জোড়া বিস্ফোরণ, ৯৫ জনের মৃত্যু! ইরানের বিদ্রোহী নেতার কবরস্থানেই বিস্ফোরণ কীসের প্রতিশোধ?
Iran Blasts : কেরমানে সোলেইমানির কবরস্থানের দিকে যাওয়ার রাস্তার পাশে হাজির হওয়া সাধারণ মানুষের বিশাল ভিড়। এই ভিড়ে হামলা চালানোই ছিল লক্ষ্য।

বছরের তৃতীয় দিনেই ৯৫ জনের প্রাণ নিল বিস্ফোরণ! বুধবার ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কেরমানে একটি অনুষ্ঠানে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে অন্তত ৯৫ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির স্মরণে একটি জমায়েত হয়েছিল শহরের ওই এলাকায়, শ'য়ে শ'য়ে মানষের ভিড়ের মাঝেই ঘটে বিস্ফোরণ। প্রথম বিস্ফোরণের প্রায় ২০ মিনিট পরেই ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি। বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি কেউই। তবে ইরানের কর্মকর্তারা এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে সন্ত্রাসবাদীদেরই হাত দেখছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা আবার বলছেন, বিস্ফোরণগুলি ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের দ্বারাই পরিচালিত।
ইরানে বুধবারের এই জোড়া বিস্ফোরণ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। এর আগে ইসলামিক স্টেট সহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলা ঘটেছে এই দেশে। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাহরাম ইনোল্লাহির মতে, মৃতের সংখ্যা ৯৫, তা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার চতুর্থ বার্ষিকীর স্মরণে সেদিন একটি জমায়েত ঘটেছিল মানুষের। সোলেইমানির সমাধিস্থলের কাছেই ঘটে এই বিস্ফোরণ। রাজধানী তেহরানের প্রায় ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের কেরমান শহর কেঁপে ওঠে বোমার আঘাতে। প্রথম বিস্ফোরণে বেঁচে যাওয়া মানুষদের ফের ছিন্নভিন্ন করে দেয় দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি। শহিদের কবরস্থানের দিকে যাওয়ার রাস্তার ধারে দু'টি বিস্ফোরকই সন্ত্রাসবাদীরা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Iran Inquilab Zindabad: ইরানের মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, পিছু হটছে পুলিশের গাড়ি, পিছু হটছে গাস্ত-ই এরশাদের অত্যাচারী ‘পৌরুষ’।
বুধবার প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে বেলা ৩ টে নাগাদ। অন্যটি তার প্রায় ২০ মিনিট পরে। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ ওয়াহিদি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিস্ফোরণেই সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম রাইসি অপরাধীদের এবং এই হামলার নেপথ্যে থাকা মাথাদের শীঘ্রই চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেইনি, এই জোড়া হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
ঘটনাস্থলের একটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে কেরমানে সোলেইমানির কবরস্থানের দিকে যাওয়ার রাস্তার পাশে হাজির হওয়া সাধারণ মানুষের বিশাল ভিড়। এই ভিড়ে হামলা চালানোই ছিল লক্ষ্য। এর আগে ইরান সে দেশের সীমানার মধ্যে কোনও ব্যক্তি বা বিভিন্ন স্থানগুলিতে হামলার জন্য ইজরায়েলকেই দায়ী করেছে। ইজরায়েল সেই দাবি কখনও নিশ্চিতও করেনি, অস্বীকারও করেনি। তবে কবরস্থানে এই বিস্ফোরণগুলিতে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের জড়িত থাকার কোনও ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Iran Hijab Protest: ইরানের কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, ইরান সরকার নীতিপুলিশ বাহিনী ‘গস্ত-এ-এরশাদ’-কে সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।”
২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির। কেরমানে তাঁর স্মৃতিসৌধেই বিস্ফোরণ ঘটে। যেহেতু রাশিয়া এবং তুরস্ক সহ বেশ কয়েকটি দেশ এই হামলার নিন্দা করেছে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবও এই হামলার নিন্দা করেছেন।
সোলেইমানি ছিলেন ইরানের আঞ্চলিক সামরিক কাজকর্মের মূল উদ্যোক্তা। ইরানের ধর্মতন্ত্রের সমর্থকদের মধ্যে তিনি 'জাতীয় আইকন' হিসেবে সমাদৃত। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের সরকারকে সাহায্য করেছিলেন সোলেইমানি। আসাদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের আরব স্প্রিং বিক্ষোভ হয়। সেই যুদ্ধ-উত্তেজনা আজও চলছে।
সোলেইমানির মৃত্যুতে এর আগেও বিশাল মিছিল হয়েছে। ২০২০ সালে তাঁর শেষকৃত্যে কেরমানে এত ভিড় হয়েছিল যে পদপিষ্ট হয়ে কমপক্ষে ৫৬ জন নিহত হন এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হন। ইরান কয়েক দশক ধরে হামাস, লেবাননের শিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহী সহ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে আসছে। হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইজরায়েলের ১,২০০ জন নিহত হওয়ার পর ইজরায়েল গাজায় যুদ্ধ চালালে, হিজবুল্লাহ এবং হাউথি দুই গোষ্ঠীই ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করেছে।

২০২২ সালে, সুন্নি মুসলিম জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ইরানের একটি শিয়া প্রার্থনাস্থলে এক মারাত্মক হামলার দায় স্বীকার করে, ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হন। এর আগে তারা ২০১৭ সালে এক জোড়া বোমা হামলা চালায় ইরানের সংসদ এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সমাধিকে লক্ষ্য করে।
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি সোলেইমানিকে মার্কিন সেনার হত্যা, বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা এবং তেহরানের দু'টি ইরাকি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও জটিল হয়। ইজরায়েলকে ওয়াশিংটনের সমর্থন করে, ফলে মার্কিন বাহিনী ইরাক ও সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত জঙ্গিদের আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং মার্কিন সেনারাও পাল্টা প্রতিশোধ নিতে বিমান হামলা চালিয়েছে।















