ট্রেনের শেষ কামরায় 'X' চিহ্ন কেন থাকে জানেন? অবাক করবে রেলের এই গুপ্ত সংকেত...
Train Coach X Symbol: অনেকেই লক্ষ্য করেছেন ট্রেনের শেষ কোচের পিছনে ‘X’ চিহ্ন দেওয়া থাকে। এই চিহ্নের মানেটা কী?

রেলগাড়ির সঙ্গে শৈশবের আলাপ হয় শিশুপাঠ্য সমস্ত ছড়ার হাত ধরেই। তারপর আসে কাশবন আর রেল দেখতে যাওয়ার সেই সনাতন দৌড়! চলমান এক বিস্ময় আস্তে আস্তে শিশুটির বেড়ে ওঠার সঙ্গে এমন জুড়ে যায় যে, সে সেই চলমানতার নিত্যযাত্রী হয়ে ওঠে। সকলেই জীবনের কোনও না কোনও সময়ে ট্রেনে চড়েন, কেউ বা রোজই চড়তে বাধ্য হন। সুলভে দূর অঞ্চল পাড়ি দেওয়ার এর চেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যপ্ত মাধ্যম আর নেই। ট্রেন নোংরা কিনা, ট্রেনের খাবার কেমন, ট্রেন দেরি করছে কিনা এসব নিয়ে অভিযোগেরও অন্ত নেই! আর ট্রেনের কোন হর্নের কী অর্থ, কোন কামরার কী রঙ, কোন সংকেত দিয়ে কী বোঝানো হয় এসব নিয়েও রয়েছে অগাধ কৌতূহল। অনেকেই লক্ষ্য করেছেন ট্রেনের শেষ কোচের পিছনে ‘X’ চিহ্ন দেওয়া থাকে। এই চিহ্নের মানেটা কী?
অনেকের ধারণা ওইটাই শেষ কামরা তাই কাটা চিহ্ন রয়েছে, অনেকের আবার ধারণা, ট্রেনের পিছনে ওই চিহ্নই দূর থেকে বোঝা যায় যাতে কোনও ট্রেন বেলাইন হয়ে না ঢুকে পড়ে একই লাইনে। যাত্রীদের এই দীর্ঘকালের কৌতূহলের উত্তর দিয়েছে রেল মন্ত্রকই। রেল মন্ত্রকের টুইটার অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট বলছে, হলুদ রঙের ‘X’ চিহ্নটি বোঝায় যে ট্রেনটি কোনও কোচ ফেলে না রেখেই পাড়ি দিয়েছে। এই বিশেষ প্রতীক দিয়ে রেলের কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন আস্ত ট্রেনটিই রওনা দিয়েছে। কোনও কোচ যে আলাদা করে ফেলে চলে গেছে ট্রেন এরকম ঘটনা ঘটেনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Indian Railways : নিয়মের কড়াকড়ির মধ্যেই ভারতে চলাচল করে এমন একটি ট্রেন যে ট্রেনে চাপতে হলে যাত্রীদের কোনও টিকিট কাটতেই হয় না! কী নাম সেই ট্রেনের?
পোস্টের ক্যাপশনে রেল তার যাত্রীদের জানিয়েছে, "আপনি কি জানেন? ট্রেনের শেষ বগিতে 'X' অক্ষরটি বোঝায় যে ট্রেনটি কোনও কোচ না ফেলে রেখেই রওনা দিয়েছে।" ট্রেনের নানা সংকেত নিয়ে অনেকের মনেই বিস্তর রশ্ন রয়েছে। যেমন ‘LV’। দিনের বেলায় ‘LV’ মানে হলো, লাস্ট ভেহিকেল বোর্ড এবং রাতে আলো জ্বলার মানে হল ট্রেনটি পুরোপুরি এসে গেছে। দিনের বেলায় LV বোর্ড এবং রাতে টেইল ল্যাম্প লাগানো গার্ডের দায়িত্ব। যাত্রী বহনকারী ট্রেন বা মালবাহী ট্রেন দুটির ক্ষেত্রেই এই দুই সংকেত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এমনই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্রেনের হর্নও। জায়গা ও পরিস্থিতি বিশেষে ট্রেনের হর্নের আওয়াজও পাল্টে যায়। হর্ন আসলে রেলওয়ে গার্ড, কর্মী এবং যাত্রীদের জন্য একটি শ্রবণযোগ্য সতর্কতা যন্ত্র হিসাবে কাজ করে। এই হর্ন কেবলমাত্র ট্রেনের আগমন বা প্রস্থান নির্দেশ করে না, বিপদ সম্পর্কে সংকেত দেওয়া থেকে শুরু করে ট্র্যাক পরিবর্তন করা পর্যন্ত- প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য এক এক রকম হর্ন রয়েছে৷
একটি ছোট হর্নের সংকেত যার অর্থ, মোটরম্যান পরবর্তী ভ্রমণের জন্য যাত্রার আগে ট্রেনটিকে ধোয়া এবং পরিষ্কার করার জন্য ইয়ার্ডে নিয়ে যাবে। এবার যদি মোটরম্যান দু’টি ছোট হর্ন দেন, তাহলে এর মাধ্যমে তিনি রক্ষীকে রেলওয়ে সিগন্যালটি চালুর নির্দেশ দিতে বলছেন। তিনটি ছোট হর্ন খুব কমই বাজানো হয়। এর অর্থ, মোটরচালকরা মোটরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। আবার হঠাৎ যদি কোনও ‘প্রযুক্তিগত সমস্যা’ দেখা যায়, তখন মোটরম্যান এই ধরনের চারটি ছোট হর্নের ব্যবহারের মাধ্যমে সেটাই বোঝাতে পারেন। কখনও কখনও যাত্রীদের সতর্ক করার জন্য ক্রমাগত হর্ন বাজানো হয়ে থাকে, যার অর্থ হল ট্রেনটি কোনও রকম না থেমে স্টেশন পার করবে।
একটি লম্বা হর্ন এবং একটি ছোট হর্নের মাধ্যমে, মোটরম্যান ইঞ্জিন চালু করার আগে, ব্রেক-পাইপ সিস্টেম সেট করার জন্য গার্ডকে সংকেত দিয়ে থাকেন। যদি মোটরম্যান দু’টি লম্বা এবং দু’টি ছোট হর্ন দেন, তার মানে হল তিনি ইঞ্জিনের নিয়ন্ত্রণ নিতে গার্ডকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। যখন ট্রেনটি একটি রেল ক্রসিং দিয়ে চলতে থাকে, তখন দু’টি বিরতিসহ দু’টি হর্ন ব্যবহার করা হয়ে থাকে৷ এই বিশেষ হর্নের মাধ্যমে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সতর্ক করা হয়। মোটরম্যান যখনই ট্রেনের ট্র্যাক পরিবর্তন করতে চলেছে, তখন এই বিশেষ হর্নটি বাজানো হয়ে থাকে। এই ধরনের হর্নের শব্দ দু’টি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। হয় কোনও যাত্রী চেইন টেনেছেন অথবা গার্ড ভ্যাকুইম ব্রেক টেনেছেন৷















