পিছিয়ে পড়া 'জেনারেল'দের সংরক্ষণ! এই কোটায় কারা, কী কী সুবিধে পাবেন?

EWS Reservation: এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হতে গেলে বার্ষিক আয় (পারিবারিক) ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে হবে। পরিবারের ৫ একরের বেশি কৃষি জমি থাকা যাবে না। ১০০০ স্কোয়ার ফুটের বেশি জায়গা নিয়ে ফ্ল্যাট হলে চলবে না।

Ramen Das
৪ মিনিট
পিছিয়ে পড়া 'জেনারেল'দের সংরক্ষণ! এই কোটায় কারা, কী কী সুবিধে পাবেন?

পিছিয়ে পড়া! দেশের তথাকথিত সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে আর্থিকভাবে অনগ্রসর, এই তত্ত্বও সামনে এনেছিল কেন্দ্র। একাধিক দাবির উপর ভিত্তি করে, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত রচনা করে নয়া ইতিহাস। কিন্তু আর্থিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণির নির্বাচন, গঠন কাঠামো এবং সার্বিক অবস্থানের প্রয়োগ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত। মামলা ওঠে দেশের শীর্ষ আদালতে। ২০১৯-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় আইনের লড়াই। এবার একাধিক বিতর্ক জিইয়ে রেখেই এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের তরফে এর পক্ষেই এসেছে রায়। ৩-২ ফলে আদালতে জিতেছে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের তত্ত্ব। কিন্তু কী এই সংরক্ষণ? কেন বিতর্ক? কী বলছে আদালত? কী নিয়ে মতবিরোধ দেখা গেল বিচারপতিদের মধ্যেও। জানা যাক বিস্তারিত।

আদালতের 'আর্থিক রায়'

আর্থিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণির জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ নিয়ে সোমবার ৩-২ রায়ে, পুরনো সিদ্ধান্ত এবং সেই প্রেক্ষিতে নিয়ম বহাল রেখেছে দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীনেশ মহেশ্বরী, বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী, বিচারপতি জেবি পারিদিওয়ালা এই সংরক্ষণের পক্ষে মত দিলেও দেশের প্রধান বিচারপতি ইউইউ ললিত, যিনি আজই অবসর নেবেন তিনি এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দেন। এমনকী বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাটও এর বিপক্ষে মত দেন। বিচারপতি ভাট মন্তব্য করেন, "সংরক্ষণ সমান অধিকারের ক্ষেত্রে বাধা!"

যদিও এই প্রসঙ্গে পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চের অন্যতম সদস্য, বিচারপতি দীনেশ মাহেশ্বরী তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, "আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণ (EWS reservation) সংবিধান বিরোধী নয়।" তিনি আরও জানান, 'সংরক্ষণ হল ইতিবাচক পদক্ষেপের জন্য অন্যতম হাতিয়ার। সমাজে সমতা আনার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে এই সংরক্ষণ। এর মাধ্যমে কোনও কোনও অনগ্রসর বা পিছিয়ে পড়া জাতিকে সমাজের মূলস্তরে আনার উপায় হতে পারে এই সংরক্ষণ।"

প্রবীণ এই বিচারপতির মন্তব্য, "আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণের বিষয়টি ভারতীয় সংবিধানকে লঙ্ঘন করে না। ৫০ শতাংশ (যা দেশের সংরক্ষণের শতাংশের ঊর্ধ্বসীমা) পার করলেও সংবিধানের মূল কাঠামো লঙ্ঘিত হত না।" বিচারপতি আরও জানান, "এর কারণ শুধুমাত্র ১৬ (৪)এবং (৫) ধারার জন্য সর্বোচ্চসীমা ধার্য হয়েছে।"

বিচারপতি মহেশ্বরীর ব্যাখ্যা, অর্থের অবস্থার উপর ভিত্তি করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য এই সংরক্ষণের বিষয়টি সংবিধানের মূল ভিত্তিকে লঙ্ঘন করে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অভাবনীয় বৃদ্ধি সম্পত্তির! উইপ্রো, নেসলে, ওএনজিসির থেকেও ধনী তিরুপতি মন্দির

Tirupati Balaji Temple Asset: তিরুপতি মন্দির সম্পদের দিক থেকে দেশের বৃহত্তম কোম্পানি যেমন উইপ্রো, নেসলে এবং ওএনজিসিকেও ছাড়িয়ে গেছে। সোজা কথায়, তিরুপতি মন্দির দেশের এই তিনটি বড় কোম্পানির থেকেও ধনী।

