১২১ বছরেও বদলায়নি ব্লেডের মাঝের অদ্ভুত ফাঁক, কারণ জানলে চমকে যাবেন আপনিও

Blade : দেখতে দেখতে ১২১ বছর পার করেছে ব্লেড। এই এতটা সময় কতকিছুই বদলে গিয়েছ, কেবল বদলায়নি ওই ছোট্ট ব্লেডটি

Kankana Mukherjee
২ মিনিট
১২১ বছরেও বদলায়নি ব্লেডের মাঝের অদ্ভুত ফাঁক, কারণ জানলে চমকে যাবেন আপনিও

দেখতে ছোটখাটো হলেও ধার অনেক। বেকায়দায় লাগলেই কেলেঙ্কারি। সঙ্গে সঙ্গে রক্তপাত। অথচ এমন জিনিস বাড়িতে না রেখেও বিপদ। কথা হচ্ছে ব্লেড নিয়ে। ছুঁড়ি, কাঁচি, দা, বটি অথবা অন্য ধারালো অস্ত্রের থেকে চেহারায় ছোট হলেও ধারে কম যায় না ব্লেডও। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবকিছুতে বদল এলেও বদল আসেনি ব্লেডের গড়নে। সেই চিরাচরিত পাতলা ব্লেডেই এখনও ভরসা।

দেখতে দেখতে ১২১ বছর পার করেছে ব্লেড। এই এতটা সময় কতকিছুই বদলে গিয়েছ, কেবল বদলায়নি ওই ছোট্ট ব্লেডটি। ব্লেডের দুদিকে ধার,আর মাঝখানে একটা নকশা করা ফাঁকা জায়গা। এই নকশাটি করেছিল জিলেট কোম্পানি। ব্লেডের পথচলাও শুরু হয়েছিল এই কোম্পানির হাত ধরেই। ১৯০১ সালে। তবে এমন নকশা একচেটিয়া হল কীভাবে? কেন সময়ে গজিয়ে ওঠা আরও অনেক ব্লেড কোম্পানিগুলো কেউই নিজেদের ঘরানায় নতুন নকশা করতে পারল না ব্লেডের?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আদিম মানুষের ক্যালেন্ডার আবিষ্কার হলো যেভাবে...

Ancient Cave Art Calendar: গুহার ভিতর বসবাসের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব, এই গুহাগুলিতে মানুষের যাতায়াত ছিল কেবলমাত্র ছবি আঁকার তাড়নায়। আর্ট স্কুল?

বিষয়টা ভাবতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে এত এত বদলের মধ্যেও ওই ছোট ব্লেডের নকশায় বদল হয়নি কোনও। এমনকী নতুন কোম্পানি এসেও প্রতিযোগিতার নিরিখে জিলেট কোম্পানির নকশাকে বদল করেনি। কারণটা অবশ্য বেশ মজার। আজকের নতুন প্রজন্ম ইলেকট্রিক রেজার অথবা ট্রিমার দিয়ে দাড়ি কামালেও একটা সময় পর্যন্ত রেজার বলতে একমাত্র ছিল জিলেট কোম্পানি। বাজারে এখন যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক রেজার পাওয়া যায় তা এসেছে হল আমলে। তার আগে পর্যন্ত ধাতব রেজারই ছিল বিকল্প। এই ধাতব রেজারে ব্লেড লাগিয়ে তবে দাড়ি কামাতে হতো। এখনও অনেক বাড়িতেই ব্যবহার করা হয় ধাতব রেজার।

ধাতব রেজারের মধ্যে ব্লেড লাগানোর জন্য যে জায়গাটি ফাঁকা রেখেছিল জিলেট কোম্পানি তার নকশার সঙ্গে মানানসই নকশা তুলেছিল ব্লেডের গড়নেও। যাতে দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে। পরবর্তীকালে বাজারে ব্লেডের চাহিদা বাড়ছে দেখে ইতিউতি গজিয়ে উঠতে থেকে নতুন ব্লেড কোম্পানি তবে তখনও রেজার বলতে ভরসা ছিল একমাত্র জিলেট। সুতরাং প্রতিযোগিতার বাজারেও সেই পুরোনো নকশাকে অবিকল তুলতে বাধ্য হল নতুন কোম্পানিগুলি। কারণ তাদের ভয় ছিল যদি অন্য নকশার ব্লেড বানালে সেটি জিলেট কোম্পানির রেজারে লাগানো না যায় তবে তো এতো আয়োজন সবই বৃথা।

১৯০১ সালে ব্যবসা শুরু করে জিলেট। ১৯০৪ সালে তারা বাজারে আনে ‘কিং ক্যাম্প’ নামের একটি ব্লেড। কিং ক্যাম্প জিলেট আসলে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং কর্ণধার। তার নামেই কোম্পানি, তার নামেই ব্র্যান্ড। ওই বছরেই তাঁর নতুন ব্লেডের নকশা পেটেন্ট করেন। এবং প্রথম উৎপাদনই ১৬৫ ব্লেড তৈরি করে কোম্পানি। ক্রমেই জনপ্রিয়তা পেতে থাকে ব্লেড। কেবল চুল-দাড়ি কাটাই নয়, বাড়ির নানা কাজেই ব্যবহার হয় এই ব্লেড। মানুষ এ ধরনের ব্লেড ব্যবহারেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। ব্লেডের এ গঠন পরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীকালে ব্লেডের নকশার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয় নানা ধরনের রেজার। আশ্চর্যের ব্যাপার, পরবর্তী সময়ে বাজারে নানা ধরনের স্ক্রু, নাট বল্টু এলেও ব্লেডের মূল নকশা একই থেকে গিয়েছে বরং ব্লেডের নকশা অনুযায়ী তৈরি করা হয় স্ক্রু ও নাট-বল্টু। আর সেটাই ক্রমশ অভ্যাস হয়ে যায় সকলের। তাই ঝড়, তুফান, যুদ্ধ, মহামারী কোনও কিছুই বদলাতে পারল না ব্লেডের মাঝের ওই নকশাটিকে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।