ভোটের আগেই বিজয় মিছিল! বসিরহাটের রাশ হাতে রাখতে আদৌ পারবেন তৃণমূলের হাজী নুরুল?
Lok Sabha Election 2024: শনিবার ভোট বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে। ভোটের ফল বেরোতে বেরোতে আগামী চার তারিখ মঙ্গলবার। তার আগেই হাসনাবাদে বিজয় মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা।

রাত পোহালেই ভোট সন্দেশখালিতে। কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক জরুরি কেন্দ্রের সঙ্গেই বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের ভোট ১ জুন শনিবার। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতা শেখ শাহজাহান ও তার সাঙ্গপাঙ্গের বিরুদ্ধে যেখানে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন স্থানীয় মানুষ। সন্দেশখালির ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ওঠে জমি জবরদখল থেকে শুরু করে সন্দেশখালির মেয়ে-বউদের নির্যাতনের অভিযোগ। লোকসভা ভোটের আগে সন্দেশখালি ইস্যুকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার করার চেষ্টা করেছে বিরোধীরা। লোকসভা ভোটের প্রার্থী নির্বাচনও হয়েছে সে কথা মাথায় রেখেই। তার পর অবশ্য সন্দেশখালিকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতির উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। এমনকী প্রশ্ন উঠে গিয়েছে সন্দেশখালি ঘটনার সত্যতা নিয়েও।
শনিবার ভোট বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে। ভোটের ফল বেরোতে বেরোতে আগামী চার তারিখ মঙ্গলবার। এরই মধ্যে দেশ জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে নানা ভবিষ্যদ্বাণী, ভোট ঘিরে নানা কথাবার্তা। কেউ বলছে এই দল জিতবে, তো কেউ বলছে ওই দল। অবশ্য বসিরহাট কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হাজী নুরুল ইসলামের জয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই তাঁর সতীর্থদের। তাই ভোট হওয়ার আগেই হাসনাবাদে বিজয় মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা। পাটলি খানপুর এলাকায় সবুজ আবির মেখে বাজনা বাজিয়ে মিষ্টি খাইয়ে পালন হল বিরাট উৎসব। পাটলি খানপুর অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি পিন্টু মোল্লার নেতৃত্বে বেরলো বিরাট বিজয়মিছিল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sandeshkhali: সন্দেশখালির অশান্তিতে প্রতিবাদীদের মুখ হিসেবেও দেখা গিয়েছিল সিরিয়াকে। সেই সিরিয়াই বৃহস্পতিবার শশী পাঁজা এবং মমতাবালা ঠাকুরের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।
এই বছর লোকসভা নির্বাচনে গোটা বাংলার চোখ রয়েছে বসিরহাট কেন্দ্রের উপরে। হবে না-ই বা কেন? বিতর্কিত সন্দেশখালি এলাকা যে পড়ে এই কেন্দ্রে আওতাতেই। যেখানে এতদিন চলত তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান রাজ। এই লোকসভা ভোটে সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ রেখা পাত্রকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ রেখা। তবে সন্দেশখালি কাণ্ডের জের দিয়ে যে ভোটতরী হাসতে হাসতে পার করে যাবে গেরুয়া শিবির, সেই আস্থা তাদের ছিল। কিন্তু ভোট যত এগিয়ে আসতে লাগত সন্দেশখালির আকাশ কালো হয়ে এল বিজেপির জন্য। একের পর এক সামনে আসতে শুরু করল স্টিং অপারেশনের ভিডিওর ঘনঘটা। কোথাও সন্দেশখালি বিজেপির মণ্ডল সভাপতি দাবি করলেন, সন্দেশখালির সমস্ত ঘটনাই সাজানো বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর। কোথাও আবার রেখা পাত্রকে বলতে শোনা গেল, রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁরা সবাই ভুয়ো। এখানেই শেষ নয়। একের পর ধর্ষণের অভিযোগ আনা মেয়েরা বলতে শুরু