কী কী দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষ? এবার তদন্ত করবে রাজ্য সরকার

RG Kar Ex Principal Sandip Ghosh: এর আগেও অনেকেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে টাকা নয়-ছয়, সরঞ্জাম কেনা-বেচায় অনিয়ম সহ গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন।

inscript
৩ মিনিট
কী কী দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষ? এবার তদন্ত করবে রাজ্য সরকার

প্রতিদিন সিবিআইয়ের ম্যারাথন জেরার মুখে পড়ে বিপর্যস্ত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। তরুণী চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণ নিয়ে প্রথম থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিল সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা। এবার তাঁর অস্বস্তি বাড়াল পশ্চিমবঙ্গ সরকারই! সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে যে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ আছে, সেসবের তদন্ত করতে সিট গঠন করল সরকার। এই সরকারই আরজি কর কাণ্ডে সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তাঁকে তড়িঘড়ি বদলি করে দেয় কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে। এর আগে একাধিকবার বদলি হয়েও স্বমহিমায় আরজি করেই ফিরে এসে গদি ধরে রেখেছিলেন সন্দীপ। রাজ্য সরকারের অজানা ছিল না কিছুই! বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় কি সন্দীপ ঘোষের রক্ষাকবচ তুলে নিচ্ছে তৃণমূল সরকার?

২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, এবার তার তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়কালেই, ২০২১ সালের মাঝামাঝিই আরজি কর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছিলেন সন্দীপ ঘোষ। ৪ সদস্যের এই সিট তদন্ত শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। সোমবার গভীর রাতে সিটের দুই সদস্য ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও প্রণব কুমার স্বাস্থ্য দফতরের ভিজিলেন্স টিমের সঙ্গে বৈঠক করেন। টালা থানায় দুর্নীতির মামলা রুজু হয় আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। প্রিভেনশন অব কোরাপশন অ্যাক্টের ৭ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এক আইএএস অফিসার সন্দীপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেন টালা থানায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এফআইআরে এত দেরি! অধ্যক্ষ কী করছিলেন? রাজ্যকে যে যে প্রশ্ন করল সুপ্রিম কোর্ট

RG Kar Rape Case Supreme Court: প্রধান বিচারপতি বলেন, “একটা হাসপাতালের মধ্যে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল। পুলিশ কি হাসপাতাল ভাঙচুর করার অনুমতি দিচ্ছিল?”

৯ অগাস্ট ওই চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যা হয়। সেই মামলাতে সিবিআই টানা গত চারদিন প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সন্দীপ ঘোষকে। এবার রাজ্যের তরফেও চাপ বাড়ল সন্দীপের উপর! চার সদস্যের এই সিটে থাকছেন পুলিশের আইজি প্রণব কুমার, ডিআইজি (মুর্শিদাবাদ) ওয়াকার রেজা, ডিআইজি (সিআইডি) সোমা দাস মিত্র এবং কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। অর্থাৎ সিবিআই আর সিট, সাঁড়াশি চাপে পড়তে চলেছেন সন্দীপ।

সিট গঠনের এক মাসের মধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে: “এসআইটি এই তদন্তের দ্রুত সমাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি দফতর এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি থেকে যে কোনও প্রাসঙ্গিক নথি ব্যবহার করার স্বাধীনতা পাবে... এসআইটি প্রয়োজন পড়লে পুলিশের অন্যান্য অফিসার এবং কর্মচারীদের সাহায্যের জন্য অনুরোধ করবে।” রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর বলছে, আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে এসআইটি তদন্তের কোনও সম্পর্ক নেই। সিবিআই পৃথকভাবে ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্ত করছে। সেটি হাসপাতালের আর্থিক বেনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানাচ্ছে প্রশাসন।

সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও অনেকেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে টাকা নয়-ছয়, সরঞ্জাম কেনা-বেচায় অনিয়ম সহ বিবিধ গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। সন্দীপ ঘোষকে তারপর স্বাস্থ্য দফতর দুইবার বদলিও করে। গত বছরের মে মাসে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছিল সন্দীপ ঘোষকে। কিন্তু রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করে। এরপর আবার মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বদলি হয় তাঁর। মাত্র ১ মাসের মধ্যে আরজি করে ফিরে আসেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আরজি করের কলেজ হোস্টেলে একটি র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছিল। সেবার আঙুল তোলা হয়েছিল সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের দিকে। সন্দীপ ঘোষকে ১১ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়। অক্টোবরের মধ্যেই তিনি আরজি কর হাসপাতালে ফিরে আসেন। এবারও খানিক তেমনই হচ্ছিল বলা যায়! ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আড়ালের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ১২ অগাস্ট আরজি কর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয় তাঁকে। কিন্তু এবার আর ঘটনার লাগাম আর সরকারের হাতে ছিলই না। সন্দীপ ঘোষ যে প্রভাব খাটিয়ে আসন ধরে রেখেছিলেন, সেই আসন এবার সত্যিই টলমল করছে কেন্দ্র ও রাজ্যের জোড়া চাপে!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।