বিজেপির কোনও দায়িত্বজ্ঞান নেই, বোধ নেই : বলছেন খোদ অর্ণব গোস্বামী! কেন?

Arnab Goswami On Manipur Issue: সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী নিজেকে সেই উচ্চতায় নামিয়েছেন যেখানে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে গণমাধ্যম আর গণের কথা বলে না।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
বিজেপির কোনও দায়িত্বজ্ঞান নেই, বোধ নেই : বলছেন খোদ অর্ণব গোস্বামী! কেন?

বিজেপি যেভাবে মণিপুর ইস্যুকে এড়িয়ে যাচ্ছে তাতে ভারতীয় জনতা পার্টির অস্বস্তি হওয়া উচিত। বিজেপির কোনও দায়িত্বজ্ঞান নেই, বোধ নেই, সংবেদনশীলতা নেই। বিজেপি সেটুকুই নড়েচড়ে বসছে, যতটুকু নড়লে রাজনৈতিকভাবে তাদের কোনও সমস্যা না হয়! যে বিজেপি নির্ভয়া কাণ্ডে এত সরব ছিল, সেই একই বিজেপি এটা নয়। সেই সময় বিজেপি বলছিল, কেন্দ্র সরকারের পদত্যাগ করা উচিত! সেই বিজেপি আর এই বিজেপি কিছুতেই এক নয়। বিজেপি জাতীয় মহিলা কমিশনকেও কাজ করতে দিচ্ছে না। এই বিজেপি নগ্ন মহিলাদের মিছিল দেখে কিছু বলে না, ৭৭ দিন পরে মুখ খোলে। এই বিজেপি এমন একটা রাজ্যে শাসন চালাচ্ছে, যেখানে সেই প্রশাসনেরই পুলিশ জনতাকে সাহায্য করছে যাতে মণিপুরের মহিলাদের গণধর্ষণ করা যায়। এই বিজেপিই একজনও পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ অবধি করেনি। এই সেই বিজেপি যে বলছে, এটা জাতীয় নিরাপত্তার সমস্যা অথচ বুঝছে না যে, বীরেন সিংকে রাজ্য চালাতে দিলে তা রাজ্য আর নিরাপত্তা দুইয়ের জন্যই ভয়াবহ! "আমি তোমাদের পাশে আছি, সঙ্গে আছি" এসব স্রেফ ভাঁওতাবাজি! যদি সত্যিই চিন্তিত হন, তাহলে মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করুন!

সিপিএম নয়, তৃণমূল নয়, আম আদমি পার্টি নয়, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীকুল- কেউ নয়। এসব বলছেন স্বয়ং অর্ণব গোস্বামী! হ্যাঁ, গোদিয়ার (মোদির গোদিতে বসে থাকা মিডিয়া) সেই একমেবাদ্বিতীয়ম অর্ণব গোস্বামী যার বিজেপিভক্তি দেখে খোদ হনুমানও বুক চিরে রাম-সীতা দেখাতে লজ্জা পেয়েছিলেন। বলছেন সেই অর্ণব গোস্বামী, যাঁর সংবাদ চ্যানেল খোদ দেশের সমস্ত জ্বলন্ত সমস্যা থেকে মুখ ঘুরিয়ে পড়শি দেশের প্রতি ঘৃণা চাষে ব্যস্ত থাকে। ভূমিকম্প, বা কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসার পূর্বাভাস সবার আগে টের পায় ব্রহ্মাণ্ডের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কীটপতঙ্গরাই। অর্ণব গোস্বামী কি তেমনই আঁচ পাচ্ছেন, তারই লাগি এই ভোলবদল?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কী দিন চেয়েছিলেন আর কী পেলেন মণিপুরের সেই নগ্নিকারা?

Manipur Violence: আজকের মণিপুর দেখাচ্ছে, বন্দুকের নল নয়, পুরুষ-অঙ্গেই রয়েছে সমস্ত ক্ষমতার ভাণ্ডার। যা ক্রমাগত তাক করা রয়েছে মণিপুরের মেয়েদের দিকে।

ভারত এখন যে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে যূথবদ্ধতা খুঁজছে, বিষণ্ণতার মধ্যে আশা খুঁজছে সেখানে এমন অত্যাশ্চর্য ঘটনা দু’ একটা ঘটলে নড়েচড়ে বসতেই হয়। সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী নিজেকে সেই উচ্চতায় নামিয়েছেন যেখানে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে গণমাধ্যম আর গণের কথা বলে না। গণমাধ্যম এখন দেশের/রাজ্যের, মানে যে যেখানে কাজ করে সেই এলাকার রাজনৈতিক ক্ষমতার কথানুযায়ীই চলবে। যদি দেখা যায় পেটোয়া সংবাদমাধ্যম উল্টো সুরে গাইছে, প্রশ্ন উঠবেই তাহলে কি বখরার সমস্যা? তাহলে কি হাওয়া বদলের গন্ধ পেয়েছেন সাংবাদিক মহল? নাকি এটিও গণতন্ত্র-গণতন্ত্র খেলা যেখানে শাসকই বিরোধিতার চিত্রনাট্য লিখে দিয়ে বলে, চ্যাঁচাও! এতে বিরোধী জনগণ একটু কলার তোলার সুযোগ পাবে।

