নবান্নের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরেই কি মন পরিবর্তন! কেন বিজেপি ছাড়লেন চন্দ্র বসু?

BJP: সম্প্রতি বাংলা দিবস সংক্রান্ত সর্বদল বৈঠকে যোগ দিতে নবান্নে গিয়েছিলেন চন্দ্র। তার ঠিক পরে পরেই দলত্যাগের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা ঘনিয়েছে নানা মহলে।

Sohini Das
৩ মিনিট
নবান্নের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরেই কি মন পরিবর্তন! কেন বিজেপি ছাড়লেন চন্দ্র বসু?

দিনের পর দিন ধরে বিজেপি যে বিভাজনের রাজনীতি করে আসছে, তা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনীতিক ভাবনার একেবারে পরিপন্থী। সঠিক পথে হাঁটছে না দল। বিজেপির থেকে যা প্রত্যাশা করেছিলেন, এই ক'বছরে পেয়েছেন ঠিক উল্টোটাই। এমনই একগুচ্ছ অভিযোগ আর ক্ষোভ নিয়ে দল ছাড়লেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর উত্তরসুরী চন্দ্র কুমার বসু। বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডার কাছে সেই সমস্ত ক্ষোভই উগরে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ছিন্ন করেছেন দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্কও। নড্ডার পাশাপাশি সেই চিঠির প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও।

দলের সঙ্গে তাঁর সংঘাত আজকের নয়। অনেক দিন ধরেই ধিকি ধিকি করে জ্বলেছে ক্ষোভের আগুন। বিজেপির টিকিটে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন যে চন্দ্র বসু, দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির কোনও পদে রাখা হয়নি তাঁকে। টিকে ছিল শুধু দলের প্রাথমিক সদস্যপদটুকু। এতদিনে সেই সুতোটুকও ছিন্ন হলে একেবারে।

হিসেব বলছে, বাংলার ভোট আসতে ঢের দেরি। যদিও রাজ্যের বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ছাব্বিশে নয়, ২০২৪ সালে লোকসভার সঙ্গেই নাকি বাংলাতেও বিধানসভা ভোট করিয়ে দেওয়া হবে। তা তিনি যাই বলুন না কেন, খাতায়-কলমে বাংলায় গদি দখলের লড়াই শুরু হতে এখনও বেশ কিছুটা সময় বাকি। তবে এর মধ্যেই যেভাবে দলবদলের ঢেউ উঠতে শুরু করেছে বিজেপির অন্দরে, তা ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অভিজ্ঞতাই পুঁজি! ভারতের সব জেলায় একরাত থেকেছেন, দাবি নরেন্দ্র মোদির

PM Modi and RSS : ২০১৬ সালের পাওয়া শেষ হিসেব বলছে দেশে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের শাখা রয়েছে ৫৬৮৫৯টি।

সম্প্রতি বাংলা দিবস সংক্রান্ত সর্বদল বৈঠকে যোগ দিতে নবান্নে গিয়েছিলেন চন্দ্র। তার ঠিক পরে পরেই দলত্যাগের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা ঘনিয়েছে নানা মহলে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে আগেই বিজেপিতে যোগ দেন চন্দ্র। দলে যোগ দিতে না দিতে পেয়ে যান টিকিটও। সেই ভোটেই তিনি লড়েছিলেন খোদ মমতার বিরুদ্ধে। স্বাভাবিক ভাবেই জয় আসেনি। কিন্তু তখনও চন্দ্র বসুকে নিয়ে আশা ছাড়েনি দল।

২০১৯ সালে ফের প্রার্থী হন চন্দ্রবাবু। এবার কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে, তৃণমূল নেত্রী মালা রায়ের বিরুদ্ধে। এবারও আসে শোচনীয় পরাজয়। এর পর থেকেই কি দলে গুরুত্ব কমতে থাকে চন্দ্র বসুর! কারণ তার পর থেকে দলীয় কাজে তেমন ভাবে দেখা যায়নি সুভাষ চন্দ্র বসুর বংশধরকে। ২০২০ সালে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। কারণ তখন থেকেই বিজেপির সঙ্গে নানা বিষয়ে মতানৈক্য তৈরি হতে শুরু করেছে তাঁর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'ইন্ডিয়া' বদলে 'ভারত'! কেন দেশের নাম বদলাতে মরিয়া বিজেপি?

