কেন ছয়টি নম্বর থাকে পিন কোডে? আসলে কী বোঝায় এই নম্বরগুলি?
Pin code: কিন্তু জানেন কি কবে থেকে ভারতে চালু হল এই পিন কোডের ব্যবহার? আর কেনোই বা পিন কোডে ছয়টা সংখ্যা থাকে?

পিন কোড শব্দটার সঙ্গে অবশ্য আমরা সকলেই কম বেশি পরিচিত। সকলেরই বাড়ির ঠিকানা শেষ হয় এই ছয় সংখ্যার পিন কোড দিয়েই। ভারতবর্ষের যে কোনও জায়গার অবস্থান সম্পর্কে জানতে এই নম্বরটা খুবই জরুরি। এই নম্বরগুলি নির্ধারিত হয় মূলত এলাকা ভিত্তিক নিয়মাবলী অনুসারে। এই যে কথায় কথায় কলকাতা অধ্যুষিত এলাকার নির্দেশ দেওয়ার সময় বলা হয় কলকাতা ৭৩ অথবা কলকাতা ৭৬, এই সবই হল আসলে পিন কোড। এক্ষেত্রে মূলত ছয় সংখ্যার পিন কোডের শেষ দুই সংখ্যার সূচক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু জানেন কি কবে থেকে ভারতে চালু হল এই পিন কোডের ব্যবহার? আর কেনোই বা পিন কোডে ছয়টা সংখ্যা থাকে?
ডিজিট্যাল যুগে দাঁড়িয়ে কথায় কথায় পিন দিতে হয় আমাদের। Pin শব্দটি তাই এখন বেশ পরিচিত। আজকাল atm কার্ড অথবা অন্যান্য নথির ক্ষেত্রে এই পিনের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেলেও একটা সময় পর্যন্ত পিন বলতে ঠিকানার সঙ্গে জুড়ে থাকা ওই ছয় সংখ্যাকেই বোঝাত। কিন্তু এই pin শব্দের পুরো কথা জিজ্ঞেস করলে ৯৯ শতাংশ মানুষই রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবেন। প্রসঙ্গত জেনে রাখা দরকার, pin শব্দের পুরো কথা হল পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তির বিষয়ে নির্দেশ করে এমন কোনও সংখ্যা সূচক। তবে ঠিকানার সঙ্গে জুড়ে থাকা pin শব্দের পুরো কথা কিন্তু আলাদা। সেই হল পোস্টাল ইনডেক্স নম্বর।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Note making material : কাগজ তো নয়! জানেন টাকা তৈরি করতে আসলে কী ব্যবহার করে RBI?
অনলাইনে কিছু অর্ডার করা থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ অথবা অফিসের কোনও নথিতে প্রয়োজন পড়ে এই পোস্টাল ইনডেক্স নম্বরটি। সময়টা ১৯৭২ সাল। ভারত তখন স্বাধীন হয়ে গিয়েছে। সেই বছর স্বাধীনতা দিবসের দিন অর্থাৎ ১৫ অগাস্ট এই পিন কোড প্রথমবারের জন্য ভারতে চালু হয়৷ যদিও এর মধ্যে ৯ সংখ্যাটি প্রথম থেকেই নির্ধারিত থাকে সেনাবাহিনীর পোস্টাল অ্যাড্রেসের জন্য৷
কিন্তু এই ছয় সংখ্যার এই যে পিন কোড ব্যবহার করি আমরা তার প্রতিটি সংখ্যা আবার আলাদা আলাদা বিষয় সূচিত করে। প্রথম সংখ্যাটি, অর্থাৎ কলকাতা অধ্যুষিত এলাকার ক্ষেত্রে ৭, এটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা রিজিয়নকে চিহ্নিত করে৷ তার পর দ্বিতীয় সংখ্যাটি চিহ্নিত করে সাব রিজিয়নকে। তৃতীয় সংখ্যাটি বোঝায় নির্দিষ্ট জেলা বা এলাকাকে। আর শেষ তিনটি সংখ্যা মূলত মহকুমা এবং পোস্টাল এরিয়াকে নির্দেশ করে। সব মিলিয়ে তৈরি হয় পিন কোড, যা ঠিকানা বোঝানোর ক্ষেত্রে খুবই জরুরী।















