পুজোর ভিড় পছন্দ নয়? নির্জনতা পেতে রওনা দিন এই পাহাড়ি গ্রামগুলোতে, প্ল্যান করুন আজই
পাহাড়কে ও সবুজকে পেতে বেরিয়ে যাওয়া যেতেই পারে রোড ট্রিপ কিংবা পাহাড়ি কোনও অফবিট গ্রামে

'দূরে কোথায় দূরে দূরে...', পঞ্চকের এই গান যেন মাতিয়ে তোলে আমাদের সকলকে। এই সুরে নেচে ওঠে হৃদয়। মনে হয় উত্তরের জানলার ওপারে যে অন্য পৃথিবী রয়েছে, সেখানেই পাড়ি দেওয়ার কথা। দীর্ঘদিন প্রকৃতিকে কাছ থেকে না পেলে মন গুমরে কাঁদে! তাই পাহাড়কে ও সবুজকে পেতে বেরিয়ে যাওয়া যেতেই পারে রোড ট্রিপ কিংবা পাহাড়ি কোনও অফবিট গ্রামে।
পাহাড়ি গ্রামগুলো এমনিতেই ভীষণ সুন্দর হয়। প্রকৃতি যেন নিজের হাতে এই বিশাল ক্যানভাসে ছবি আঁকে, সাজিয়ে তোলে নিজের মনের মতো করে। প্রতিটা গ্রামের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা আকৃষ্ট করে শহুরে মানুষদের। শহরের ভিড়, কোলাহলকে পাশ কাটিয়ে এই 'ম্যাজিক্যাল ভিলেজ'-এ এসে ঘুরে যেতেই পারেন। এরকমই উত্তরাখণ্ডের কিছু গ্রামের নাম রইল, যেখানে এলে মুগ্ধ আপনি হবেনই।
কলসি
উত্তরাখণ্ডের অন্যতম অফবিট জায়গা কলসি। এই গ্রামের হদিশ এখনও অনেকের কাছেই অজানা। প্রকৃতি যেন তার সব সৌন্দর্য নিয়ে এখানে অপেক্ষা করছে পর্যটকদের জন্য। এখানে রাস্তার দু'ধারে রয়েছে শাল ও ওক গাছের সারি, যা মন ভরাবে আপনার। আপনি চাইলে এই রাস্তাতে সাইকেল চালাতেও পারেন। টনস নদীর ধারের এই ছোট্ট গ্রামটি খুব অল্প সময়েই জিতে নেবে আপনার মন।
মানা
সরস্বতী নদীর ধারেই এই মানা গ্রাম। এই গ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক মিথ, পৌরাণিক তাৎপর্য। কথিত আছে, পাণ্ডবরা স্বর্গে যাওয়ার সময় এই গ্রামকে অতিক্রম করেই স্বর্গে গিয়েছিলেন। এছাড়াও এখানেই রয়েছে বিখ্যাত ব্যাসগুহা। মহাভারতের রচয়িতা বেদব্যাসের জন্মস্থানও নাকি এখানেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পৌরাণিক মিথ মিলেমিশ গিয়ে মানা গ্রামকে দিয়েছে আলাদা মাহাত্ম্য, যার টানে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এখানে।

মানা, ভারতের শেষ গ্রাম
খাটি
কুমায়ুন অঞ্চলে রডোড্রেনডন ও ওক গাছে ঘেরা একটা ছোট্ট গ্রাম হলো খাটি। এখানেই রয়েছে পিন্ডারি হিমবাহ। বাগেশ্বর জেলার এই ছোট্ট, সুন্দর গ্রামটি এখনও সেইভাবে পর্যটকদের নজরে পড়েনি! উত্তরাখণ্ডের অন্যতম অফবিট গ্রাম হলো এটি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পুজোয় বেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যদি তীর্থভ্রমণে যেতে চান, তাহলে কোথায় যাবেন?

