ধরপাকড়ের ভয় নেই, ৭৩ বছর ধরে বিনা টিকিটেই যাতায়াত করা যায় ভারতের এই ট্রেনে
Indian Railways : নিয়মের কড়াকড়ির মধ্যেই ভারতে চলাচল করে এমন একটি ট্রেন যে ট্রেনে চাপতে হলে যাত্রীদের কোনও টিকিট কাটতেই হয় না! কী নাম সেই ট্রেনের?

“ছুঁচ গলে না, ফাল গলে বেরিয়ে যায়!”, এই প্রবাদ যেন যথার্থই বাঙালির ব্যবহারিক জীবনে। অল্প খরচ বাঁচাতে গিয়ে বড় বড় খরচের বিপদ ডেকে আনার ঘটনা তাই নতুন কিছুই নয়। ‘ধুর এই তো একটা স্টেশন, আর টিকিট কাটবো না’, এমন অভ্যাসের চর্চা প্রায় সময়েই করেন অনেকে। ‘টিটি’ নামক রেল কর্মীদের ঘোল খাওয়ানোয় যেন এক অকৃত্রিম মজা খুঁজে পায় সকলে। তবে বিপদেও যে পড়তে হয় না এমন নয়। তখন পালে বাঘ পড়ার জোগাড়! অভিজ্ঞ টিটির নজির এড়িয়ে পালানোর জো নেই। সঙ্গে সঙ্গে গচ্চা ২৬০ টাকা! যদিও এই হিসেবটা কেবল লোকাল ট্রেনের জন্যই প্রযোজ্য। এক্সপ্রেস অথবা প্যাসেঞ্জার ট্রেনে টিকিট কেটে না চাপলে আরও বড় অঙ্কের টাকা গুণতে হয় যাত্রীদের। কিন্তু জানেন কি এই এত নিয়মের কড়াকড়ির মধ্যেই ভারতে চলাচল করে এমন একটি ট্রেন যে ট্রেনে চাপতে হলে যাত্রীদের কোনও টিকিট কাটতেই হয় না!
শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, আজ প্রায় ৭৩ বছর ধরে বিনা টিকিটেই ভ্রমণ পরিষেবা দিয়ে আসছে ভারতীয় রেলওয়ের নির্দিষ্ট এই ট্রেনটি। এই বিশেষ ট্রেনটির নাম ভাকর নাঙ্গাল ট্রেন। ভারতের মধ্যে পাঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশের মধ্যে চলে এই ট্রেন। ভাকরা ও নাঙ্গালের মধ্যে চলে বলেই এই রুটের ট্রেনটিকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছিল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Interesting facts about biscuit : কখনও কি লক্ষ্য করেছেন ঘরে ঘরে বহুল প্রচলিত বিস্কুটের গায়ে থাকে অগুনতি ছিদ্র। জানেন কেন এমন হয়?
রেলপথ, ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অন্যতম মাইলফলক। প্রথমে কয়লার ইঞ্জিন, পরে স্টিম ইঞ্জিন হয়ে আজকের আধুনিক ইলেকট্রিক ইঞ্জিনের যে যাত্রাপথ তাতে বহু ইতিহাস, বহু ওঠা পড়া লেগে রয়েছে। ভারতের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগের সূত্র বপন করে ট্রেনই। এমনকী দুই পৃথক দেশের মধ্যেও বর্তমানে চালানো হয় মৈত্রী ট্রেন। তবে এই সব ট্রেনের ক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা সিট পরিষেবার জন্য নির্ধারিত রয়েছে পৃথক পৃথক মূল্যের টিকিট। বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা কার্যত নিষিদ্ধ। অথচ আজকের এই প্রতিবেদনের মূল উপজীব্য যে ট্রেনটি তার পরিচিতি বিনামূল্যের ভ্রমণের জন্যই।
১৯৪৮ সালে প্রথম পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার মধ্যে এই রেল লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রথমে ভারতীয় স্টিম ইঞ্জিনেই চলত ট্রেন। পরবর্তীকালে ১৯৫৩ সালে তিনটি নতুন মার্কিন ইঞ্জিন এনে চালানো শুরু হয় ট্রেনটি। মোট ১৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ট্রেনটি। পরিষেবা মূলত পান স্কুল কলেজের পড়ুয়া এবং দিন মজুরেরা। সব মিলিয়ে মোট ৩০০টি সিট রয়েছে এতে।
২০১১ সালে ভাকরা-নাঙ্গাল ম্যানেজমেন্ট বোর্ড এই বিনামূল্যের ট্রেনটি চালায়৷ যদিও ওই বছরই ঠিক হয় যে তুলে দেওয়া হবে বিনামূল্যে পরিষেবা। কিন্তু পরে বদল হয় সিদ্ধান্তে। এখানে প্রশ্ন কেবল লাভের নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা এক গোষ্ঠীর অর্থনীতির প্রসঙ্গও। তাই সেই স্মৃতি এবং ঐতিহ্যকে মান্যতা দিয়ে আজও ভারতে চলে বিনামূল্যের এই বিশেষ ট্রেন।















