কেউ বলে ফেরার, কেউ বলে কুবের! ললিত মোদির সম্পত্তির পরিমাণ জানলে চোখ কপালে উঠবেই

ললিত মোদি আইপিএল-এর জনক। আইপিএল-এর প্রথম চেয়ারম্যান এবং কমিশনারও ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বর্তমানে লন্ডনে বসবাসকারী এই শিল্পপতির সম্পত্তির পরিমাণ শুনলে চোখ মাথায় উঠবে।

ললিত মোদি এবং সুস্মিতা সেন নিজেদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অকপট সামাজিক মাধ্যমে। এই নিয়ে আন্তর্জালে নানারকম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ অভিনন্দন জানিয়েছেন, কেউ কেউ আবার ফেরার আসামির সঙ্গে সুস্মিতার সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ। ললিত মোদি আইপিএল-এর জনক। আইপিএল-এর প্রথম চেয়ারম্যান এবং কমিশনারও ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বর্তমানে লন্ডনে বসবাসকারী এই শিল্পপতির সম্পত্তির পরিমাণ শুনলে চোখ মাথায় উঠবে।

ললিত মোদির জন্ম ২৯ নভেম্বর ১৯৬৩ সালে, দিল্লিতে। তাঁর পরিবার বরাবরই ব্যবসায়ী পরিবার। কৃষণকুমার মোদির বড় ছেলে ললিত মোদি ‘মোদি এন্টারপ্রাইজেস’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন। ‘মোদি এন্টারপ্রাইজেস’ তাঁদের পারিবারিক বাণিজ্যিক সংগঠনের নাম।

সেসময় তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৪৫৫৫ কোটি টাকা। তিনি গডফ্রে ফিলিপ্স ইন্ডিয়ার একজিকিউটিভ ডিরেক্টরও হয়েছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আইপিএল-এর প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনিই প্রথম পঞ্চাশ ওভারের ঘরোয়া লিগের চিন্তাভাবনা নিয়ে বিসিসিআই-এর কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিসিসিআই সে-ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহ দেখায়নি। পরে ২০০৭ সালে ভারত যখন টি-টোয়েন্টির প্রথম বিশ্বকাপ জিতল, তখন ফের বিসিসিআই-এর কাছে আইপিএলের আইডিয়া নিয়ে ছুটে যান ললিত। এবার মঞ্জুর হয়।

আরও পড়ুন: ড্রাগ থেকে প্রতারণা, সুস্মিতার জীবনসঙ্গী ‘ফেরার’ ললিত মোদির জীবন ভরা বিতর্কে

বছরদুয়েকের মাথায় বিসিসিআই থেকে তাঁকে টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে লন্ডনে পালিয়ে যান তিনি। বর্তমানে ১২,০০০ কোটি টাকার মালিক ললিত বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। লন্ডনের সোলান স্ট্রিটে তাঁর বাড়িটিকে অট্টালিকাই বলা চলে। পাঁচতলা বাড়িটির ৭০০০ স্কোয়ারফিট জায়গার ওপর, ১৪টি ঘর রয়েছে, রয়েছে একটি এলিভেটরও। সাতটি বাথরুম, দু'টি গেস্ট রুম, চারটে রিসেপশন রুম, দু'টি রান্নাঘর নিয়ে চমৎকার এই অট্টালিকা। ললিত মোদির সম্পত্তির একটি বড় পরিমাণ অংশ দখল করে রয়েছে এই বাড়িটি।

ললিত মোদির মোট সম্পত্তির আরেকটি বড় অংশ হল তাঁর দামি দামি গাড়ি। ফেরারি আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিলাসবহুল জীবন অবাক করবে। তাঁর গ্যারেজে রয়েছে বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজের গাড়িগুলি, ম্যাকলার্ন ৭২০এস, ফরারি এফ১২ বার্লিনেত্তা, বেন্টলি মালসেন স্পিড এবং ফরারি ৪৮৮ পিস্তা স্পাইডার।

ললিত মোদির বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি তাঁর আয়ের মূল মাধ্যম। পারিবারিক ব্যবসা শুরু করেছিলেন তাঁর ঠাকুরদা গুজরমল মোদি ১৯৩৩ নাগাদ। এখন তার সবটা ললিত মোদিই দেখাশোনা করেন। রাসায়নিক, ফ্যাশন, হেলথ কেয়ার, খুচরো ব্যবসা, স্যালন, পর্যটন, পার্সোনাল কেয়ার, বিনোদন এবং এফএমসিজি-র ব্যবসা রয়েছে তাঁর। মোদিকেয়ার, গডফ্রে ফিলিপ, কালারবার, পান বিলাস পান মশলা, বিকন ট্রাভেলস, কেকে মোদি এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট এবং ইগো ইতালিয়ান রেস্তোরাঁ— এই সমস্ত ব্র্যান্ডের মালিক ললিত মোদি। ললিত মোদি একটি বিনোদন নেটওয়ার্কেরও মালিক, তার নাম মোদি এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্ক। ১৯৯৩ সালে ললিত মোদিই এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থাটিই ওয়াল্ট ডিজনির সহযোগিতায় ভারতে ডিজনির কনটেন্টগুলি সম্প্রচারিত করতে শুরু করে। ১৯৯৪ সালে মোদি ইএসপিএন-এর ভারতজোড়া পরিবেশক হয়েছিলেন।

 

More Articles

;