রহস্যময় কালাপ
কালাপ
এটা একটা পোস্টকার্ড পারফেক্ট গ্রাম। এই ম্যাজিক্যাল গ্রামে আসতে হলে আপনাকে গাড়ওয়াল অঞ্চলে ২২৮৬ মিটার উঁচুতে রয়ছে। যাঁরা রহস্য-রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য সেরা জায়গা হল কালাপ। এর রাস্তা যথেষ্টই থ্রিলিং। চাইলে আপনিও এসে উপভোগ করে দেখতে পারেন।
আর যদি ট্রেনে না গিয়ে যেতে চান সড়কপথে প্রকৃতির কাছে, তাহলে তারও উপায় রয়েছে হাতের কাছে।শুধুমাত্র উত্তরাখণ্ড নয়, বেড়ানোর ঝুলি রয়েছে ভর্তি আমাদের নিজের দেশেই। ভারতে এমন কিছু জায়গা আছে তাকে যদি স্বর্গও বলা হয়, তাহলেও বোধহয় কম বলা হবে! সেইরকমই ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে সোনার খনি হলো পশ্চিমঘাট! এখানে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে গেলে মন ভালো হবেই। ১৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সঙ্গেই রয়েছে ঘন বনাঞ্চল। জীববৈচিত্র্যের জন্য বিশ্বের আট নম্বর 'হট স্পট' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানকার ম্যাজিককে উপলব্ধি করতে চাইলে আপনাকে রোড ট্রিপে আসতেই হবে।
মহাবালেশ্বর, মহারাষ্ট্র
মহাবালেশ্বরের এমন কিছু জায়গা রয়েছে যা কেবল প্রকৃতি, ইতিহাসের জন্য নয়, তার একটা আলাদা ম্যাজিক আছে আর সেটাই আপনাকে আকৃষ্ট করবে। ব্রিটিশ শাসনকালে বোম্বে প্রেসিডেন্সির গ্রীষ্মকালীন রাজধানী ছিল মহাবালেশ্বর। এটা এমন একটা জাগয়া যেখানে অতীতের পুরোনো গন্ধ লেগে আছে আবার বর্তমানের আধুনিকতার ছাপও ছড়িয়ে রয়েছে। এই পার্বত্য অঞ্চলের চার্মকে, আমেজকে উপভোগ করার জন্য আপনাকে আসতে হবে গাড়িতে। খুব কাছ থেকে সবকিছু নিরীক্ষণ করতে চাইলে হিল স্টেশনের বনাঞ্চল ধরে হেঁটেও বেড়াতে পারেন। এটা অন্যতম সেরা জায়গা হল পশ্চিমঘাটের, যা আপনার মন ভরাবেই।
মোল্লেম, গোয়া
গোয়া বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সমুদ্র সৈকত, বিচের পার্টি! কিন্তু এর বাইরেও অনেক কিছু রয়েছে গোয়ার, যেগুলোকে খুঁজে বের করতে হয়! সহ্যাদ্রি পর্বতশ্রেণির পাদদেশে, জাতীয় হাইওয়ের কাছে রয়েছে ছোট্ট মোল্লেম গ্রাম। এই জায়গা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জলপ্রপাত, সবুজ বনাঞ্চল আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এখানেই রয়েছে দুধসাগর জলপ্রপাত, তাই এসবকিছুর মজা নিতে চাইলে আপনাকে আগে থেকে পরিকল্পনা করে এখানে আসতে হবে।
কুনুর, তামিলনাড়ু
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আর্কিটেকচার, ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর কুনুর। যাঁরা শান্ত পরিবেশে, নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চান তাঁদের জন্য খুবই মনোরম জায়গা হল এটা।

কুনুরের অদ্ভুত সৌন্দর্য
নীলগিরি পাহাড়ে বেষ্টিত কুনুর শহর তার রহস্যময়তা ও চা বাগানের জন্য খ্যাতি লাভ করেছে সকলের কাছে। এখানে আসতে চাইলে আপনাকে রোড ট্রিপই বেছে নিতে হবে। পাহাড়ের গা লাগোয়া রাস্তা দিয়ে গাড়িতে করে আসতে হবে, সঙ্গে পথে পেয়ে যাবেন চা বাগানের দেখা। এখানে ঘোরার স্বাদ মেটার পরেও যদি হাতে সময় থাকে তাহলে পাড়ি দিতে পারেন কোটাগিরি বা উটিতে।
আগুম্বে, কর্নাটক
পশ্চিমঘাট পর্বতমালার আগুম্বে বনাঞ্চল তার মনোরম পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। এছাড়াও এখানেও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, এই কারণে আগুম্বে দক্ষিণ ভারতের চেরাপুঞ্জি নামে পরিচিত। বর্ষাকাল বাদ দিয়ে যে কোনও সময়ে এখানে আসতে পারেন, উপভোগ করতে পারেন রোমাঞ্চ। এর সঙ্গে এখানকার জঙ্গলে রয়েছে বিভিন্ন সরীসৃপ! বিশেষত কিং কোবরার বসতভিটে বলা হয় এই জঙ্গলকে।
ওয়ানাড়, কেরল
রোড ট্রিপের জন্য অন্যতম সেরা জায়গা এটি। মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, গাছপালা, ঝরনা, চা বাগান ও বিভিন্ন প্রাণীর সমাগম জমিয়ে দেবে আপনার ট্রিপ। এখানে আপনি চাইলে পাহাড়ে চড়তে পারেন, গুহার রহস্যভেদ করতে পারেন এমনকী, র্যাফটিংয়ের মতো কার্যকলাপও করতে পারেন।
