এই প্রথম, মোদির আর বিজেপির এমন বিরোধিতা করলেন অর্ণব গোস্বামী। মণিপুর যে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সবচেয়ে বড় এজেন্ডা একথা সকলেই বুঝে গিয়েছেন। বিজেপির প্রধানমন্ত্রী ৭৮ দিন পর এত বড় ঘটনার জন্য ৩০ সেকেন্ড ব্যয় করেছেন। সারা দেশের বিরোধীরা এই নিয়ে যে যার মতো প্রতিবাদ শুরু করেছেন। কিন্তু অর্ণব গোস্বামী চিৎকার করে বলছেন, মণিপুর নিয়ে বিজেপির কী ভুল হয়েছে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীকে না সরিয়ে মোদি সরকার ভুল করেছে- এ কি দিবাস্বপ্ন? এ কী করে সম্ভব? কয়েক মিনিট বলেছেন অর্ণব, প্যানেলে তখন বিজেপি, তৃণমূল আপ- সব দলের প্রতিনিধিরাই বসে আছেন, নিঃসন্দেহে ঘাবড়ে গিয়েছেন অর্ণবের বদল দেখে। যে চ্যানেলটি শাসকদল সমর্থিত, সেখানে বসে তিনি বলছেন বিজেপি আর আগের বিজেপি নেই! ব্যাপারটা কী হচ্ছে আসলে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল নরেন্দ্র মোদির নির্বুদ্ধিতা

Narendra Modi on Manipur: নরেন্দ্র মোদি ভোট এলে তিনি ছোট রাজ্য, বড় রাজ্য সর্বত্র ঘন ঘন চলে যান ঠিকই, তবে এবারে তিনি আর মণিপুরের পথে যাননি।

দেশের সকলেই প্রায় জানেন, অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম, যাদের চাকরি বাঁচাতে শাসকের মুখাপেক্ষী রইতে হয় তারা জান কবুল-মান কবুল করেও মোদির বিরধিতা করবে না। সকলেই জানে, মোদি সরকার মণিপুর ইস্যুকে এড়িয়েই চলবে এবং ঘটনা যতই মর্মান্তিক, লজ্জাজনক হোক না কেন, চোখের মাথা খেয়ে মোদির প্রশংসাই করতে হবে। দেশের বড় সংখ্যক মানুষ টিভিতে, ইউটিউবে এইসব দেখবেন, এবং ভাববেন দেশে সব ঠিক আছে, কেবল পাকিস্তানেই যত সমস্যা। মোদি সরকারের কোনও দোষই নেই, কারণ নেহরুই রয়েছেন সমস্ত নষ্টের মূলে। শাসক এককালে রাজকবি পুষত, এখন পোষে সাংবাদিক। লাইভ আলোচনা বসিয়ে বিরোধীদের যথেচ্ছ অপমান, আর চিৎকার করে তাঁদের দমিয়ে দেওয়াই এখন সাংবাদিকতা বলে প্রমাণিত। অর্ণব গোস্বামী বহু যতন করে নিজের এই গোদিয়া ঘরানা ঘড়ে তুলেছেন। কীভাবে সেই গোদিতেই বসে তিনি এমন তীব্র বিরোধিতা করলেন বিজেপির? নির্ভয়া কাণ্ডে বিজেপি যে অবস্থা নিয়েছিল, সেই অবস্থান কীভাবে নিজেদের বেলা পাল্টে গেল এই প্রশ্ন যিনি তোলেন তিনি আর যাই হন রাজ-সাংবাদিক কি? নাকি এও শাসকেরই এক চতুর কৌশল! মণিপুর নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিশ্বস্ত মানুষকে দিয়ে বিরোধিতা করিয়ে নেওয়া নয়তো? দেশশুদ্ধ লোকের কাছে 'গণতন্ত্রের জয়' প্রমাণের পাল্টা চাল!

নাকি সত্যিই বদলের হাওয়ার ঘ্রাণ পাচ্ছেন অর্ণবরা? বুঝতে পারছেন, মণিপুরের কাঁটা বিজেপি গিলতে বা উগরাতে পারবে না। উল্টে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা বিশ্বের প্রেক্ষিতে মোদির 'ইমেজের' চিরস্থায়ী ক্ষতিই করে দিয়েছে। মোদির বেটি বাঁচাওয়ের দেশে মহিলাদের এমন রোজকার দুর্দশা সাফ হয়ে গিয়েছে বিশ্বের কাছে। তাই বিচক্ষণ হতে গেলে এই বেলা সাঁতরে ওপারে চলে যাওয়াই ভালো। শাসক তো যায় আসে, পেট চলে মৃত্যু অবধি। সেখানে ইন্ধন দিতে মেরুদণ্ডকে ফ্লেক্সিবল রাখাই শ্রেয়, অন্তত অর্ণবদের মেরুদণ্ডকে তো বটেই।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।