পথের কাঁটা ভিসা, পাক প্রেমিকার গলায় ভার্চুয়াল মালা দিলেন ভারতীয় যুবক
Cross Border Love: দু-পক্ষের পরিবারই সাড়ম্বরে যোগ দিয়েছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। ভার্চুয়াল হোক, তবু তো বিয়ে। অনলাইনে সব কিছু সারা হলেও আন্তরিকতার অভাব ছিল না কোনও পক্ষে।

প্রেম আর কবেই বা দেশ, কালের সীমানা মেনেছে। কবেই বা কাঁটাতারের বেড়ার শাসন সহ্য করেছে। তাই বারবার রূপকথার জন্ম হয়। সীমান্ত, কাঁটাতার, ভিসা, পররাষ্ট্রনীতি সেই সব রূপকথার সামনে উর্ধ্বকমার মতো ঝুলতে থাকে শূন্যে। তবে এ রূপকথা আর পাঁচটা গল্পের মতো নয়। সীমান্ত, কাঁটাতার পেরিয়ে এসে মিলে যায় না প্রেমে পড়া দু'টো মানুষ। চলতি ট্রেনে হাত ছুঁয়ে ফেলে না অন্য হাত। লড়াই-ঝগড়া রক্তক্ষত দিয়ে ছিনিয়ে আনতে হয় না প্রেমিকাকে অমরীশ পুরী ছাপ বাবাদের কাছ থেকে। তবু তো প্রেম বেঁচে থাকে। ভালোবাসার নতুন কথকতার জন্ম হয়।
করোনা-পরবর্তী সময়ে অনেক কিছুই বদলেছে আমাদের জীবনে। নিউ নর্মাল জীবনকে আরও ভালো করে বুঝে নিতে, জেনে নিতে শিখেছি আমরা। ওই কয়েকটা বছর মানুষকে শিখিয়ে দিয়েছে দূরত্বের ভাষা। আর মানুষ কী না পারে। সেই দূরত্বের ভাষাকেই যে তারা কখন ভালোবাসার সঙ্কেত বানিয়ে ফেলেছে তার হদিশ পাওয়া যায়নি। হারিয়ে দিয়েছে শারীরিক দূরত্বের সমস্ত বাধাকে। যে অনলাইন দুনিয়া করোনাকালীন পরিস্থিতিকে মানুষকে বেঁচে থাকার রসদ জুগিয়েছিল, তাকে এমন করে আপন করে নিয়েছে আধুনিক প্রজন্ম, যে তা হয়ে উঠেছে নতুন জগৎ, নতুন পৃথিবী।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Khutlun, wrestling princess of Mongolia: খুতুলুন ঠিক করেন, বিয়েতে আগ্রহীরা খালি হাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে পারবেন না মোটেই। তার জন্য রাখতে হবে বাজি।
করাচির মেয়ে আমিনা ভালোবেসেছিল জোধপুরের ছেলে আরবাজকে। মধ্যিখানে কাঁটাতারের বেড়া। কিন্তু সেই প্রাদেশিক দূরত্বকে নিজেদের মধ্যে আসতে দেননি কোনওদিনই। ডিজিটাল দুনিয়ায় দেখা, সেখান থেকেই আলাপ গড়ায় প্রেম, প্রেম থেকে সম্পর্ক গড়ায় গভীরতায়। এমনকী দুই পরিবারের মধ্যেও গড়ে উঠেছে হৃদ্যতার সম্পর্ক, আর তার শিকড় ছড়িয়ে গিয়েছে এত গভীরে, যে তুচ্ছ হয়ে গিয়েছে সীমান্ত, ভিসা-পাসপোর্টের শাসনও। কথা গড়িয়েছে বিয়ে পর্যন্ত। দুই পরিবারের তরফেই একে অপরকে আপন করে নিয়েছে। আর সেই অনলাইনের ভরসাতেই বিবাহবন্ধনেও আবদ্ধ হলেন যুগল। আরবাজের বাবা মহম্মদ আফজাল ইতিমধ্যেই আমিনাকে পুত্রবধু হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছেন।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Li Ching-Yuen 256 Years old China : ২৫৬ বছর ধরে একজন বহাল তবিয়তে বেঁচে রইলেন, দেখলেন নানা ওঠাপড়া, এটা কি আদৌ বিশ্বাস করা যায়?
প্রায় সমস্ত রীতিরেওয়াজ মেনেই বিবাহের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল দু-পক্ষই। জোধপুরের ওসওয়াল সমাজ ভবনে এসে পৌঁছেছিল আরবাজের 'বারাত'। দু-পক্ষের পরিবারই সাড়ম্বরে যোগ দিয়েছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। ভার্চুয়াল হোক, তবু তো বিয়ে। অনলাইনে সব কিছু সারা হলেও আন্তরিকতার অভাব ছিল না কোনও পক্ষে।

আসলে বেশ কিছু আইনি জটিলতা এসে দাঁড়িয়েছিল সম্পর্কের মাঝখানে। পাকিস্তানে হওয়া বিয়েকে মান্যতা দেবে না এ দেশের সরকার। তা হলে এমনকী করা যায়, যাতে দু-দিকই রক্ষা হয়। অবশেষে এই ভার্চুয়ার বিয়ের ভাবনা মাথায় আসে যুগলের। ইতিমধ্যেই এই অনলাইন বিয়ের শংসাপত্র পেয়ে গিয়েছে তারা।
বিয়ে তো হল! এবার কবে যোধপুরে ফিরবে ভারতীয় এই বধূ, সেই দিকেই চেয়ে রয়েছে গোটা পরিবার। অভিবাসন দপ্তরের যা যা আধিকারিক কাজ রয়েছে, সেইসব ঝামেলা মিটিয়ে কত তাড়াতাড়ি ভিসা পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থাতেই লেগে রয়েছেন আরবাজরা। তবে যে ভাবে এই বিচ্ছেদের যুগে শারীরিক দূরত্বকে হেলায় উড়িয়ে শুধুমাত্র প্রেমকেই প্রাধান্য দিতে পেরেছেন এই যুগল, সীমান্ত বা কাঁটাতারের চোখরাঙানিকে হারিয়ে দিতে পেরেছেন, তা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছে নেটদুনিয়া। ইতিমধ্যেই তাঁদের এই ভার্চুয়াল বিয়ের গল্প ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
















