মহুয়া বহিষ্কারে রণং দেহী মমতা, যে বার্তা দিলেন...
Mahua Moitra : লোকসভা থেকে বহিষ্কারের পর এ বার তাঁর কাছেও সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা পাঠানো হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মহুয়া।

মহুয়া মৈত্রর বহিষ্কারির তীব্র নিন্দা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বহিষ্কার বিজেপির প্রতিহিংসার চরিতার্থ করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়, গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার লোকসভায় রিপোর্ট জমা দেয় এথিকস কমিটি। সেই রিপোর্টে বহিষ্কারের সুপারিশ করে কমিটি। ওই রিপোর্ট পড়ার জন্য লোকসভার স্পিকারের কাছে কিছুক্ষণ সময় চেয়েছিল তৃণমূল। সেই সময় দেওয়া তো দূর, মহুয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি। ধ্বনিভোটে খারিজ হয়ে যায় মহুয়ার সাংসদপদ।
আশঙ্কা এমন কিছুই ছিল। মহুয়াকে নিয়ে সাংসদে বরাদ্দ করা হয়েছিল মাত্র আধ ঘণ্টা। ফলে ওই ব্যাপার নিয়ে যে খুব বেশি সময় দেওয়া হবে না কৃষ্ণনগরের সাংসদকে তা একরকম পরিষ্কার ছিল। আদানি নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অর্থ ও উপহার নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মমতার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় কম জলঘোলা হয়নি। গত কয়েকদিনে একের পর এক বিরোধী নেতা। অধীর চৌধুরী থেকে শুরু করে প্রায় সকলেই লোকসভার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mahua Moitra expelled from Lok Sabha : এথিক্স কমিটির প্রতিবেদনকে শিরোধার্য করেই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার করা হয় মহুয়া মৈত্রকে।
মহুয়ার বহিষ্কারির পরেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাইপোর বিয়ে উপলক্ষে তিনি এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গে। সেখান থেকেই নিজের বক্তব্য জানান তিনি। মহুয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে মমতা জানান, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিজেপি এক জন মহিলাকে যে ভাবে হেনস্থা করল, তাতে গণতন্ত্রকেই হত্যা করা হল। দল মহুয়ার পাশে ছিল, আছে। বিজেপির প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি প্রমাণিত।" মহুয়া জিতবেই, হুঙ্কারও ছাড়তে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে।
ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন করার ঘটনায় মহুয়াকে বহিষ্কার করার সুপারিশ করেছিল লোকসভার এথিক্স কমিটি। ৪৯৫ পৃষ্ঠার রিপোর্ট তারা শুক্রবার জমা দেয়। গোড়া থেকেই তৃণমূল লোকসভায় আবেদন জানিয়েছিল, মহুয়াকে যাতে আত্মপক্ষ সমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। এদিনও রিপোর্ট পড়ার জন্য সময় চেয়েছিল তৃণমূল। কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির তরফেও স্পিকারের কাছে সময়ের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সময় দেওয়ার পথে হাঁটেননি স্পিকার।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mahua Moitra Expelled : ভারতীয় রাজনৈতিক জগত এই রকম একজন মহিলাকে বহিষ্কার করল কেন? তাহলে কি ভারতীয় রাজনীতিতে মহুয়ার মতো সোজাসাপ্টা কথা বলা মহিলার স্থান নেই?

লোকসভা থেকে বেরিয়েই গর্জে ওঠেন মহুয়া। তাঁর মুখে শোনা যায় নজরুলের একটি কবিতা। মহুয়া বলেন, "আমাদের বাংলায় একটা কবিতা আছে কাজী নজরুল ইসলামের। ‘অসত্যের কাছে কভু নত নাহি কর শির/ ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ, লড়ে যায় বীর।" নজরুল-কাব্যের এই দুই পংক্তি হিন্দিতে অনুবাদ করেও শোনান মহুয়া। তার পর বলেন, "এঁরা বস্ত্রহরণ শুরু করেছে। এ বার আপনারা মহাভারতের যুদ্ধ দেখতে পাবেন।" তিনি এ-ও জানান, এই ঘটনার শেষ দেখেই ছাড়বেন। আগামী ৩০ বছর লোকসভার ভিতরে এবং বাইরে লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ। তিনি জানান, লোকসভার এথিক্স কমিটিতে ‘এথিক্স’ বলে কিছুই অবশিষ্ট নেই। সব নিয়ম তারা ভেঙে ফেলেছে। মহুয়ার দাবি, "এমন একটা কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হল, যা লোকসভার সকল সদস্যের মধ্যে প্রচলিত একটি অভ্যাস। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি বা কোনও উপহার নিয়েছি, তার কোনও প্রমাণ নেই ওদের কাছে।" বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে মহুয়া এ-ও জানান, এথিক্স কমিটি ভাল করে যাচাই না করেই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে এবং শাস্তি নিশ্চিত করেছে। তাঁর কথায়, "মোদী সরকার যদি ভেবে থাকে, আমাকে এভাবে চুপ করিয়ে আদানি ইস্যু থেকে তারা মুক্তি পাবে, তবে ভুল ভাবছে।"
বরাবরই লোকসভায় সপাট সওয়াল-জবাবের জন্য বিখ্যাত মহুয়া মৈত্র। এর জন্য আগেও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। আর সেই মহুয়ার মুখ বন্ধ করেই সংসদকে বিরোধীশূন্য করতে চাইছে বিজেপি। এমনটাই অভিযোগ বিরোধীদের। লোকসভা থেকে বহিষ্কারের পর এ বার তাঁর কাছেও সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা পাঠানো হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মহুয়া। তিনি জানান, এ বার তাঁর কাছে সিবিআই আসবে। আরও ছ’মাস সিবিআই দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হবে। এর পরের পদক্ষেপ কী হতে চলেছে মহুয়ার, তা নিয়ে অবশ্য এখনও কিছু খোলসা করেনি দল। তবে ভবিষ্যতেও যে কৃষ্ণনগরের বহিষ্কৃত সাংসদকে ফের ভোটে জিতিয়ে সংসদে পাঠাতে পারেন মমতা, তা এদিন পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি।







