মহুয়া বহিষ্কারে রণং দেহী মমতা, যে বার্তা দিলেন...

Mahua Moitra : লোকসভা থেকে বহিষ্কারের পর এ বার তাঁর কাছেও সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা পাঠানো হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মহুয়া।

Sohini Das
৩ মিনিট
মহুয়া বহিষ্কারে রণং দেহী মমতা, যে বার্তা দিলেন...

মহুয়া মৈত্রর বহিষ্কারির তীব্র নিন্দা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বহিষ্কার বিজেপির প্রতিহিংসার চরিতার্থ করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়, গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার লোকসভায় রিপোর্ট জমা দেয় এথিকস কমিটি। সেই রিপোর্টে বহিষ্কারের সুপারিশ করে কমিটি। ওই রিপোর্ট পড়ার জন্য লোকসভার স্পিকারের কাছে কিছুক্ষণ সময় চেয়েছিল তৃণমূল। সেই সময় দেওয়া তো দূর, মহুয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি। ধ্বনিভোটে খারিজ হয়ে যায় মহুয়ার সাংসদপদ।

আশঙ্কা এমন কিছুই ছিল। মহুয়াকে নিয়ে সাংসদে বরাদ্দ করা হয়েছিল মাত্র আধ ঘণ্টা। ফলে ওই ব্যাপার নিয়ে যে খুব বেশি সময় দেওয়া হবে না কৃষ্ণনগরের সাংসদকে তা একরকম পরিষ্কার ছিল। আদানি নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অর্থ ও উপহার নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মমতার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় কম জলঘোলা হয়নি। গত কয়েকদিনে একের পর এক বিরোধী নেতা। অধীর চৌধুরী থেকে শুরু করে প্রায় সকলেই লোকসভার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত মহুয়া মৈত্র! কেন একটি কথাও বলতে দেওয়া হলো না সাংসদকে?

Mahua Moitra expelled from Lok Sabha : এথিক্স কমিটির প্রতিবেদনকে শিরোধার্য করেই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার করা হয় মহুয়া মৈত্রকে।

মহুয়ার বহিষ্কারির পরেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাইপোর বিয়ে উপলক্ষে তিনি এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গে। সেখান থেকেই নিজের বক্তব্য জানান তিনি। মহুয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে মমতা জানান, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিজেপি এক জন মহিলাকে যে ভাবে হেনস্থা করল, তাতে গণতন্ত্রকেই হত্যা করা হল। দল মহুয়ার পাশে ছিল, আছে। বিজেপির প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি প্রমাণিত।" মহুয়া জিতবেই, হুঙ্কারও ছাড়তে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে।

ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন করার ঘটনায় মহুয়াকে বহিষ্কার করার সুপারিশ করেছিল লোকসভার এথিক্স কমিটি। ৪৯৫ পৃষ্ঠার রিপোর্ট তারা শুক্রবার জমা দেয়। গোড়া থেকেই তৃণমূল লোকসভায় আবেদন জানিয়েছিল, মহুয়াকে যাতে আত্মপক্ষ সমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। এদিনও রিপোর্ট পড়ার জন্য সময় চেয়েছিল তৃণমূল। কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির তরফেও স্পিকারের কাছে সময়ের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সময় দেওয়ার পথে হাঁটেননি স্পিকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্পষ্টবাদী, স্বাধীনচেতা বলেই মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কারের ছক সাজাল বিজেপি?

Mahua Moitra Expelled : ভারতীয় রাজনৈতিক জগত এই রকম একজন মহিলাকে বহিষ্কার করল কেন? তাহলে কি ভারতীয় রাজনীতিতে মহুয়ার মতো সোজাসাপ্টা কথা বলা মহিলার স্থান নেই?

লোকসভা থেকে বেরিয়েই গর্জে ওঠেন মহুয়া। তাঁর মুখে শোনা যায় নজরুলের একটি কবিতা। মহুয়া বলেন, "আমাদের বাংলায় একটা কবিতা আছে কাজী নজরুল ইসলামের। ‘অসত্যের কাছে কভু নত নাহি কর শির/ ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ, লড়ে যায় বীর।" নজরুল-কাব্যের এই দুই পংক্তি হিন্দিতে অনুবাদ করেও শোনান মহুয়া। তার পর বলেন, "এঁরা বস্ত্রহরণ শুরু করেছে। এ বার আপনারা মহাভারতের যুদ্ধ দেখতে পাবেন।" তিনি এ-ও জানান, এই ঘটনার শেষ দেখেই ছাড়বেন। আগামী ৩০ বছর লোকসভার ভিতরে এবং বাইরে লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ। তিনি জানান, লোকসভার এথিক্স কমিটিতে ‘এথিক্স’ বলে কিছুই অবশিষ্ট নেই। সব নিয়ম তারা ভেঙে ফেলেছে। মহুয়ার দাবি, "এমন একটা কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হল, যা লোকসভার সকল সদস্যের মধ্যে প্রচলিত একটি অভ্যাস। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি বা কোনও উপহার নিয়েছি, তার কোনও প্রমাণ নেই ওদের কাছে।" বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে মহুয়া এ-ও জানান, এথিক্স কমিটি ভাল করে যাচাই না করেই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে এবং শাস্তি নিশ্চিত করেছে। তাঁর কথায়, "মোদী সরকার যদি ভেবে থাকে, আমাকে এভাবে চুপ করিয়ে আদানি ইস্যু থেকে তারা মুক্তি পাবে, তবে ভুল ভাবছে।"

বরাবরই লোকসভায় সপাট সওয়াল-জবাবের জন্য বিখ্যাত মহুয়া মৈত্র। এর জন্য আগেও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। আর সেই মহুয়ার মুখ বন্ধ করেই সংসদকে বিরোধীশূন্য করতে চাইছে বিজেপি। এমনটাই অভিযোগ বিরোধীদের। লোকসভা থেকে বহিষ্কারের পর এ বার তাঁর কাছেও সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা পাঠানো হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মহুয়া। তিনি জানান, এ বার তাঁর কাছে সিবিআই আসবে। আরও ছ’মাস সিবিআই দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হবে। এর পরের পদক্ষেপ কী হতে চলেছে মহুয়ার, তা নিয়ে অবশ্য এখনও কিছু খোলসা করেনি দল। তবে ভবিষ্যতেও যে কৃষ্ণনগরের বহিষ্কৃত সাংসদকে ফের ভোটে জিতিয়ে সংসদে পাঠাতে পারেন মমতা, তা এদিন পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।