এদিকে প্রায় একই মত পোষণ করেন বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীও। তিনি জানান, "সাধারণ শ্রেণির সঙ্গেই তাঁদের সমান বিচার করা ঠিক নয়। আর এই ধরণের বিভাগের ফল হিসেবে কখনওই সমান অধিকারের নিয়ম লঙ্ঘিত হয় না।"

আদালতে মামলা হলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিকবার নিজেদের মতামত জানায় কেন্দ্র। সংবিধানের ১০৩তম সংশোধনীকে চ্যালেঞ্জ একাধিক মামলা দায়ের হয়। উল্লেখ্য, এই সংশোধনীর আওতায় ছিল আর্থিকভাবে দুর্বল, এমন শ্রেণির জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ, যেখানে সংবিধানের ১৫ (৬) এবং সংবিধানের ১৬ (৬) ধারাকে অস্ত্র করা হয়।

মামলাকারীদের দাবি

অভিযোগ করা হয়, এই সিদ্ধান্তে সমান অধিকারের সাংবিধানিক অধিকার মানছে না কেন্দ্র। বলা হয়, ভারতের সংবিধানের ৪৬ নম্বর ধারায় 'শ্রেণি' হিসেবে শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির কথা বলা হলেও সেখানে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির কথা বলা হয়নি।

কী এই কোটা?

৭ জানুয়ারি, ২০১৯ সাল। দেশজুড়ে সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার দাবি এবং নানা বিতর্কের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট বা মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য দেশে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা হবে। যার ফলে শিক্ষা, চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবে এই অংশও যাঁরা মূলত সাধারণ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এতদিন। বার্ষিক ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় হলে এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া যাবে।

৮ জানুয়ারি, ২০১৯। সংসদে পেশ হয় ১২৪ তম সংবিধান সংশোধনী বিল। সেদিনই পাশ হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাহাকার, মৃত্যু, কান্না! ফিরে দেখা নোটবন্দির বিভীষিকাময় দিনগুলো

Demonetisation: রাত পোহালেই নোট বাতিলের জন্মদিন! ৬ পূর্ণ করে ৭-এ পা দেবে সে! কিন্তু উচ্ছ্বাস?

তারপর ৯ জানুয়ারি রাজ্যসভায় পাশ হয় এই বিল। এদিনই ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি নামের একটি সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দেশের শীর্ষ আদালতে।

১২ জানুয়ারি স্বাক্ষর করেন দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

১৪ জানুয়ারি, ২০১৯। সংবিধানের ১৫ (৬) এবং ১৬ (৬) ধারার অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকার আনে প্রস্তাব। যা এই সংরক্ষণ বিষয়ক সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেবে।

২৫ জানুয়ারি, ২০১৯। দেশের শীর্ষ আদালত এই সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখতে অস্বীকার করে। এই মামলার বিচারে তৈরি হয় পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ।

কেরল ও মহারাষ্ট্র সরকারের স্বীকৃতি

কেরল সরকার কিছু নিয়মের বদল এনেও একপ্রকার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে দাঁড়ায়। সে রাজ্যে চালু হয় এই নিয়ম।

মহারাষ্ট্র সরকারের তরফ থেকে ২০২১ সালের জুন মাসে এর প্রয়োগ ঘটে একাধিক ক্ষেত্রে।

কেন্দ্রের নিয়ম

এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হতে গেলে যা যা লাগে;

বার্ষিক আয় (পারিবারিক) ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে হবে।

পরিবারের ৫ একরের বেশি কৃষি জমি থাকা যাবে না।

১০০০ স্কোয়ার ফুটের বেশি জায়গা নিয়ে ফ্ল্যাট হলে চলবে না।

বাড়ি হতে হবে ১০০ স্কোয়ার ইয়ার্ডসের মধ্যে। পৌর এলাকার ক্ষেত্রে এই নিয়ম।পৌর এলাকা না হলে এই আয়তন ২০০ ইয়ার্ড পর্যন্ত হতে পারে।

সাধারণ শ্রেণির হতে হবে, যাঁরা অন্য কোনও সংরক্ষণের আওতায় নেই। বয়স শিক্ষা ক্ষেত্রে ১৮-এর নিচে হলেও হবে। চাকরির ক্ষেত্রে ১৮ হতে হবে।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।