রাগ নেই, অশান্তি নেই, নেই মনখারাপ! জানেন, ভারতের সবচেয়ে সুখী রাজ্য কোনটি?

Happiest State of India: মিজো সমাজ বর্ণহীন সমাজ। পড়াশোনার জন্য বাবা মায়ের চাপও এখানে কম।

inscript
২ মিনিট
রাগ নেই, অশান্তি নেই, নেই মনখারাপ! জানেন, ভারতের সবচেয়ে সুখী রাজ্য কোনটি?

চাকরি নেই, শিক্ষা নেই, টাকা নেই, মাথার উপর ছাদ নেই, পরিবেশ গোল্লায় গিয়েছে, জীবনে শান্তি নেই, মনে সুখ নেই- আস্ত এক নেই-রাজ্যে অথবা নেই-রাষ্ট্রে তবু মানুষ অভ্যাসে দিনাতিপাত করছে। সুখহীন, শান্তিহীন জীবনের জাঁতায় নিজেদের পিষতে পিষতে ছিবড়ে করে ফেলছে। ভাবছে, এ পোড়াদেশ ছেড়ে চলে যাবে, কোথায় যে যাবে জানা নেই। তবে সবসময়ই যে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে এমন না, ওই একটি ধানের শিষের উপর যে শিশির বিন্দু দেখা হয়নি- তাহার দিকেও কিঞ্চিৎ তাকানো যায়। তাকালেই জানা যাবে, এমন অসুখী নয় সকলে। এই ভারতেই আছে এমন রাজ্য যেখানে মানুষজন দিব্যি খুশি থাকেন সবসময়। গুরুগ্রামের ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের কৌশলের অধ্যাপক রাজেশ কে পিলানিয়া পরিচালিত একটি সমীক্ষা বলছে, মিজোরামই দেশের সবচেয়ে সুখী রাজ্য।

ওই সমীক্ষা অনুসারে, উত্তর পূর্বের রাজ্যটি ১০০ শতাংশ সাক্ষরতা অর্জনের ক্ষেত্রে ভারতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছে এই রাজ্যের পড়ুয়ারা৷ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "মিজোরামের সুখের সূচকটি পারিবারিক সম্পর্ক, কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা, সামাজিক সমস্যা এবং জনহিতৈষী কাজ, ধর্ম, সুখের উপর COVID-19 এর প্রভাব এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সহ ছয়টি মাপকাঠির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।"

"মিজোরামের আইজলের গভর্নমেন্ট মিজো হাই স্কুলের একজন পড়ুয়াকে শৈশবে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তাঁর বাবা ছোটবেলাতেই পরিবার ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও, পড়ুয়াটি আশাবাদী এবং পড়াশোনায় ছেদ পড়তে দেয়নি। সে আশাবাদী যে, যদি তার প্রথম পছন্দ অনুযায়ী কাজ না পায় সে তাহলে ভবিষ্যতে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হবে বা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসবে," লেখা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোন দেশের মানুষের জীবনে দুঃখ নেই, বঞ্চনা নেই? বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ এইটিই...

World Happiness Report: আর ভারতবর্ষ? নেপাল, চিন, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কারও নিচে তার ঠাঁই।

একইভাবে, ওই স্কুলেই দশম শ্রেণির একজন পড়ুয়া, ন্যাশনাল ডিফেন্স আকাডেমিতে (NDA) যোগ দিতে চায়। তাঁর বাবা একটি দুধের কারখানায় কাজ করেন এবং মা গৃহবধূ। দু'জনেই সন্তানের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। "আমাদের শিক্ষকরা আমাদের সেরা বন্ধু, আমরা তাঁদের সঙ্গে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে, বা জানাতে ভয় পাই না বা লজ্জিত হই না," জানিয়েছে এক মিজো ছাত্র। মিজোরামের শিক্ষকরা নিয়মিত পড়ুয়া এবং তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করেন। যে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন সমাধানের উদ্দেশ্যে।

মিজোরামের সামাজিক কাঠামোও বাসিন্দাদের সুখের অন্যতম কারণ। মিজো সমাজ বর্ণহীন সমাজ। পড়াশোনার জন্য বাবা মায়ের চাপও এখানে কম। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিজো সম্প্রদায়ের প্রতিটি শিশু, লিঙ্গ নির্বিশেষে, তাড়াতাড়ি উপার্জন করতে শুরু করে।

মিজোরামে কোনও কাজকেই ছোট বলে মনে করা হয় না। সাধারণত ১৬ বা ১৭ বছর বয়স থেকেই নানা কাজ করে উপার্জন করতে শুরু করেন যুবক যুবতীরা। মেয়ে এবং ছেলেদের মধ্যে কোনও বৈষম্য নেই এই রাজ্যে।

মিজোরামে প্রচুর ভাঙা পরিবার রয়েছে। বাবা ছেড়ে গিয়েছেন, মা নেই। পরিবার একসঙ্গে নেই কিন্তু এই রকম পরিস্থিতিতেও ছোটবেলা থেকেই আর্থিক স্বাধীনতার দিকটি শিশুর কাছে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। শিশুদের যত্ন থেকেও বঞ্চিত রাখা হয় না। ছেলে হোক বা মেয়ে- সবাইকেই জীবিকা অর্জনের জন্য উদবুদ্ধ করা হয় এবং এখানে কেউই অন্যের উপর নির্ভরশীল নয়। সুখে থাকার জন্য জীবনে স্বাধীনতা কতখানি প্রয়োজন জীবন দিয়েই তা অনুভব করেন মিজোরা। তাই দেশের সবচেয়ে সুখে থাকা মানুষ তাঁরাই, অনন্ত পাওয়া, না-পাওয়ার মাঝে লক্ষ্যে অবিচল!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।