করলেন, তাঁদের দিয়ে জোর করে অভিযোগ লেখানো হয়েছিল সন্দেশখালি কাণ্ডে। সই করানো হয় সাদা কাগজেও। এই সব কাণ্ডে সন্দেশখালিতে বিজেপির জায়গা সামান্য হলেও নড়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sandeshkhali Incident: ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা বলে সম্প্রতি যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁকে রান্নার কাজের টাকা দেওয়া হয়নি। সেই অভিযোগকেই ধর্ষণের অভিযোগের রূপ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে না জানিয়ে।
লোকসভা ভোটে অবশ্য তৃণমূল তাদের পুরনো নেতা হাজী নুরুল ইসলামেই আস্থা রেখেছে গোড়া থেকে। ভোটের শুরুতেই প্রচারে বেরিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নুরুল। চিকিৎসার জন্য তাঁকে আনা হয় কলকাতাতে। তবে সেই অসুস্থতা সারিয়ে ভোটের আগে ঠিক চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন তৃণমূল প্রার্থী। শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারির পর তৃণমূল আরও বেশি করে চেষ্টা করেছে ঘাসফুল সরকারের জনকল্যাণ প্রকল্পগুলো সেখানকার মানুষের চোখের সামনে তুলে ধরার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে টাকা বাড়ানোর কথাকে সামনে রেখে প্রচারকে জোরালো করেছে তৃণমূল। তার পর সন্দেশখালি কাণ্ডে স্টিং অপারেশনের ভিডিওগুলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের হারানো বিশ্বাস যেন অনেকটাই ফিরেছে। ভোটের আগে একাধিক বার সন্দেশখালির একাধিক গ্রামবাসী, বিশেষত মেয়েদের মুখে শোনা গিয়েছে মমতার প্রশংসা। শেখ শাহাজাহানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল এলাকার মহিলারা। সেই গ্রামীণ মহিলাদেরই লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প, সুযোগসুবিধার কথা বলে আস্থা অর্জন করার চেষ্টা করে গিয়েছে তৃণমূল শিবির।
লোকসভা ভোটে যে তৃণমূল প্রার্থীরই জয় নিশ্চিত, জনমানসে সেই ধারণা তৈরি করতেই কি বিজয় মিছিল বের করার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। এর মাধ্যমে বিরোধীর আত্মবিশ্বাসকে আঘাত করাই কি আসলে মূল উদ্দেশ্য তাদের? ভোটের কিছুদিন আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন বসিরহাট বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি সিরিয়া পরভিন। সন্দেশখালির ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছিল তাঁকেই। তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিতে এসে তিনি জানান, সত্যিই সন্দেশখালিতে যে সব মহিলাদের সম্ভ্রম নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে তাঁদের সম্ভ্রমরক্ষার আন্দোলনে নেমেছিলেন তিনি। তবে পরে ভুল ভাঙে। সিরিয়ার কথায়, "পরে বুঝতে পারি গোটাটাই হাতে লেখা গল্প। আন্দোলন করার জন্য মহিলাদের টাকা দেওয়া হত। দেওয়া হত মোবাইলও।" তাঁর আরও অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের জন্য তাঁদেরকে পিঠে বানাতে বাধ্য করা হত। তার উপরেই নির্ভর করত তাঁদের বিজেপির পদ। সিরিয়ার তৃণমূলে আসাও কি একটা বড় জোরের জায়গা তৃণমূলের জন্য? সত্যিই কি বসিরহাট কেন্দ্রে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে তৃণমূল? হাজী নুরুল ও তাঁর সতীর্থরা যেভাবে ভোটের আগেই জয়ঘোষণা করে বসে আছেন, তাতে সংশয় জাগে বৈকি। সন্দেশখালিতে বামেদের প্রার্থীও এলাকার দীর্ঘদিনের স্থানীয় নেতা। সন্দেশখালি ঘটনার সময় জেলে পর্যন্ত গিয়েছিলেন তিনি। সিপিএমের সেই নিরাপদ সরকারও যে বিজেপি ও তৃণমূলকে জোর টক্কর দিতে চলেছে বসিরহাটে, তা বলাই যায়। তবে সত্যিই বসিরহাটের রাশ থাকে কার হাতে শেষমেশ, তা স্থির হতে চলেছে আগামী ৪ জুনেই।







