নিজেই শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত! নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া শুভঙ্কর হালদার আসলে কে?
Subhankar Halder Nabanna Abhiyan: পড়াশোনার ল্যাঠা চুকে গেলেও ছাত্রদশা অনেকেরই আজীবন ঘোচে না। শুভঙ্করও তেমনই।

আরজি করে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল এই ডাক বোধকরি বাম ছাত্র যুব সংগঠনের ডাকা। পরে ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন এই নবান্ন অভিযান তাঁদের কর্মসূচিই নয়। অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযানে সমর্থন জানিয়েছেন। তাহলে ছাত্রসমাজ কারা? এই ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে থাকা কতিপয় মুখ সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসেন। তাঁদেরই একজন হলেন শুভঙ্কর হালদার। কোন সংগঠন করেন তিনি? কোথাকার ছাত্র?
বেশ বর্ণবৈচিত্র্যময় তাঁর ছাত্রজীবন। পড়াশোনার ল্যাঠা চুকে গেলেও ছাত্রদশা অনেকেরই আজীবন ঘোচে না। শুভঙ্করও তেমনই। এককালে শাসকদল তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি করতেন তিনি। দেশে দ্বিতীয় দফায় বিজেপি আসার পর তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। বৈচিত্র্যের এখানেই ইতি নয়। নবদ্বীপের বাসিন্দা শুভঙ্কর হালদারের নিজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে! আর তিনিই সেই ছাত্র সমাজের মুখ যারা নাকি আরজি করের চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন। হতেই পারে, বড়ি বড়ি দেশো মে...
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar Hospital Incident: ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে ভিড়ে ঠাসা একটি ঘরের ছবি। অন্তত জনা তিরিশেক মানুষ জটলা করে রয়েছেন সেখানে। কেউ সেখানে দাঁড়িয়ে, কেউ বা হাঁটাচলা করছেন।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিল এই পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ। যদিও সেই সমাজে ছাত্রীর সংখ্যা চোখেও পড়ে না। যে একমাত্র ছাত্রী ছিলেন, তিনি আবার বলে ফেলেছেন হিস্ট্রিতে এমবিএ করছেন তিনি! ফলে তাঁর 'ছাত্রীত্ব' নিয়ে আশঙ্কা অমূলক নয়। শাসকদল তৃণমূল বলছে, এই শুভঙ্কর হালদারের বিরুদ্ধে নবদ্বীপ থানায় শ্লীলতাহানির মামলা রয়েছে। যদিও শুভঙ্কর বলছেন, বাংলায় বিরোধী রাজনীতি করতে গেলে সকলের বিরুদ্ধেই শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। সেভাবেই শাসক তৃণমূলের বিরোধিতা করায় তাঁর বিরুদ্ধে এমন 'মিথ্যা' মামলা দেওয়া হয়েছে। এই একটি মাত্র না, তাঁর বিরুদ্ধে নাকি ৩০-৩২টি মামলা রয়েছে। পেশায় শিক্ষক হলেও তিনি 'ছাত্র', দাবি করেছেন শুভঙ্কর। আর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন এবিভিপি করতেন তিনি। কিন্তু তাঁর দাবি, এবিভিপি কোনও রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন নয়। এটি আরএসএসের শাখা। আর তিনি রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সঙ্ঘের স্বয়ংসেবক হিসাবে গর্বিত!
অর্থাৎ বিজেপির মতাদর্শিক 'অরাজনৈতিক' আরএসএস-অন্ত প্রাণ তিনি। অথচ তিনি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন করেন না। তিনি শিক্ষক, তাও তিনি ছাত্র। তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ অথচ তিনিই ধর্ষণ বিরোধী অভিযানের মুখ! এমন বিচিত্র মানুষ এতদিন কোথায় ছিলেন? যখন ১৪ অগাস্ট সারা রাজ্যের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পথে নামে, তখন তিনি ও তাঁর ছাত্রসমাজ কীসের অপেক্ষা করছিলেন? একটি টেলিভিশন চ্যানেলে শুভঙ্কর জানিয়েছেন, গত ১, দেড় সপ্তাহে কী কী হয়েছে তিনি জানেন না কারণ তিনি সংবাদ, টিভি খুব একটা দেখতে পারেননি! তাহলে আরজি কর কাণ্ডে কী কী ঘটছে তা না জেনেই পথে নামছেন তিনি? এত বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন অথচ ১ সপ্তাহ খবর দেখারই সময় হয়নি তাঁর!
শুভঙ্কর হালদার বলছেন, ‘‘মঙ্গলবারের অভিযান বা তার পরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হলে বা আমার প্রাণহানি হলে তার জন্য দায়ী থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ আর নিজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির প্রশ্ন উঠতেই মেজাজও হারিয়েছেন তিনি। হুমকির সুরে বলেছেন, "৩৭৬ ধারায় মামলার প্রমাণ দেখাতে পারলে, আমিও দেখে নেব।” এমন মানুষ ছাত্রসমাজের মুখ হয়ে রাস্তায় নামছেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণ না হোক বা হোক, শ্লীলতাহানির অভিযোগ থাকা একজনকেই শেষে নেতৃত্ব হিসেবে খুঁজে পাওয়া গেল? প্রশ্ন জাগে, ছাত্রসমাজের এমন করুণ দশার জন্য কারা দায়ী!















