এই রেলপথগুলিতে পদে পদে বিস্ময়! ভ্রমণপিপাসুদের জন্য রইল খোঁজ

Arunima Mukherjee
৩ মিনিট
এই রেলপথগুলিতে পদে পদে বিস্ময়! ভ্রমণপিপাসুদের জন্য রইল খোঁজ

রেলযাত্রা কমবেশি সব ভ্রমণপিপাসু মানুষেরই পছন্দের। স্বল্প খরচে প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করার বিকল্প কোনও পন্থা আজ অবধি মানুষ রেল ছাড়া আর কোথাও পেয়েছে বলে তো মনে হয় না। তাই আজ আপনাদের সন্ধান দেব ভারতের এমন কিছু রেলযাত্রার, যা ভ্রমণেচ্ছুদের মনের তৃষ্ণা আরও খানিক বাড়িয়ে দেবে।

১৷ হিমালয় রানি (কলকা থেকে সিমলা)

সিমলা মানেই পাহাড়ের হাতছানি আর পাহাড় মানেই আমাদের মনে ভেসে আসে আঁকাবাঁকা সরু পথের মধ্য দিয়ে ধীর গতিতে ছুটে চলা আর কালো ধোঁয়া ছাড়া টয় ট্রেন। কলকা থেকে সিমলা যাওয়ার এই পথের দৈর্ঘ্য ৯৬ কিলোমিটার। একবার ভাবুন তো, পাইন, ওক, দেবদারু কিংবা লাল ফুলে ভর্তি রডোড্রেনড্রন গাছের সারির সৌর্ন্দয্যের মধ্য দিয়ে আপনি চলেছেন, মন্থর গতিতে।

কলকা থেকে সিমলার এই রেল পরিষেবা প্রথম চালু হয় ১৯০৩ সালে। যাত্রাপথে রয়েছে ১০২টি টানেল এবং ৮২টি সেতু– পাঁচ ঘণ্টার এই যাত্রা কতখানি সুন্দর হলে তা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে সক্ষম হয়, তা নিশ্চয়ই বলার অবকাশ রাখে না। ২০০৮ সালে আবার এই যাত্রাকে ইউনেসকো ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’-এর তকমাও দিয়েছে।২৷ দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং)

বাঙালি মানেই গ্রীষ্মের তাপদাহে প্রায় সেদ্ধ হতে হতে দার্জিলিং মেলের টিকিট হাতড়ানো। এখন ইন্টারনেট আসার সুবাদে হয়তো শীতাতপে বসেই টিকিট কাটার তোড়জোড়। তাই তো বাঙালির হলিডে ডেস্টিনেশনগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে দার্জিলিংয়ের কথা। আর আসবে না-ই বা কেন! মাত্র এক রাতের মধ্যেই যদি গরমের প্যাচপ্যাচানির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়, তবে সেই রেহাই কে না পেতে চায়! শিলিগুড়ি থেকে টয়ট্রেন ধরে রাংটং যাওয়ার পথে কখন যে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে করতে হঠাৎ করে আপনার শীত লাগতে শুরু করবে, তা হয়তো আপনি বুঝতেও পারবেন না। বহুদূর বিস্তৃত সবুজ চা বাগান আর গাঢ় নীল পাহাড় দেখতে দেখতে আপনি সমুদ্রতল থেকে তখন বেশটাই ওপরে। টুং, সোনাদা, ঘুম পেরিয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে যেতে যেতে, কপাল ভাল থাকলে আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে দার্জিলিং পৌঁছনোর আগেই আপনার সঙ্গে দেখা মিলতে পারে মাথায় বরফ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার। ১৯৯৯ সাল থেকেই এই যাত্রাপথ ইউনেসকো-র ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’-এর মুকুট পরে বসে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে এখনও যদি এই মনোমুগ্ধকর রেলযাত্রার অভিজ্ঞতা আপনি না করে থাকেন, তবে এইবারের গ্রীষ্মেই আস্বাদন করুন এই অভিজ্ঞতা!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিঘা-পুরী-দার্জিলিং নয়, বাঙালির মনে জায়গা পাকা করছে চটকপুর

