আরজি কর কাণ্ডে মমতার মুখেও 'রাম-বাম'! দুষ্কৃতীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে উঠছে যে প্রশ্ন
vandalism at Kolkata's RG Kar Hospital: স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মহিলাদের রাত দখলের কর্মসূচির দিনই কেন হামলা চালাতে হল? এই দুষ্কৃতীদের রাজনৈতিক পরিচয় কী?

আরজি করের মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে স্বাধীনতার মধ্যরাতে চলছিল প্রতিবাদ কর্মসূচি। বুধবার রাত্রি ১২ টায় আরজি করের দিকে আসছিল সেই কর্মসূচির মিছিল। তার মধ্যেই আরজি করে হামলা চালানো হয়। হাসপাতালে রীতিমত তাণ্ডব চলে। এই নিয়ে কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, হামলাকারীদের হাতে ছিল রড এবং লাঠি। নিমেষের মধ্যে ওই বিভাগের কোলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলা হয়। তাঁদের টার্গেট ছিল জরুরি বিভাগ। কিন্তু যেই ঘর থেকে মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল সেখানে তাঁরা ঢুকেছিল কি না সে নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টার, এইচসিসিইউ, সিসিইউ, ওষুধের দোকান ভেঙে ফেলা হয়। ইএনটি বিভাগে তছনছ করে তবেই ক্ষান্ত হামলাকারীরা। হাসপাতালের ভিতরে আন্দোলনকারীদের যে ধরনা মঞ্চ ছিল তাতেও হামলা চালানো হয়!কলকাতা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হয়, আহত হন বহু পুলিশকর্মী। এই দুষ্কৃতীদের মুখ চিহ্নিত করে সোশ্যাল মিডিয়াতেই সন্ধান চেয়েছিল কলকাতা পুলিশ। ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।
আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামলা সামাল দিতে ব্যর্থ পুলিশবাহিনী। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঠগড়ায় 'রাম-বাম'। প্রতিবছরই স্বাধীনতা দিবসের দিন রাজভবন যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতি মেনে এবারেও গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং কলকাতার পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ একাধিক আধিকারিকেরা। সেখান থেকে বেরিয়েই মুখ্যমন্ত্রী বুধবার রাতে আরজি করের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি যতটুকু তথ্য পেয়েছি, আমি ছাত্রছাত্রীদের কোনও দোষ দিচ্ছি না। বহিরাগত কিছু রাজনৈতিক লোক যারা বাংলায় অশান্তি চান, রাম এবং বাম একত্রিত হয়ে গণ্ডগোল করেছে।' তিনি আরও বলেন, "গতকাল আরজি করে যে ক্ষতি হয়েছে, যারা এই তাণ্ডব করেছে, তারা কিন্তু আরজি করের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নয়। আমার যতদূর মনে হয় এরা আউটসাইডার। বিজেপি ছিল। কারও হাতে ডিআইএফআইয়ের পতাকা। আমার কাছে তিনটে ভিডিও আছে দেখছি।" তদন্তের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আদালতও নির্দেশ দিয়েছে, যাঁরা পরিষেবা দিচ্ছে না তাঁরা কাজে যোগ দিন। আমাদের তরফ থেকে বহুবার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি অনুরোধ জানিয়েছেন। আমিও অনুরোধ করেছি যতটা সম্ভব । আজও অনেকে পরিষেবা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন। তাঁদের ক্ষমতা নেই। বিনা পয়সায় হাসপাতালে চিকিৎসা পান। মারা গিয়েছেন কয়েকজন শুনলাম। বাচ্চা থেকে প্রসূতি মা বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছেন শুনলাম। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবে কিছু জুনিয়র ডাক্তার, সিনিয়র কোথাও কোথাও ইমারজেন্সি করছেন। আমি তাঁদের অনেক ধন্যবাদ জানাই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Kolkata Doctor's Rape and Murder: এদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘পুলিশ নিজেকে রক্ষা করতে পারছে না। জনতাকে ঠেকাতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা কী ভাবে রক্ষা করবে?’’