India Renamed Bharat: বিজেপির মূল বক্তব্য হচ্ছে, ব্রিটিশরা ভারতের নাম পরিবর্তন করে ইন্ডিয়া করে।

ক্ষোভ উগরে দিলেও ইস্তফা পত্রে এত সব কথা বিস্তারিত লেখেননি চন্দ্রবাবু। শুধু জানিয়েছেন, যে আদর্শ, যে লক্ষ্যের কথা ভেবে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, সেসব কোনও কিছুই পূরণ হয়নি তাঁর। তাই এই সিদ্ধান্ত। তিনি যা যা সাংগঠনিক প্রস্তাব দলকে দিয়েছিলেন, সেসব বিন্দুমাত্র কানে তোলেনি বঙ্গবিজেপি। যা তাঁকে ক্রমশ এই সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস সংক্রান্ত সর্বদল বৈঠকে কোনও প্রতিনিধি পাঠায়নি বিজেপি। তবে দলের দেখানো পথে না হেঁটে নিজেই সে বৈঠকে হাজির ছিলেন চন্দ্রবাবু। আর সে বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই নানাবিধ জল্পনা শুরু করেছে নানা পক্ষ। তবে চন্দ্র বসুর ইস্তফাপত্রে তেমন কোনও ইঙ্গিত নেই।

নড্ডাকে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন যজ্ঞে যোগ দেওয়ার জন্যই তাঁর ২০১৬ সালে বিজেপিতে আসা। পাশাপাশি বিজেপির মঞ্চ এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামো ব্যবহার করে নেতাজির আদর্শ প্রচারের ভাবনা ছিল তাঁর। তার জন্য নতুন করে 'আজাদ হিন্দ মোর্চা' গড়ারও ইচ্ছা ছিল চন্দ্রবাবুর। তবে সেই সব লক্ষ্য কোনওটাই তাঁর পূরণ হয়নি বিজেপিতে এসে। কীভাবে বাংলার মানুষের দরজায় পৌঁছতে পারে বিজেপি নেতৃত্ব, তার একটা নীল নকশা কষে বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। তবে সেই সমস্ত প্রস্তাবই উপেক্ষা করা হয়েছে বিজেপির তরফে। আর এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় ক্ষোভের জায়গা। পাশাপাশি বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির সঙ্গে তার পারিবারিক আদর্শের সংঘাতও এই সরে আসার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন চন্দ্র বসু।

বারবার বিজেপির সঙ্গে মতের অমিল ঘটেছে চন্দ্রবাবুর। কখনও ছাগলের মাংস খাওয়া নিয়ে বিরোধিতা করে বিজেপির অন্য নেতাদের বিরাগভাজন হয়েছেন তো কখনও বিজেপির জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নীতির বিরোধিতা করে খোদ বিজেপিরই অস্বস্তির বাড়িয়েছেন চন্দ্র বসু। সব মিলিয়ে দু-পক্ষের মধ্যেই ক্ষোভ জমছিল। এতদিনে তারই বহিঃপ্রকাশ হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।

আগামী দিনে চন্দ্র বসুর জায়গা কি হতে চলেছে তৃণমূলে, সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এখনও মিলছে না। গত কয়েক বছর ধরেই দু'দলেই আমরা দলবদলুদের ভিড় দেখেছি। বিজেপি সামনে এনেছs ওয়াশিং মেশিন তত্ত্ব। তৃণমূল মুখে তেমন কিছু না বললেও কাজে আলাদা কিছু করে দেখায়নি তেমন। ফলে ভোটের আগে আগে এ দল থেকে ও দলে নেতা-কর্মীদের যাতায়াত দেখাটা পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য এখন জলভাত। তবে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের এতদিন আগে থেকে যেভাবে বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীকোন্দল সামনে আসতে শুরু করেছে, তাতে ভোটের বাজারে অস্বস্তিতে পড়তে পারে বিজেপি, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।