ভোটের মধ্যেই দলবদল! কেন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ?

Sandeshkhali: সন্দেশখালির অশান্তিতে প্রতিবাদীদের মুখ হিসেবেও দেখা গিয়েছিল সিরিয়াকে। সেই সিরিয়াই বৃহস্পতিবার শশী পাঁজা এবং মমতাবালা ঠাকুরের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।

Sohini Das
৩ মিনিট
ভোটের মধ্যেই দলবদল! কেন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ?

সন্দেশখালি কাণ্ডে বিরাট মোড়বদল। লোকসভা ভোটের মধ্যেই দল পাল্টে ফেললেন বসিরহাট বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি সিরিয়া পরভিন। সন্দেশখালি কাণ্ডের অন্যতম মুখও বটে তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন সিরিয়া। আর তার পরেই নানা জল্পনায় সরব হয়েছে বাংলার রাজনীতি মহল।

লোকসভা ভোটের আগে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় করা ঘটনা ছিল সন্দেশখালি। ২০২৪ লোকসভা ভোটে সেই সন্দেশখালি অস্ত্রে তৃণমূলকে বধ করতে চেয়েছে বিজেপি-সহ একাধিক বিরোধী দল। তার পর অনেক ঘাটের জল গিয়ে পড়েছে গঙ্গায়। ক্রমশ বদলেছে সমীকরণ। শাসকদল ঘনিষ্ঠ নেতা শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে নির্যাতন, জমিদখল-সহ একাধিক অভিযোগ এনে পথে নেমেছিল সন্দেশখালির মেয়েরা। সেই আন্দোলন কাঁপিয়ে দিয়েছিল রাজ্যের রাজনীতি। অবশেষে গ্রেফতার হয় সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহান ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। কিন্তু সন্দেশখালির উত্তাপ কমেনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাদা কাগজে সই করিয়ে ‘মিথ্যে’ ধর্ষণের অভিযোগ! ভয়াবহ সত্য জানান দিচ্ছে সন্দেশখালি

Sandeshkhali Incident: ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা বলে সম্প্রতি যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁকে রান্নার কাজের টাকা দেওয়া হয়নি। সেই অভিযোগকেই ধর্ষণের অভিযোগের রূপ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে না জানিয়ে।

দিন কয়েক আগেই জানা যায়, সন্দেশখালি সাজানো ঘটনা। সন্দেশখালি বিজেপির মণ্ডল সভাপতির উপর করা একটি স্টিং অপারেশন ও তার থেকে পাওয়া ভিডিওর ভিত্তিতে জানা যায়, সন্দেশখালির ঘটনা নাকি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাজানো। এর পর এক এক করে সামনে আসতে শুরু করেছিল একাধিক স্টিং ভিডিও। যেখানে কখনও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে শেখ শাহাজাহান ঘনিষ্ঠের বাড়িতে অস্ত্র মজুত করার অভিযোগ, কখনও আবার সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ ও লোকসভা ভোটে বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র-সহ একাধিক সন্দেশখালির প্রতিবাদকারী মহিলার মুখে শোনা যায়, রাষ্ট্রপতির কাছে যাঁরা সন্দেশখালি ঘটনার বিরুদ্ধে যাঁরা অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন, তাঁরা নকল। টাকা দিয়ে তাঁদের প্রতিবাদকারিনী সাজানো হয়েছিল বলে জানান রেখারা। এখানেই শেষ নয়, একে একে সামনে আসে সন্দেশখালির একাধিক অভিযোগকারিনীর বয়ান। যেখানে তাঁরা জানান, তাঁদের দিয়ে জোর করে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করানো হয়েছিল। করানো হয় সাদা পাতায় সইও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাষ্ট্রপতির কাছে সন্দেশখালির 'নকল' নির্যাতিতা, স্বীকারোক্তি খোদ রেখা পাত্রের!

Sandeshkhali Incident: সন্দেশখালির ঘটনার পরে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁরা নাকি সাজানো। আর এমনটা বলছেন সন্দেশখালির নির্যাতিতাদের মুখ তথা লোকসভা ভোটে বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র খোদ।

লোকসভা ভোটের মধ্যে সন্দেশখালি ঘটনার একের পর এক মোড় ঘুরতে থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যবিজেপি। তার পর থেকেই সন্দেশখালিতে বিজেপি নেতামন্ত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে। সন্দেশখালির অশান্তিকে লোকসভা ভোটে যে ভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে গিয়েছে গোড়া থেকে, তাতে সাম্প্রতিক সব ঘটনায় সেই সাজানো বাগান শুকিয়ে যাওয়ারই দশা। এর মধ্যেই ফের বজ্রপাত। এবার দল ছাড়লেন বসিরহাট বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি সিরিয়া পরভিন। যোগ দিলেন তৃণমূলে। মনে রাখতে হবে, সন্দেশখালির অশান্তিতে প্রতিবাদীদের মুখ হিসেবেও দেখা গিয়েছিল সিরিয়াকে। সেই সিরিয়াই বৃহস্পতিবার শশী পাঁজা এবং মমতাবালা ঠাকুরের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।

তবে শুধু যে তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিজেপির মুখ পুড়িয়েছেন সিরিয়া, তা-ই নয়। একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি। এদিন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর সিরিয়া জানান, সত্যিই সন্দেশখালিতে যে সব মহিলাদের সম্ভ্রম নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে তাঁদের সম্ভ্রমরক্ষার আন্দোলনে নেমেছিলেন তিনি। তবে পরে ভুল ভাঙে। সিরিয়ার কথায়, "পরে বুঝতে পারি গোটাটাই হাতে লেখা গল্প। আন্দোলন করার জন্য মহিলাদের টাকা দেওয়া হত। দেওয়া হত মোবাইলও।" তাঁর আরও অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের জন্য তাঁদেরকে পিঠে বানাতে বাধ্য করা হত। তার উপরেই নির্ভর করত তাঁদের বিজেপির পদ। সিরিয়া জানান, এখন অনেকেই বলবে, আমাকে তৃণমূল কিনে নিয়েছে। কিন্তু আর কয়েক দিন পরেই ভোট। এখন আমার আর কী-ই বা পাওয়ার আছে!" সন্দেশখালিতে সত্য-অসত্য প্রমাণের চেষ্টা চলছে সন্দেশখালিতে। আর তাতে তৃণমূল নেতারা জড়িত নয় বলেই দাবি প্রাক্তন বিজেপি নেতার। সন্দেশখালি সাজানো ঘটনা, সেই অভিযোগই আরও একবার নতুন করে তুলে দিয়েছেন তিনি।

লোকসভা ভোটের মুখে সন্দেশখালি বিজেপির সাধারণ সচিবের দলবদল ঠিক কতটা প্রভাব ফেলতে চলেছে বিজেপির ভোটবাক্সে। এমনিতেই রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ রেখার জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে লড়াই। একের পর এক সন্দেশখালি ঘটনা নিয়ে এমন এমন তথ্য-প্রমাণ সামনে আসছে, যা বারবার মুখ পোড়াচ্ছে বিজেপির। এই পরিস্থিতিতে সন্দেশখালি দখলের লড়াই কতটা কঠিন হতে চলেছে বিজেপির জন্য? তার উত্তর অবশ্য মিলবে আগামী ৪ জুনেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।