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মহিলাদের রাত দখলের কর্মসূচির দিনই কেন হামলা চালাতে হল? এই দুষ্কৃতীদের রাজনৈতিক পরিচয় কী? সে দিন রাতের ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, হামলাকারীরা হাফ প্যান্ট এবং গেঞ্জি পরে রয়েছে। তারা স্থানীয় এমন ভাবার কারণ কিন্তু থাকছেই। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশ একটি ফেসবুক পোস্ট করে জানায় সেমিনার রুমে কোনো তথ্য বিকৃত হয়নি। অভিযুক্তদের ছবি পোস্ট করে তাদের সন্ধান চেয়েছিল পুলিশ। প্রশ্ন উঠছে, কেন অভিযুক্তদের সন্ধান করতে জনসাধারণের সাহায্য চাইল পুলিশ? অন্যদিকে, এটা সন্দেহভাজনদেরই জানিয়ে দেওয়া নয়, যে তাদের খোঁজা হচ্ছে? যেখানে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যায় অভিযুক্তদেরই চিহ্নিত করতে ব্যর্থ পুলিশ, সেখানে হামলাকারীদেরই আটক করা হবে তো? নাকি আবার সাজানো ঘটনা? প্রশ্ন থাকছেই। যদিও সন্দেহভাজন ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছিল, হামলাকারীরা তিনতলার সিল করা দরজা লাঠি-বাঁশ দিয়ে ভেঙে ফেলে। অনেকেই মনে করছেন, থার্ড ফ্লোর বলতে অনেকেই তিনতলা মনে করেন। এখানেই দুষ্কৃতীরা ভুল ফ্লোরে গিয়ে ভাঙচুর করে ফেলেছে।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar Rape Protest Vineet Goyal: সিপি বিনীত গোয়েল এই সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে বলেছেন, "আমরা কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করিনি"।
সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, "কালকের ঘটনার দু'টো দিক আছে। একদিকে হাজার হাজার লাখো লাখো মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বিচারের বাণী যাতে নিভৃতে না কাঁদে, তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণা উগড়ে দিয়েছেন এবং দাবি জানিয়েছেন। লাখো লাখো সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানাই। এই আন্দোলন দাবি এই স্বতঃস্ফূর্ততা মিছিলকে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের বলে দাবি করতে পারবে না। এটা সাধারণ মানুষের কৃতিত্ব। আর অন্যদিকে পুলিশের উপস্থিতিতে ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্ত যে তাণ্ডব চালিয়েছ এবং কলকাতা পুলিশ নক্করজনক ভূমিকা পালন করেছে, তার বিচার চাইছি। এর দায় কলকাতা পুলিশকে নিতে হবে। কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে পদক্ষেপ করতে হবে। এ বিষয়ে আমারা নতুন করে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেব। সঠিক বিচার যাতে পাই, তার জন্য আন্দোলন জারি রাখা হবে।" সেলিমের অভিযোগ, 'পুলিশ এক্স হ্যান্ডেলে প্রথমে বলে রাজনীতি। তারপর সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করে। পুলিশ কি রাজনীতি করছে?'
প্রশ্ন আগেই উঠেছিল, সরকারি মেডিক্যাল কলেজে টেন্ডার বা লিখিত নির্দেশ ছাড়া কীভাবে সংস্কারের কাজ শুরু হল? আর এই নির্দেশই বা দিয়েছিল কে? আসল উদ্দেশ্য কী তবে একটাই, তথ্য লোপাট? পর্যবেক্ষকদের দাবি, এই তথ্য লোপাটেই মরিয়া হয়ে উঠেছে শাসকশিবির। পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যে হাসপাতালেও হামলা চালাতে হচ্ছে! প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কতটা দুর্নীতি করে থাকলে, এই ভাবে সাফাই অভিযানে নামতে হয়? প্রথম থেকেই আঙুল উঠছে, সদ্য প্রাক্তন প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং স্বাস্থ্য দফতরের প্রধানদের দিকে।







