সস্তায় স্বর্গের হাতছানি, চিত্তবাবুর কিংবদন্তি স্ট্যু ৭৪ পেরিয়েও কেন এত জনপ্রিয়
ChittaBabur Dokan : ৭৪ বছর ধরে বাঙালির স্বাদের ঘরে বসত করেন চিত্তবাবু, অফিসপাড়ার সেই স্ট্যু-এর স্বাদ মিলবে বাড়িতেই

একটা টোস্ট আর চিকেন স্ট্যু, সঙ্গে এক কাপ চা। ৭৪ বছর ধরে এতেই বাজিমাত। হাল-আমলের পিৎজা, পাস্তার ভিড়ে জেল্লা কমেনি এক রত্তিও। আর পাঁচটা রংচঙে দোকানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এখনও বলে বলে গোল দেয় এই সেকেলে দোকানটিই।
কলকাতার অফিস পাড়ায় দীর্ঘদিনের বাস এ দোকানের। কালচে দেওয়াল, আনাচে কানাচে জমা অতীতের আস্তরণ। ক্যাফে, রেস্তোঁরায় যাওয়া বাঙালির এ এক আদ্যিকালের ঠেক। পুরাতন কাঠের বেঞ্চে রোজ দিন এখানেই বসে আড্ডার আসর। কাজের চাপে যখন হাঁসফাঁস প্রাণ তখন এই চিত্তবাবুই ভরসা।
এ তিলোত্তমার পথের বাঁকে বাঁকে অজস্র ইতিহাস। অজান্তেই শুরু হয়ে যায় টাইম ট্রাভেল। তা থেকে পালানোর পথ নেই। পা চেপে ধরে অতীতের নস্টালজিয়া। চিত্তবাবুও সেই সফরের শরিক। মানুষের পেটের তৃপ্তি ঘটাতে পারলে সহজেই যে মনের হদিশ মেলে, এই সহজ সত্যিটা বুঝেছিলেন তিনি। তাই খুলে বসলেন হেঁশেল। তবে ব্যবসার আসল রহস্যটা অবশ্য অন্য। রোজদিন খাদ্য তালিকায় টিকে থাকতে হলে যে অতিরিক্ত তেল ঝাল মশলাদার খাবার চলবে না সেটা তিনি ভালোই বুঝেছিলেন। সুতরাং, বাছলেন পুষ্টিকর রাস্তা। পেট ঠিক তো, সব ঠিক!
ধর্মতলা মোড় ছাড়িয়ে সবে হাঁটা লাগিয়েছেন রাজভবনের দিকে। ডান হাতে পড়বে বিরাট কে সি দাস-এর পশার। সেদিক থেকে নজর ফিরিয়ে আরও খানিকটা সামনে এগোলেই পিয়ারলেস হাউসের সামান্য আগে সেই কাঙ্খিত গলি। জেমস হিকি সরণী, অর্থাৎ আজকের ডেকার্স লেন। খাদ্য গলি বললেও ভুল বলা হয়না একে! পরপর সব দোকান। তারই মাঝে বিরাজমান চিত্তবাবু। চিত্তবাবু ওরফে চিত্তরঞ্জন রায়। এ গলিতে একডাকে সকলেই চেনেন তাঁকে। নাম ভূমিকার এই মানুষটি অবশ্য আজ আর নেই। ২০০০ সালে চিত্তবাবুর মৃত্যুর পর দোকান চালাতেন তাঁর ভাই নারায়ণ চন্দ্র রায়। তাঁর পরে ব্যবসার হাল ধরেন চিত্তবাবুর দুই ছেলে সুবীর রায় এবং সুজয় রায়।
ওপার বাংলা থেকে আসা কিশোর চিত্তরঞ্জন প্রথমে ঘর ভাড়া নিলেন রাধাবাজারে। সেখানে ব্যবসা চলল দিনকয়েক। তারপর সেই ভাড়া দোকানের পুঁজিকে সম্বল করেই ডেকার্স লেনে পাকাপাকি জায়গা করলেন ‘চিত্তবাবু’। পঞ্চাশ টাকা সেলামিতে কেনা সেই এক চিলতে দোকানঘরটিই আজ অফিসফেরতা বাঙালির পীঠস্থান। সময়ের স্রোতে বহু কিছু বদলেছে দোকানের। ছেলেদের হাত হয়ে দোকান এখন ভাইপোর দায়িত্বে। উত্তরাধিকের বোঝা পিঠে নিয়ে হাসিমুখে দোকান সামলাচ্ছেন চিত্তবাবুর ভাইপো। অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে আসা কলকাতার এই নামজাদা দোকানটি আর আটকে নেই চায়ের কাপে। বেড়েছে তালিকা। তবে বদলায়নি পুষ্টির রসায়ন। কখনও ধোঁয়া ওঠা চা, তাকে সঙ্গত করছে চপ কিংবা পকোড়া। কখনও আবার চিকেন স্ট্যু সহযোগে বাটার টোস্ট, তাতেই উদর তৃপ্তি। গরম এবং টাটকা, এটাই আসল ইউএসপি। আর এতেই গোলের পর গোল দিচ্ছে বাজার চলতি মুখরোচক খাবারের ডেরাগুলোকে। ঘুগনি, টোস্ট, চিকেন স্ট্যু, ফিশ ফ্রাই, ফিশ রোল, চিকেন পকোড়া হয়ে সাম্প্রতিকতম সংযোজনে এখন মিলছে খিচুড়িও। তবে দোকানের আসল ব্যবসার হাল ধরে রেখেছে ৭০ টাকার চিকেন স্ট্যু-এর ঝোলে চোবানো ৭ টাকার পাউরুটিটিই।
