এফআইআরে এত দেরি! অধ্যক্ষ কী করছিলেন? রাজ্যকে যে যে প্রশ্ন করল সুপ্রিম কোর্ট

RG Kar Rape Case Supreme Court: প্রধান বিচারপতি বলেন, “একটা হাসপাতালের মধ্যে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল। পুলিশ কি হাসপাতাল ভাঙচুর করার অনুমতি দিচ্ছিল?”

inscript
৩ মিনিট
এফআইআরে এত দেরি! অধ্যক্ষ কী করছিলেন? রাজ্যকে যে যে প্রশ্ন করল সুপ্রিম কোর্ট

এফআইআর দায়ের করতেই গড়িমসি! আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তে দেশের শীর্ষ আদালতে ব্যাপক তিরস্কারের মুখে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাজ্যকে প্রশ্ন করেছে, এফআইআর দায়েরে কেন এত দেরি করা হলো? এই দেরি হওয়ার জন্য আরজি কর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। কার অভিযোগের ভিত্তিতে এবং কখন প্রথম এফআইআর দায়ের হয়েছিল, সেই তথ্য জানতে চান বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা। বিচারপতির এই প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের আইনজীবী জানান, ১১টা ৪৫ মিনিটে মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথম এফআইআর হয়েছিল। এরপরে অধ্যক্ষ অভিযোগ জানান।

এরপরই আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, “বিকেলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয় খুন। এফআইআর দায়ের হয়েছিল ১১টা ৪৫ মিনিটে। তার আগে কী করছিলেন অধ্যক্ষ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ? ওই সময়ে মৃতার বাবা-মা ছিলেন না। হাসপাতালের দায়িত্ব ছিল এফআইআর দায়ের করা।” এখানেই শেষ নয়। প্রধান বিচারপতি জানান, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবং খোদ অধ্যক্ষ এই খুন ও ধর্ষণকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চেয়েছিলেন। প্রথমে পরিবারকে মৃতদেহ অবধি দেখতে দেওয়া হয়নি। রাজ্য সরকার বিষয়টি অস্বীকার করলে প্রধান বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “এটি পরিষ্কার যে খুন করা হয়েছে। প্রথমে এফআইআরে কি তা উল্লেখ ছিল? অধ্যক্ষ কী করেছেন?” সন্দীপ ঘোষ আরজি করের অধ্যক্ষ পদে ইস্তফা দেওয়ার পর কীভাবে আবার অন্য কোথাও যোগ দিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয়ের পলিগ্রাফ টেস্ট! কীভাবে সত্যি-মিথ্যা ধরা পড়ে এই পরীক্ষায়?

RG Kar Polygraph Test: পলিগ্রাফ টেস্টের জন্য অভিযুক্তকে এই পরীক্ষায় মত দিতে হয়।

শীর্ষ আদালত আরও জানায়, ১৪ অগাস্ট রাজ্য সরকারের প্রশাসন কেন আরজি কর হাসপাতালে ভাঙচুরের বিষয়টি সামলাতে পারল না, বিষয়টি মাথাতেই ঢুকছে না আদালতের। এই তদন্তে পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়ে হাসপাতাল এবং স্থানীয় পুলিশকেও এক হাত নেন প্রধান বিচারপতি। আরজি করের সামগ্রিক ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রথমে ঠিকভাবে এফআইআর করা হয়নি। পুলিশ কী করছিল? একটা হাসপাতালের মধ্যে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল। পুলিশ কি হাসপাতাল ভাঙচুর করার অনুমতি দিচ্ছিল?” শীর্ষ আদালত বলে, "অধ্যক্ষ কী করছিলেন? এফআইআর দায়ের করা হয়নি, মৃতদেহ বাবা-মায়ের কাছে দেরিতে তুলে দেওয়া হলো। পুলিশ কী করছিল? এক গুরুতর অপরাধ ঘটেছে, অপরাধের স্থলটি একটি হাসপাতাল!” প্রধান বিচারপতি বলেন, "আমরা কিছুতেই বুঝতে পারছি না স্বাধীনতা দিবসের দিন রাজ্য কীভাবে হাসপাতাল ভাঙচুর করতে দিল?” রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সলিসিটর জেনারেল বলেন, “৫০০ লোকের জমায়েত হলে আমরা বলি ভালো লোক এসেছে। সেখানে সাত হাজার লোক হাসপাতাল ভাঙচুর করল। এটা কি আইনশৃঙ্খলার নমুনা?”

চিকিৎসা পেশায় হিংসা রুখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সাত জনের জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, এই টাস্ক ফোর্সে বিভিন্ন চিকিত্সকরা থাকবেন, যাঁরা সারা ভারত জুড়ে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেবেন যাতে কাজের নিরাপত্তা বজায় থাকে এবং তরুণ বা মধ্যবয়সি চিকিৎসকরা কাজের পরিবেশে নিরাপদ থাকেন। এই টাস্ক ফোর্সে সার্জন অ্যাডমিরাল আর কে সারিয়ান, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলজির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ ডি নাগেশ্বর রেড্ডি, দিল্লির এইমসের ডিরেক্টর ডাঃ এম শ্রীবাস, বেঙ্গালুরুর নিমহান্সের ডাঃ প্রথমা মূর্তি, ডাঃ গোবর্ধন দত্ত পুরী, এইমস যোধপুর, ড. গঙ্গারাম হাসপাতালের ডাঃ সোমিকরা রাওয়াত, অধ্যাপক অনিতা সাক্সেনা, জেজে গ্রুপ অফ হাসপাতালের পল্লবী সাপলে এবং গুরগাঁওয়ের পারস হাসপাতালের চেয়ারপারসন (নিউরোলজি) পদ্মা শ্রীবাস্তব থাকছেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।