন তাঁদের কেমন কাটছে এবং জীবনে সন্তুষ্টির সঙ্গে আয়ের যোগ রয়েছে সরাসরি। কিলিংসওয়ার্থ আয় এবং জীবনের সন্তুষ্টির মধ্যে এই সম্পর্ক কেন দেখা যাচ্ছে তা সম্পর্কে বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যাও দেন।
আরও অড়ুন- চেক তো লেখেন হামেশাই, জানেন টাকার অঙ্ক লেখার পর ‘Only’ লেখা হয় কেন?
গবেষকের মতে, একটি সম্ভাবনা অনুযায়ী, মানুষ দুঃখ-কষ্ট কমাতে এবং আনন্দ বাড়ানোর জন্য অর্থ ব্যয় করে। একজনের আয়ের উপর নির্ভর করেই কিন্তু এই লক্ষ্যগুলি পূরণ করা সম্ভব। তিনি গবেষণায় লিখেছেন, যে ব্যক্তির আয় যত বেশি, সেই ব্যক্তির জীবনে নেতিবাচক অনুভূতি ততটাই কম। যার আয় বেশ কম তার জীবনে সমস্যা তত বেশি, সমস্যা বেশি মানেই নানা নেতিবাচকতা তাকে ঘিরে ধরে। নিম্ন আয় থেকে মাঝারি আয়ের দিকে যাওয়া মানুষরা ধীরে ধীরে নিজেদের কষ্টের কারণগুলিকে এড়িয়ে বা প্রশমিত করে যেতে পারে।
অর্থাৎ আপনার যত বেশি আয়, তত বেশিই আপনি নিজেকে মানসিক দ্বিধা, মানসিক অসুখী বোধ থেকে দূরে সরাতে পারবেন। তবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন না করা মানুষদের জন্য আরও একটি খারাপ খবর রয়েছে। ঠিক কত উপার্জন করলে একজন মানুষ সুখী হতে পারবেন তার কোনও 'কাটঅফ পয়েন্ট' মেলেনি গবেষণাতে।
"এমন কোনও আয়ের সীমাও মেলেনি যেখান অবধি না পৌঁছলে জীবনে সুখ আসবে না। তবে বেশি আয় হলে প্রতি মুহূর্তে ভালো বোধ করা এবং সামগ্রিক জীবন নিয়ে আরও সন্তুষ্ট হওয়ার মধ্যে নিবিড় যোগ রয়েছে," লেখা হয়েছে গবেষণায়। যদিও এমন কিছু ক্ষেত্রও থাকতে পারে যেখানে আর টাকার গরম কাজ করে না। প্রচুর অর্থ থাকলেও জীবনে সুখ আসে না। সুখের সেই অলীক সন্ধানে টাকার চোরাবালিতে হারিয়ে যায় মানুষ, দিশাহীন মানুষ।