Chatakpur Eco Village: দার্জিলিং থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে সিঞ্চল ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারির অন্তর্গত ছোট্ট গ্রাম চটকপুর। উচ্চতা দার্জিলিঙের চেয়েও বেশি, ৭৮৮৭ ফুট।

৩৷ কোঙ্কন রেলওয়ে (মুম্বই থেকে গোয়া)

মুম্বই এবং গোয়া– এই দু'টি একেবারেই বিপরীতমুখী শহর হলেও, একটি যোগসূত্রে তারা চিরকাল আবদ্ধ, এবং তা হল সমুদ্র। মুম্বই যেখানে রোজের কর্ম-ব্যস্ততাভরা জীবন অথবা গ্ল্যামারাস জগতে হাতছানির গল্প বলে, সেখানে গোয়া হল দেদার ছুটি কাটানো কিংবা সদ্য-বিবাহিত কপোত-কপোতিদের হনিমুন ডেসটিনেশন। মুম্বই থেকে গোয়া যাওয়ার এই রেলপথ বিশেষ দীর্ঘ না হলেও, সহ্যাদ্রি পাহাড় এবং আরব সাগর সেখানে মিশে একাকার হয়ে গেছে। একটু গভীরভাবে ভেবে দেখলে, চলার পথের এই বৈপরীত্য যেন শহরদু'টির কথাই মনে করায়। এই যাত্রাপথে আপনি অতিক্রম করে যাবেন ৯২টি টানেলসহ ২০০০টি সেতু। পাহাড় এবং সাগর ছাড়াও এই পথে আপনি সাক্ষী থাকবেন সারি সারি নারকেল গাছের ছায়ায় থাকা শস্য-শ্যামলা ধানখেতে মোড়া শীতল গ্রামগুলির।

৪৷ মরুভূমির রানি (যোধপুর থেকে জয়সলমির)

আপনি যদি বিলাসবহুল যাত্রার সাক্ষী থাকতে চান, তাহলে যোধপুর থেকে জয়সলমিরের এই রেলপথে ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা আপনার চিরদিন মনে থেকে যাবে। নীল শহর ছাড়িয়ে আপনি পাড়ি দেবেন সোনালি শহরের উদ্দেশ্যে, কখন যে আপনার চোখের সামনে প্রকৃতির দৃশ্যপট বদলে যাবে, বুঝতেই পারবেন না। কেবল উপভোগ করতে থাকবেন। আর ঠিক সেই সময় থর মরুভূমির উটেরা হয়তো আপনাকে স্বাগত জানলেও জানাতে পারে। এছাড়াও যাত্রাপথে আপনার নজর কাড়বে মরু অঞ্চলের বন্য পশুরা।

৫৷ নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে (মেতুপালয়াম থেকে উটি)

যদিও এই রেলপথটি ১৮৮৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসার খাতিরেই খোলা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তী সময়ে, ২০০৫ সালে এই রেল পরিষেবা ইউনেসকো দ্বারা ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’-এর আওতায় আসে। এছাড়াও এই রেল সফর উটির প্রধান আকর্ষণগুলির মধ্যে একটি।

৬৷ কাশ্মীর ভ্যালি রেলওয়ে ( জম্মু থেকে বারামুল্লা)

কাশ্মীরকে বলা হয় ভূস্বর্গ, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনাতীত। প্রায় সারা বছর বরফে ঢাকা এই অঞ্চলের রেলযাত্রা যে সবকিছুর থেকে আলাদা হবে, একথা বোঝাই যায়। তবে কেবলমাত্র যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খাতিরেই নয়, অন্য একটি কারণেও এই যাত্রার সাক্ষী হওয়া উচিত‌। এই রেল পরিষেবাটি ভারতীয় রেল ব্যবস্থার অন্যতম বিপজ্জনক একটি পরিষেবা ব্যবস্থা। যাত্রাপথে উঁচু উঁচু পাহাড়চূড়া অতিক্রম করার পাশাপাশি, এই সময় যাত্রীরা অতিক্রম করে যান কুখ্যাত সব ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলিকেও।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।