কোটি কোটি টাকার মদ ধ্বংস করছে ফ্রান্স! কারণ শুনে চমকে উঠছে গোটা বিশ্ব
Wine Destroy in France: ওয়াইন ধ্বংসের জন্য সরকারের তহবিল থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার আলাদা করে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

ফ্রান্স। নাম উচ্চারিত হলেই প্রেমের, কবিতার, চুম্বনের কথা মনে আসে। আরও রসিক মানুষদের মনে আসে প্রেমের অন্যতম জুড়ি মদের নাম। সেই ফ্রান্সে কোটি কোটি টাকার মদ নষ্ট করা হচ্ছে। মদ নষ্ট করার জন্য মাঠে নামতে হয়েছে ফরাসি সরকারকেই। সেখানকার সরকার ঘোষণা করেছে ওয়াইন ধ্বংসের জন্য সরকারের তহবিল থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার আলাদা করে সরিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু মদ নিয়ে যেখানে কোনও ছুঁৎমার্গ নেই, যে দেশ সেরা মদের জন্য বেশ বিখ্যাত, মদ যেখানে সংস্কৃতিরই অঙ্গ, সেখানে এত এত মদ নষ্ট করার যুক্তিটাই বা কী?
ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি প্রধান ওয়াইন উৎপাদনকারী অঞ্চল, বিশেষ করে বিখ্যাত বোর্দো অঞ্চল উদ্বৃত্ত মদের সমস্যায় জেরবার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোগ অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটেছে ফ্রান্সে। জীবনযাত্রার খরচ সঙ্কট হু হু করে বেড়েছে এবং কোভিড-১৯-এর পরবর্তী প্রভাবের কারণে মদের প্রতি আগের মতো সেই ভালোবাসায় ঘাটতি পড়েছে। স্থানীয় কৃষক সমিতির মতে, ওয়াইনের চাহিদা হ্রাসের ফলে অতিরিক্ত উৎপাদন, দামে তীব্র পতন দুই ঘটছে। বোর্দো অঞ্চলে তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন মানুষ বড় আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। তাই এই উদ্বৃত্ত ওয়াইন ধ্বংসের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করতেই হচ্ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভিয়েতনামের সংস্কৃতিতে যেহেতু সাপ, ‘তাপ’ কিম্বা ‘ পুরুষত্বের প্রতীক’ হিসাবে কল্পিত হয়ে থাকে - তাই পুরুষালি যে কোনো সমস্যার সমাধান হিসাবে স্নেক হোয়াইন একটি স্বনামধন্য কামোদ্দীপক হিসাবে বিশেষ জনপ্রিয়।
এই এত টাকা খরচের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মূল্যের পতন বন্ধ করা এবং ওয়াইন প্রস্তুতকারকরা যাতে আবার লাভের মুখ দেখতে পারেন সেদিকে কিছুটা সাহায্য করা। তবে এতেই সবটা সামাল দেওয়া যাবে না। সরকার মনে করছে, ওয়াইন শিল্পকে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নিজেদের পরিবর্তন করতেই হবে। গ্রাহকদের পাল্টে যাওয়া চাহিদা মাথায় রাখতে হবে এবং মানিয়ে নিতে হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম ল্যাঙ্গুয়েডক অঞ্চল দেশের বৃহত্তম ওয়াইন উৎপাদক এলাকা। ওয়াইনের চাহিদা হ্রাসের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই স্থান। যে ওয়াইনগুলি নষ্ট করা হবে তা থেকে পাওয়া অ্যালকোহল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পরিষ্কার করার পণ্য বা পারফিউমের মতো পণ্যগুলিতে ব্যবহারের জন্য কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হতে পারে। তবে খাবারে কোনওভাবেই তা ব্যবহার হবে না।
ওয়াইন চাষিদের জলপাইয়ের মতো অন্যান্য পণ্যে উৎপাদনের জন্যও অর্থ দেওয়া হবে। ইউরোপিয় কমিশনের তথ্য বলছে, এই বছরের জুন মাস থেকে ওয়াইন ব্যবহার ইতালিতে কমেছে ৭%, স্পেনে ১০%, ফ্রান্সে ১৫%, জার্মানিতে ২২% এবং পর্তুগালে ৩৪%। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, অল্পবয়সি মদ্যপানকারীদের মধ্যে মদ্যপানের অভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
২০০৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ফ্রান্সে ওয়াইন ব্যবহার ৩৩.৫ মিলিয়ন হেক্টোলিটার থেকে ২৫.২ মিলিয়ন হেক্টোলিটারে নেমে গেছে। অল্পবয়স্ক মদ্যপানকারীরা অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়ের দিকে ঝুঁকছেন বেশি। অ্যালকোহলমুক্ত বিয়ার, ওয়াইন এবং স্পিরিটের বাজার বাড়ছে৷ আইডব্লিউএসআর ড্রিংকস মার্কেট অ্যানালাইসিসের সুসি গোল্ডস্পিঙ্ক ২০২২ সালেই জানিয়েছিলেন, ফ্রান্সেই নন-অ্যালকোহলিক পানীয়ের বাজার সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। গত বছর ১৪% গ্রাহক মদ্যপান থেকে দূরে ছিলেন, এ বছর সেটা বেড়ে ২০%।















