ইউক্রেনের এই 'ভূত'-এর ভয়ে কাঁপছে রাশিয়া, আসল ঘটনা জানলে শিউরে উঠতে হয়

rudranjan
৩ মিনিট
ইউক্রেনের এই 'ভূত'-এর ভয়ে কাঁপছে রাশিয়া, আসল ঘটনা জানলে শিউরে উঠতে হয়

তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল রহস্য। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাঁকে ‘দ্য ঘোস্ট অফ কিভ’ আখ্যা দিয়েছে। কিভের এই ‘ঘোস্ট’ বা ভূতের মৃত্যুর প্রায় দু'মাস পর ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, তাঁর আসল নাম মেজর স্টেপান তারাবালকা। মৃত্যুর আগে এই ইউক্রেনীয় বিমানযোদ্ধা একা হাতে অন্তত ৪০টা রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। সূত্র মারফৎ জানা যায়, রুশ বিমানবাহিনীর গুলিতে স্টেপানের মৃত্যুর পর প্রায় একমাস তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্টেপানের সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে ইউক্রেনবাসী তাঁর নাম দিয়েছেন ‘দ্য গার্জিয়ান এঞ্জেল’। কিন্তু কে এই স্টেপান তারাবালকা? দেখে নেওয়া যাক।

পশ্চিম ইউক্রেনের কোরোলিভকা গ্রামে জন্ম হয় স্টেপানের। তাঁর বাবা-মা পেশায় শ্রমিক ছিলেন। ছোট থেকেই স্টেপানের শখ ছিল, বড় হয়ে বিমানযোদ্ধা হওয়ার। তাঁর মা নাটালিয়া তারাবালকা এবং বাবা ইভান তারাবালকা জানিয়েছেন, কোরোলিভকার ওপর দিয়ে যখন কোনও ইউক্রেনীয় যুদ্ধবিমান উড়ে যেত, তখন এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন স্টেপান। কালে কালে তাঁর স্বপ্ন সত্যি হল। পড়াশোনা শেষ করে ইউক্রেনের সামরিক বিভাগে যোগ দিলেন তিনি। বিমানযোদ্ধা হিসেবে তিনি নিজের কাজে অত্যন্ত পটু ছিলেন বলে জানা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ইউক্রেনের সামরিক বিভাগে তিনি সুখ্যাতি অর্জন করে নিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে ইউক্রেন আক্রমণ করে পুতিনের সৈন্যরা। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল, অবশেষে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তা শুরু হল পুরোদমে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্টেপানের ঘাড়ে গুরুদায়িত্ব এসে পড়ল।তাঁকে তাঁর বিভাগ থেকে যথাসম্ভব গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হল। অর্থাৎ, পোশাকি ভাষায় বলতে গেলে তাঁকে ‘আন্ডারকভার ফাইটার পাইলট’ হিসেবে নির্বাচন করল ইউক্রেনের সামরিক দপ্তর। নিজের বিভাগের নির্দেশমতো স্টেপান বাড়িতে কিছু না জানিয়ে যুদ্ধে গেলেন। স্টেপানের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা-মা বলেছিলেন, “আমরা শুধু জানতাম, স্টেপান কোনও এক বিশেষ মিশনে গেছে। এর বেশি কোনও তথ্য আমাদের কাছে ছিল না।” এমনকী, স্টেপানের স্ত্রী ওলেনিয়া এবং আট বছরের ছেলে ইয়ারিক পর্যন্ত তাঁর এই ‘বিশেষ মিশন’ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানতেন না।

সূত্র মারফৎ জানা যায়, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তিনি ছ'টা রুশ বিমান ধ্বংস করেছিলেন একা। ১৩ মার্চ রুশ হানাদার বাহিনীর গুলিতে ২৯ বছর বয়সি এই বিমানযোদ্ধার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময়ে তিনি একটা মিগ-২৯ বিমান চালাচ্ছিলেন বলে যানা যায়। স্টেপানের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায় না। অনেকে মনে করেন, স্টেপানের মৃত্যুর খবর ইউক্রেনের সামরিক দপ্তরের কাছে ছিল, কিন্তু নিজেদের পেশাদারি গোপনীয়তার ফলেই তাঁরা তা প্রকাশ করেননি। সাম্প্রতিককালে স্টেপানের সাহসিকতার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর নামে ইউক্রেনের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও জেলেন্সকি সরকার তাঁকে ‘হিরো অফ ইউক্রেন’ উপাধি দিয়েছেন বলে জানা যায়। মৃত্যুর কালে যে হেলমেট এবং গগলস পরেছিলেন স্টেপান, তা ভবিষ্যতে লন্ডনে নিলাম হওয়ার কথা। স্টেপানের মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে বেশ কিছু গল্পকথা গড়ে উঠেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে। তাঁর সাহসিকতার তুলনা করা যেতে পারে ইভান কোজহেডাবের সঙ্গে।

১৯২০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ওব্রাজহিয়েভকা গ্রামে জন্ম হয়েছিল ইভানের। ১৯৪১ সালে একজন সাধারণ বিমানচালক হিসেবেই তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু সেবছরই হিটলারের নাৎসিবাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে। সোভিয়েত সরকার তখন কিছুটা বাধ্য হয়েই ইভানকে যুদ্ধবিমান চালানোর দায়িত্ব দেয়। যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে ইভান চটজলদি এলএ-৫ বিমান চালানোয় পটুতা অর্জন করেন এবং ১৯৪৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বিভাগের কম্যান্ডার পদে উত্তীর্ণ হন। ইভান নিজের কর্মজীবনে একক প্রচেষ্টায় প্রায় ৬০খানা বিমান সংঘর্ষে জয়ী হয়েছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে সোভিয়েত সরকার তাঁকে ‘ফাইটার এস’ উপাধি দিয়ে সম্মান জানায়। প্রসঙ্গত, স্টেপানের মৃত্যুর পর তাঁকেও ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফাইটার এস’ উপাধি দেওয়া হয়েছে।

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখনই কোনও নিদান দেওয়া চলে না। ইতিমধ্যেই ৯ মে ইউক্রেনে আরও বড় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। যুদ্ধে জর্জরিত ইউক্রেনবাসীকে হয়তো ভবিষ্যতে আরও ঘোরতর কোনও হামলার মোকাবিলা করতে হতে পারে। তবে পরিস্থিতি যাই হোক, আগামী দিনে ইউক্রেনের কিংবদন্তি হয়েই থেকে যাবেন মেজর স্টেপান তারাবালকা।

লিখেছেন
rudranjan
rudranjan
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।