কেন লাল, নীল অথবা সবুজ রঙের হয় ট্রেনের কামরা, আসল পার্থক্যটা ঠিক কোথায়?
Indian Railways : কোনওটা লাল রং, কোনওটা নীল, কোনও ট্রেনের কামরা আবার হয় গাঢ় সবুজ রঙের। গোটা দেশ জুড়ে যাতায়াত পরিষেবা দেয় এই ট্রেনগুলো। তবে এই তিনটি রঙের ব্যবহারের নেপথ্যেও রয়েছে কিছু বিশেষ কারণ।

বর্তমান যুগে অনেকেই প্লেনে যাতায়াত করায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে ঠিকই তবে ট্রেনের বিকল্প হিসেবে আজও সংজ্ঞায়িত করা যায় না কিছুকেই। নিত্য যাতায়াত থেকে শুরু করে দূরে কথাও ভ্রমণ, ট্রেনে চড়া রোজকার জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকাতা এবং পার্শ্ববতী জেলায় সারাদিন ধীরে চলে লোকাল ট্রেন। অন্যান্য জায়গায় চলে প্যাসেঞ্জার ট্রেন। আর দূরে কোথায় ভ্রমণের পথের জন্য রয়েছে এক্সপ্রেস। তবে একটা জিনিস কি লক্ষ্য করে দেখেছেন কখনও, এই প্রতিটি ট্রেনের ধরন কিন্তু একে অপরের থেকে আলাদা। শুধু বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যই নয়, এর বাহ্যিক গঠনেও দেখা যায় তফাৎ। যার জেরে দূর চোখে দেখেই আঁচ করা যায় আসলে কোনটি কোন ট্রেন। কিন্তু জানেন কি কেন এরকম রঙের তফাৎ হয় ট্রেনের? কোন রং কীসেরই বা সূচক?
কোনওটা লাল রং, কোনওটা নীল, কোনও ট্রেনের কামরা আবার হয় গাঢ় সবুজ রঙের। গোটা দেশ জুড়ে যাতায়াত পরিষেবা দেয় এই ট্রেনগুলো। তবে এই তিনটি রঙের ব্যবহারের নেপথ্যেও রয়েছে কিছু বিশেষ কারণ। শুধু তাই নয় এই ভিন্ন রঙের কামরা গুলি প্রস্তুতির পদ্ধতিও আলাদা, বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকেও একে অপরের থেকে পৃথক। আসুন জেনে নেওয়া যাক লাল, নীল এবং সবুজ এই তিন রঙের কামরার আসল পার্থক্য।
ট্রেনের কামরা লাল হওয়ার কারণ -
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
India’s slowest train : বন্দে ভারতের যুগেও দেশে দিব্যি রোজ চাকা গড়াচ্ছে ধীর গতির এই ট্রেনটির। কোথায় চলে? কতটা সময় নেয় জানেন?
সাধারণত বিলাসবহুল ট্রেনগুলিতে লক্ষ্য করা যায় লাল রঙের কামরা। যেমন রাজধানী এক্সপ্রেস, শতাব্দী এক্সপ্রেস। লাল রঙের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এই ট্রেনগুলো ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে যাতায়াত করতে সক্ষম। ২০০০ সাল থেকে ভারতে এই কামরাগুলি ব্যবহৃত হয় যা জার্মানি থেকে আমদানি করা হয়। পাঞ্জাবে রয়েছে এই কামরা তৈরির কারখানা। এই কামরাগুলিকে LHB বগি বলা হয়ে থাকে।
ট্রেনের কামরা নীল হওয়ার কারণ -
নীল রঙের কামরাগুলি মূলত লোহার তৈরি এবং এতে ব্যবহার করা হয় এয়ার ব্রেকিং সিস্টেম। ট্রেনের কামরায় রং যদি নীল থাকে তবে সেগুলিকে রেলের ভাষায় ইন্টিগ্রেট কোচ বলা হয়। এই ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার করে। চেন্নাইতে রয়েছে ইন্টিগ্রাল কোচ তৈরির ফ্যাক্টরি, ভারতের নীল কামরার বগিগুলো তৈরি হয় এখানে। অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় এই বগি গুলি যথেষ্ট ভারী হয়। এই বগিগুলিকে ICF কামরাও বলা হয়। এই কামরাগুলিই সবথেকে বেশি দেখা যায় ভারতে। যদিও বর্তমানে এর সংখ্যা কমে আসছে।
ট্রেনের কামরা সবুজ হওয়ার কারণ -
ভারতের সবুজ রঙের কামরার সংখ্যা সবচেয়ে কম। এই ট্রেন গুলিও ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম। যদিও কলকাতা অধ্যুষিত এলাকায় লোকাল ট্রেনের কামরায় এক সময় দেখা যেত এই সবুজ রং। যদিও এখন বদল এসেছে রঙে। বিভিন্ন সুপারফাস্ট ট্রেনের কামরায় গুলির মধ্যে এরকম সবুজ রঙের কামরা দেখতে পাবেন তবে এই কামরা গুলি বর্তমানে মালবাহী গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।















