বাস্তুমতে লাফিং বুদ্ধ আপনারা ভাগ্য বদলে দিতে পারে, জেনে নিন যে নিয়মগুলি মানতেই হবে

Piya Saha
৩ মিনিট
বাস্তুমতে লাফিং বুদ্ধ আপনারা ভাগ্য বদলে দিতে পারে, জেনে নিন যে নিয়মগুলি মানতেই হবে

ঘরের অন্দরমহলকে সাজাতে আমরা অনেকেই বিভিন্ন মূর্তি, শো-পিস ব্যবহার করে থাকি। প্রায় বাড়িতেই বসার ঘরে কিংবা বেডরুমে লাফিং বুদ্ধের মূর্তি রাখতে দেখা যায়। দেখাদেখি আপনিও হয়তো লাফিং বুদ্ধের মূর্তি কিনবেন বলে পরিকল্পনা করেছেন । কিন্তু নিশ্চিত হতে পারছেন না কোনটা কিনবেন? জেনে নিন বাস্তু মতে কোন মূর্তি বাড়িতে রাখা শুভ। বাস্তু শাস্ত্র হল ভারতের প্রাচীন জ্ঞানদর্শন যা আপনার বাসস্থান থেকে নেতিবাচক (নেগেটিভ) শক্তিকে দূর করে ও ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটায় ফলে আপনার জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। বাড়িতে একটি লাফিং বুদ্ধমূর্তি থাকলে তা সুখ, সমৃদ্ধি ও সম্পদকে স্বাগত জানায়। বাস্তুবিদরা বিশ্বাস করেন এভাবে আপনার জীবন থেকে মুছে যেতে পারে দুঃখ দুর্দশা। তবে এক্ষেত্রে সেটিকে সঠিক দিক ও অবস্থানে রাখা বাধ্যতামূলক।

লাফিং বুদ্ধ মূর্তির তাৎপর্য

প্রকৃতপক্ষে লাফিং বুদ্ধ ও গৌতম বুদ্ধের মূর্তির মধ্যে পার্থক্য বিস্তর। অনেকে লাফিং বুদ্ধর মূর্তিকে বুদাই বলেও থাকেন। আদতে লাফিং বুদ্ধ হলেন ১০ তম শতাব্দী থেকে পরিচিত একজন চিনা সন্ন্যাসী। বাড়িতে লাফিং বুদ্ধের মূর্তি রাখলে তা আপনাকে জীবনের বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে সুখী হতে সাহায্য করবে। বাস্তু শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে লাফিং বুদ্ধের মূর্তির সাথে ভারতীয় সম্পদের দেবতা কুবেরের মিল আছে তাই বাড়িতে এই মূর্তি স্থাপন আপনাকে আর্থিক সমৃদ্ধি দিতে পারে।

লাফিং বুদ্ধের মূর্তি ধাতু, কাঠ এবং চিনামাটি সহ একাধিক উপকরণে পাওয়া যায়। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হলুদ রঙের হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আপনি যদি প্রতিদিন এই মূর্তির পেট স্পর্শ করেন তবে আপনার সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হবে। ফেং শুই অনুসারে, আপনার বাড়ির লাফিং বুদ্ধ আপনাকে ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে উঠে জীবনে আরও সম্প্রীতি এবং সমৃদ্ধি আনতে সাহায্য করে। বাজারে বিভিন্ন রঙের লাফিং বুদ্ধের মূর্তি পাওয়া যায়। তবে সবকটির কাজ ও তাৎপর্য এক নয়। রঙ ভেদে বদলে যায় এর গুরুত্ব ও কাজ।

লাফিং বুদ্ধ মূর্তির রঙ

১. সোনালী হলুদ: লাফিং বুদ্ধের মূর্তিটির এই রঙটি সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। এই রঙের মূর্তি ঘরে রাখলে তা বাড়ির আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটায়।

২. কালো: এই রঙে লাফিং বুদ্ধ জ্ঞান এবং তরলতার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি চীনা সংস্কৃতিতে জলের উপাদানের সাথেও যুক্ত।

