মিলে গেল অভিষেক-মমতার সুর, ধর্ষণ রুখতে কড়া আইন চেয়ে রাতারাতি মোদিকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর
Mamata Banerjee: চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, দেশে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোজ গড়ে ৯০টি ধর্ষণের ঘটনা হচ্ছে। এই ধরনের ‘গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল’ ঘটনা বন্ধ করতে অবিলম্বে কড়া আইন আনা প্রয়োজন।

আরজি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য, দেশ। হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট, প্রায় সর্বত্রই মুখ পুড়েছে রাজ্য সরকারের। আরজি কর মামলা নিয়ে বিক্ষোভ- আন্দোলন থেকেও বারবার উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের পদত্যাগের দাবি। বৃহস্পতিবারও সুপ্রিম শুনানিতে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য। এই পরিস্থিতিতে ধর্ষণ নিয়ে কঠোর আইন আনার দাবি করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারই নবান্নে বৈঠক করে চিঠির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দযোপাধ্যায়।
এদিন সকালেই সোশ্য়াল মিডিয়ায় ধর্ষণ রুখতে কঠোর আইন আনার কথা বলতে শোনা গিয়েছিল তৃণমূল সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সমস্ত রাজ্যের সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন, যাতে ধর্ষণ বিরোধী কঠোর আইন বলবৎ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপ দেয়। অভিষেকের সেই ডাকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সাড়া দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তড়িঘড়ি সেই আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও লিখে দিলেন তিনি। যেখানে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছেন যাতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যে দোষীর বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
গত ৯ অগস্ট আরজিকর হাসপাতালের বক্ষ বিভাগের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ। ময়নাতদন্তে মেলে নৃশংস শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রমাণ। সেই ঘটনা ঘিরে সব মহলে সমালোচনার শিকার হয়েছে রাজ্য। এমনকী ওই চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার, ঘটনাস্থল সিল করা, ময়নাতদন্তে সময় লাগানো থেকে এফআইআরে দেরি, এমনকী প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের বিরুদ্ধে। অনেকেই দাবি করেছেন, প্রশাসন কারওর অপরাধ ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আরজি কর কলেজের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে বাঁচানোর চেষ্টা করার অভিযোগও আনা হয় রাজ্যের বিরুদ্ধে। সন্দীপবাবু ইস্তফা দেওয়ার পর রাতারাতি তাঁকে রাজ্যের অন্য একটি সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্য। অবশেষে সিবিআইয়ের তদন্তের মুখে একের পর এক পর্দা উঠতে শুরু করেছে সন্দীপবাবুর বেআইনি কাজকর্মের উপর থেকে। যার জেরে বুধবার সন্দীপ ঘোষকে অপসারণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এই সব ঘটনা নিয়ে যখন কার্যত জেরবার রাজ্য সরকার, সেই আবহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, দেশে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোজ গড়ে ৯০টি ধর্ষণের ঘটনা হচ্ছে। এই ধরনের ‘গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল’ ঘটনা বন্ধ করতে অবিলম্বে কড়া আইন আনা প্রয়োজন। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে এই ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়টিও রাখা হোক আইনে। ঘটনা ঘটার ১৫ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার দাবিও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Kolkata Doctor Rape-Murder Case: স্লোগান, গানের পাশাপাশি এই আন্দোলনের চরিত্র হয়ে উঠেছে রং-তুলিও। আর তার প্রমাণ মিলবে কলেজ স্ট্রিটে গেলেই। সেখানে রাস্তা জুড়ে প্রতিবাদ এঁকে দিয়েছেন শিল্পীরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালেই কার্যত একই সুর শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো তথা তৃণমূল সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোস্যাল মিডিয়া পোস্টে। তিনি লেখেন, ‘‘এমন কঠোর ধর্ষণ-বিরোধী আইন আনতে হবে, যা ঘটনার ৫০ দিনের মধ্যে অপরাধীকে চিহ্নিত করে দোষী সাব্যস্ত করা নিশ্চিত করবে এবং তাতে দোষীকে কঠোরতম সাজা দেওয়ার নিদান থাকবে।’’ এর পর তিনি দেশে ধর্ষণের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, গত ১০ দিনে দেশে ৯০০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। প্রতি দিন ৯০টি ধর্ষণের ঘটনার রিপোর্ট লেখানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় চারটি এবং প্রতি ১৫ মিনিটে একটি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিষেক মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে দেশে ধর্ষণ-বিরোধী কঠিন আইন ‘জরুরি’ হয়ে পড়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘‘সমস্ত রাজ্যগুলির সরকারের উচিত কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে কঠোর ধর্ষণ বিরোধী আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা করা। এর থেকে বিন্দুমাত্র কম কিছু হলে, তা হবে নেহাৎই প্রতীকী এবং আদতে তাতে কোনও কাজ হবে না।’’
Over the past 10 days, while the nation has been protesting against the
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
R G Kar Hospital Incident: বিচারপতি পারদিওয়ালা রাজ্যকে প্রশ্ন করেন, অস্বাভাবিক মৃত্যু কখন দায়ের করা হয়? রাজ্য জানায়, দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছিল।
incident and demanding justice, 900 RAPES have occurred across different parts of India - DURING THE VERY TIME WHEN PEOPLE WERE ON THE STREETS PROTESTING AGAINST THIS HORRIBLE CRIME.…
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc)
রাজনৈতিক ভাবে ওয়াকিবহাল মহলের একটি অংশ মনে করেন, তৃণমূলের অন্দরে স্পষ্টত দু'টি শিবিরের অস্তিত্ব রয়েছে। যার মধ্যে একটি অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ, অন্যটি অভিষেকের। সেই শিবিরের লোকেরা যে বহুক্ষেত্রেই মমতা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের উল্টো কথা বলতে ছাড়েনি বলে দাবি একটি পক্ষের। সন্দীপের অপসারণ থেকে ডার্বি বাতিলের সিদ্ধান্ত, বহু বিষয়েই ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা। এমনকী গত দশদিনে এ বিষয়ে অভিষেক চুপ থাকায় বহু জল্পনা ঘনীভূত হয়েছিল বাংলার রাজনীতিতে। অবশেষে বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। আর কার্যত অভিষেকের সুরে সুর মিলিয়ে এদিনই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন মমতা। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই ফের শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
ইতিমধ্যেই আরজি করের ঘটনার তদন্তভার গিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে। এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় এক সিভিক ভলিন্টিয়ার। আরজি কর কাণ্ডে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যেখানে ঘটনার পরম্পরার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। রাজ্যের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষও প্রকাশ করেছে বেঞ্চ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের তরফে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ হেন চিঠি যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলেই মনে
করা হচ্ছে।
তবে গত কয়েকদিনে গোটা দেশ থেকেই একাধিক ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার মামলা উঠে এসেছে। আরজি কর মামলার আবহে সেগুলোও স্বাভাবিক ভাবেই জনগণের নজর কেড়েছে। ২০১২ সালে নির্ভয়া কাণ্ডের পর ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনে বেশ কিছু বদল এনেছিল কেন্দ্র সরকার। আরজি করের ঘটনার পরেও কি তেমন কিছু ঘটতে চলেছে ফের? সেদিকেই তাকিয়ে বাংলা তো বটেই, গোটা দেশও।