একে স্বাস্থ্যকর খাবার, তায় আবার সুস্বাদু। তার ওপর শীতের আমেজ। ডায়েট করা বাঙালিও তাই চোখ বুজে ভরসা করে চিকেন স্ট্যু-এর ওপরই। তবে এই ওয়ার্ক ফর্ম হোমের যুগে অফিসের ফাঁকের ওই মধ্যাহ্নভোজনখানা বড্ড ফিকে হয়ে গিয়েছে। চিত্তবাবুকে তাই মনে পড়ছে রোজই। এখন যদি বাড়িতেই মেলে সেই স্বাদ? তবে তো ষোলো কলা পূর্ণ! কী কী লাগে, কীভাবেই বা তৈরি হয় সেই স্ট্যু, রইল সেই বৃত্তান্ত।
উপকরণ:
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Kolkata Chinese: মহানগরের আনাচ-কানাচে এমন অনেক রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে পেতে পারেন ১০০ ভাগ খাঁটি চিনে খাবারের স্বাদ।
মুরগির মাংস - ৫০০ গ্রাম
পেঁয়াজ - ২টি
আদা - এক টুকরো (২ ইঞ্চি মাপের)
রসুন - ৩-৪ টি কোয়া
গাজর - ১টি
বিন্স - ৬-৭টি
আলু - ২টি
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mahalaya 2022: মহালয়ার সকালে কোথায় করবেন প্রাতরাশ? জেনে নিন।
পেঁপে - ১টি
কাঁচা লঙ্কা - ২টি
গোটা গোলমরিচ - ১ টেবিল চামচ
তেজ পাতা - ২-৩টি
নুন - স্বাদ মতো
হলুদ গুঁড়ো - এক চিমটে
এলাচ - ৩-৪টি
লবঙ্গ - ২-৩টি
দারচিনি - ১ টুকরো
দুধ - ২ হাতা
মাখন - ২ টেবিল চামচ
প্রণালী :
বাজার থেকে টুকরো করে আনা মুরগির মাংসকে প্রথমেই ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ডুমো ডুমো করে কেটে নিতে হবে সবকটি সবজি। কাটা ধোয়ার পর্ব মিটলে চুলায় প্রেশার কুকার বসিয়ে তাতে এক চামচ মাখন দিয়ে হালকা গরম করে নিতে হবে। এরপর একে একে গোটা গোলমরিচ, তেজ পাতা, লবঙ্গ, এলাচ ও দারচিনি ফোড়ন দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করেই তাতে দিতে হবে পেঁয়াজ কুচি।
পেঁয়াজে হালকা সোনালি রং ধরলে কুকারে আদা বাটা, রসুন বাটা ও গোটা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে কষতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে মশলা পুড়ে না যায়। ব্যাস অর্ধেক কাজ মিটে গেল এখানেই। এরপর কেবল মুরগির মাংস ও সব্জির টুকরোগুলো মিশিয়ে পরিমাণ মতো নুন ও চিনি দিয়ে জল ঢেলে দিন। খেয়াল রাখবেন ততটাই জল দেবেন, যাতে জলে সব সব্জি ও মাংসের টুকরোগুলি ডুবে থাকে। ঢাকনা বন্ধ করে খানিক অপেক্ষা করুন। ঠিক তিনটে সিটি হলে কুকারের ঢাকনা খুলে তাতে দুধটা মেশাতে হবে। ব্যাস তৈরি চিকেন স্ট্যু! এবার ওপর থেকে গোলমরিচ গুঁড়ো ছড়িয়ে গরমাগরম পরিবেশন করলেই দিল খুশ! অমনি বাঙালির প্রিয় চিত্তবাবু ধরা দেবেন বাড়ির হেঁশেলেও।
















