যাত্রীর গায়ে প্রস্রাব কাণ্ডে বিশাল টাকার জরিমানা এয়ার ইন্ডিয়াকে! আদৌ বদলাবে যাত্রী নিরাপত্তা?
Air India Urination Case: অভিযোগ ছিল, মূত্রে ভিজে যাওয়া আসনের উপরে কাপড় বিছিয়ে সেখানেই তাঁকে বাকি পথটা পাড়ি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিমানকর্মীরা।

মদের ঘোরে বৃদ্ধা সহযাত্রীর গায়েই প্রস্রাব করে দেশ জুড়ে শোরগোল ফেলেছিলেন শঙ্কর মিশ্র। বিমানের বিজনেস ক্লাসের এই ঘটনার পরে শঙ্কর মিশ্রের সন্ধানে সারা দেশে খোঁজ লাগায় পুলিশ, বেঙ্গালুরু থেকে পাকড়াও করা হয় তাঁকে। এবার সেই বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়াকে ৩০ লক্ষ টাকার জরিমানা করল ডিজিসিএ। শুধু তাই নয়, ওইদিন নিউইয়র্ক-দিল্লি ফ্লাইটের দায়িত্বে ছিলেন যে পাইলট তাঁর লাইসেন্সও তিন মাসের জন্য বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের (DGCA) তরফে। 'দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য' এয়ার ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর-ইন-ফ্লাইট সার্ভিসেসকেও ৩ লক্ষ টাকার জরিমানা করা হয়েছে।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর বিমানের মধ্যেই প্রস্রাব করার ঘটনায় যাত্রী শঙ্কর মিশ্রের উপর চার মাসের উড়ান নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তারপরেই এই জরিমানার মুখে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়া বিমান কর্তৃপক্ষ। এর আগে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল অভিযুক্ত যাত্রীর উপর। তবে ঘটনাটি নভেম্বরের হলেও তা ৪ জানুয়ারি ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের নজরে আসে এবং বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য সমালোচনাও করে এয়ার ইন্ডিয়ার। গত ২৬ নভেম্বর নিউইয়র্ক থেকে নয়াদিল্লি যাওয়ার সময় মদ্যপ শঙ্কর মিশ্র বিমানের মধ্যেই তাঁর প্যান্ট খুলে ফেলেন এবং বিজনেস ক্লাসে বসা তাঁর ৭২ বছর বয়সী মহিলার গায়ে প্রস্রাব করে দেন। জামিনের শুনানির সময়, শঙ্কর মিশ্রের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, এই কাজটি শঙ্করের "যৌন ইচ্ছা দ্বারা চালিত হয়নি বা অভিযোগকারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যেও হয়নি।" যে মহিলা শঙ্কর মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তিনি জানিয়েছিলেন অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠদের তরফে তাঁকে রীতিমতো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Air India Urination: বেঙ্গালুরুর একটি গেস্ট হাউসে একাই লুকিয়ে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই পুলিশ গ্রেফতার করে শঙ্করকে।
এয়ার ইন্ডিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার, এয়ার ইন্ডিয়ার ইন-ফ্লাইট পরিষেবার ডিরেক্টর এবং সেই ফ্লাইটের সমস্ত পাইলট এবং কেবিন ক্রু সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হয়নি তার জন্য কারণ দর্শানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডিজিসিএ। জবাব দেওয়ার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে সকলকে। টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন এই এয়ারলাইন এদিন সকালে নিজেদের উত্তর জমা দিয়েছে।
শঙ্কর মিশ্র তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন যে তাঁর সহযাত্রী মহিলা নিজেই নিজের গায়ে প্রস্রাব করেছিলেন। এমন বিচিত্র দাবি যে সম্পূর্ণ মিথ্যা, তৈরি করা এবং অবমাননাকর তা জানিয়েছেন সহযাত্রী মহিলা। অভিযোগ ছিল, ওই ঘটনার দিন বিমানে মত্ত অবস্থায় বৃদ্ধার গায়ের উপরে প্রস্রাব করে দেন শঙ্কর কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেননি বিমান কর্মীরা। শুধুমাত্র গায়ের পোশাকটি পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। মূত্রে ভিজে যাওয়া আসনের উপরে কাপড় বিছিয়ে সেখানেই তাঁকে বাকি পথটা পাড়ি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিমানকর্মীরা। অভিযুক্ত শঙ্কর মিশ্রকে দীর্ঘদিন খুঁজে না পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল। মার্কিন ব্যাংকিং জায়ান্ট ওয়েলস ফার্গো সংস্থার আধিকারিক শঙ্করকে বরখাস্তও করা হয় কাজ থেকে। পলাতক থাকলেও অবশেষে ধরা পড়েন তিনি। বেঙ্গালুরুর একটি গেস্ট হাউসে একাই লুকিয়ে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই পুলিশ গ্রেফতার করে শঙ্করকে।
এই মাসের গোড়ার দিকেই টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন স্বীকার করেন যে এই ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার প্রতিক্রিয়া আরও অনেক দ্রুত হওয়া উচিত ছিল। তাঁর এই কথার আগেই অবশ্য এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনের ক্ষমা চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন বিমানের মধ্যে অ্যালকোহল পরিষেবার নীতি পর্যালোচনা করছে এয়ার ইন্ডিয়া।