৩. লাল: লাল রঙের লাফিং বুদ্ধের মূর্তি আগুনের সাথে যুক্ত যা আবেগ, সৌভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং অনুপ্রেরণা যোগায়।

৪. সবুজ: এই রঙের মূর্তি বাড়িতে স্থাপন করলে তা বাড়ির সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বাড়ির আর্থিক সমৃদ্ধি ও ঘটে।

৫. সাদা বা সিলভার: লাফিং বুদ্ধের এই বিশেষ রঙ শান্তি, সম্পদ এবং সুখকে বোঝায়।ফলে বাড়িতে এই মূর্তি রাখলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুখ শান্তি বিরাজ করে।

-লাফিং বুদ্ধ মূর্তির বিভিন্ন রূপ

১. ঝোলা হাতে লাফিং বুদ্ধ: বাস্তুবিদদের মতে লাফিং বুদ্ধের এমন মূর্তি আপনার সব দুঃখ কষ্ট দূর করে বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে।

২. সমৃদ্ধির পুঁতি হাতে লাফিং বুদ্ধ: লাফিং বুদ্ধের এই মূর্তিটি আধ্যাত্মিকতাকে প্রতিফলিত করে ও বাড়িতে সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। এটিও বিশ্বাস করা হয় যে পুঁতির ব্রেসলেট জ্ঞানের প্রতীকগুলির মধ্যে একটি।

৩. বিশ্রামরত লাফিং বুদ্ধ: বিশ্রামরত এই মূর্তি সৌভাগ্যের সাথে জড়িত। জীবনে সুখ স্বাচ্ছন্দ্যও বাড়িয়ে তোলে।

৪. পাখা হাতে লাফিং বুদ্ধ: দুহাতে পাখা ধারণকারী এই মূর্তি সুস্বাস্থ্যের নির্দেশ করে। এই মূর্তি বাড়িতে রাখলে বাড়ির সদস্যদের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

দিকনির্দেশ:

১. পূর্ব দিক: এই দিকে মূর্তি স্থাপন করলে তা পরিবারে সমৃদ্ধি, সম্প্রীতি ও সুখ বজায় থাকে।

২.দক্ষিণ পূর্ব: দক্ষিণ পূর্ব দিকে লাফিং বুদ্ধের মূর্তি রাখলে তা আরও বেশি আর্থিক সমৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৩. উত্তর পূর্ব: বাড়ির উত্তর পূর্ব দিকে এই মূর্তি স্থাপন করলে তা জ্ঞান অর্জন করতে সাহায্য করে এবং কনসেন্ট্রেশন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।পাশাপাশি নেতিবাচক শক্তিকে ঘর থেকে দূর করে তাই অনায়াসেই আপনারা সন্তানের পড়ার ঘরে রাখতে পারেন লাফিং বুদ্ধের মূর্তি।

অফিস ডেস্কে লাফিং বুদ্ধ

আপনার অফিস ডেস্কে লাফিং বুদ্ধের অবস্থান আপনার কর্মজীবনে বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী কমাতে সাহায্য করে। যখন ছাত্রদের কথা আসে, লাফিং বুদ্ধকে তাদের নিজ নিজ পড়ার টেবিলে রাখার ফলে একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব পাওয়া যায়।

ভুলেও করবেন না-

বাস্তুবিদরা বলেন,

১. কখনই রান্নাঘর ও বাথরুমে লাফিং বুদ্ধের মূর্তি স্থাপন করবেন না।

২. কখনই সরাসরি মেঝেতে রাখবেন না লাফিং বুদ্ধের মূর্তি।

৩. চেষ্টা করুন মূর্তির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে।

৪. কোনও বৈদ্যুতিক আউটলেটের সামনে ভুলেও এই মূর্তি স্থাপন করবেন না। মনে করা হয় এমন ক্ষেত্রে আপনার সুখ সমৃদ্ধি সবই আটকে যায় ফলে আপনার স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হয়।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।