মৃত্যুতেও অদ্বিতীয়া তিনি, ‘জিয়নকাঠি’র ছোঁয়ায় আবারও পর্দায় ফিরছেন ঐন্দ্রিলা শর্মা

Aindrila Sharma : ৫ ডিসেম্বর থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আবার সম্প্রচারিত হবে ‘জিয়নকাঠি’

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
মৃত্যুতেও অদ্বিতীয়া তিনি, ‘জিয়নকাঠি’র ছোঁয়ায় আবারও পর্দায় ফিরছেন ঐন্দ্রিলা শর্মা

আর মাত্র দুদিনের অপেক্ষা, তারপরই পর্দায় ফিরছেন ঐন্দ্রিলা শর্মা। এক্কেবারে সুস্থ সেখানে নায়িকা ঐন্দ্রিলা। কোনও ক্যানসারের যন্ত্রণা নেই, নেই হৃদরোগের ভ্রূকুটিও। দিব্যি হেসে খেলে, অভিনয় করে বেড়াবেন তিনি। আগামী সোমবার অর্থাৎ ৫ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত ধারাবাহিকে দেখা যাবে তাঁকে।

ভাবছেন এসব স্বপ্ন কিনা! এই তো সবে দিন তেরো হল চলে গিয়েছে ঐন্দ্রিলা। নিঃশব্দে তো নয়, বরং রীতিমত নাড়িয়ে দিয়েছে তাঁর মৃত্যু। তাঁকে ঘিরে চলেছে অজস্র কথোপকথন। ২৪ বছরের ঐন্দ্রিলাই যেন নজির। কিন্তু সেসবও এখন থেমেছে। এখন নেই অনেক কিছুই। রোজকার মেডিক্যাল বুলেটিন নেই, হাসপাতালে ছোটাছুটি নেই, নেই কোনও অপেক্ষাও। আছে কেবল স্মৃতি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঐন্দ্রিলাহীন ১৩ দিন, কেমন আছেন সব্যসাচী চৌধুরী?

Aindrila Sabyasachi: ইনস্ক্রিপ্ট যোগাযোগ করেছিল তাঁর কাছের বন্ধু, সহকর্মী এবং টলিউডের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা সৌরভ দাসের সঙ্গে।কেমন আছেন সব্যসাচী?

২০১৫ সালে ক্লাস ইলেভেনে পড়ার সময় প্রথম ক্যানসারে আক্রান্ত হন ঐন্দ্রিলা। ওই বয়সেই দাপুটে ব্যাটিং করেছিলেন ছোট ঐন্দ্রিলা। ক্যানসারকে জয় করেই পা রেখেছিলেন টলিপাড়ায়। তারপর পেরিয়ে যায় প্রায় বেশ কয়েক বছর। গত বছর সিরিয়ালের শ্যুটিং চলাকালীনই তিনি আবার আক্রান্ত হন ক্যানসারে। মেডিকেল ক্রিজে সেবারও হাল ধরেন স্বমহিমায়। একের পর এক চার ছয়ের ঝড় তুলে ম্যাচটা ঘুরিয়ে দেন। গো হারান হারিয়ে দেন ক্যানসারকে। এবারের তো এমনই অলৌকিক কিছু ঘটতে পারতো। কিন্তু মিরাক্কেল ঘটল না। দিন কুড়ির লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ এবার প্রকৃতই বশ করেছে তাঁকে।

কিন্তু ঐন্দ্রিলা তো ফিনিক্স পাখি। ফিরে আসার হাজারটা পথ তিনি জানেন। জানেন কীভাবে জাঁকিয়ে থেকে যেতে হয় মানুষের মনের মধ্যে। একেবারে রোজকার অভ্যাস হয়ে। তাই মৃত্যুর পরেও এতো এতো আলোচনা পর্যালোচনার মধ্যমণি তিনিই। একটা মৃত্যু, আর তাকে ঘিরেই জীবনের কত কত দিক খুলে দিল ঐন্দ্রিলা শর্মা। প্রেম, বন্ধুত্ব, লড়াই আরও হাজারটা সমীকরণ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃত‍্যুতেও জয়ী ভালবাসা! ঐন্দ্রিলা-সব‍্যসাচী মানুষের মনে থেকে যাবেন অমর সঙ্গী হয়ে

Aindrila Sharma: সব্যসাচী আর ঐন্দ্রিলার প্রেমের জয়গাথা রচিত হলো সমস্ত মানুষের মনে।

কাজ পাগল মানুষ ছিলেন ঐন্দ্রিলা। হয়তো মনে মনে জানতেন কাজই তাঁকে রেখে দেবে সকলের মধ্যে। তাই জীবনের এতটুকু সময়ও তিনি নষ্ট করেননি। একের পর এক চরিত্রে বারবার নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন। ২০১৭ সালে কালার্স বাংলার একটি ধারাবাহিক ‘ঝুমুর’- দিয়েই টেলি জগতে পা রাখেন ঐন্দ্রিলা। এরপর ২০১৮ সালে স্টার জলসার ‘জীবন জ্যোতি’, সেখানেও মুখ্য চরিত্র। অতঃপর হাতে পান সেই মোড় ঘোরানো চরিত্র - জাহ্নবী। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা অভিনয় করেছ সান বাংলার ‘জিয়ন কাঠি’ ধারাবাহিকে। পাশাপাশি চলতে থাকে ওয়েব সিরিজের কাজও। গত বছর দ্বিতীয়বার ক‍্যানসারের চিকিৎসা চলাকালীনও শুট চালিয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা। মারণ রোগ সঙ্গে নিয়েই শেষ করেন জিয়ন কাঠির শুটিং। এই ধারাবাহিকটিই লাইমলাইট এনে দিয়েছিল জাহ্নবী ওরফে ঐন্দ্রিলাকে।

তারাদের দেশে এখন ঐন্দ্রিলা। কিন্তু অজস্র সব স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে সেই হাসিমুখ। নেট দুনিয়ায় উপচে পড়ছে সেসব। এক মুহুর্তে যেন মনে হয় সব খুব জীবন্ত। বড্ড বাস্তব। ঐন্দ্রিলাকে ঘিরে সব স্মৃতিই এখন সম্বল। আর তাতেই ভর করে বাঁচতে চাইছেন অনুগামীরা। তাই ঐন্দ্রিলার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এক দারুণ উদ‍্যোগ নিয়েছে সান বাংলা চ‍্যানেল। পরশু বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে আবার সম্প্রচারিত হবে ‘জিয়নকাঠি’। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছিল ধারাবাহিকটি, শেষ হয় ২০২১-এর ১৮ এপ্রিল। জাহ্নবীর ওরফে ঐন্দ্রিলার বিপরীতে নায়ক হিসেবে দেখা গিয়েছিল জয় মুখোপাধ্যায়কে। যদিও পরবর্তীতে ঝামেলার জেরে জিয়নকাঠি ধারাবাহিক থেকে বাদ পড়েছিলেন জয়। বদলে ঐন্দ্রিলার বিপরীতে দেখা গিয়েছিল সোমরাজ মাইতিকে।

ঐন্দ্রিলা প্রকৃতই অদ্বিতীয়া। মৃত্যুতেও তাই তাঁর শেষ নেই। বরং পিছুটান আছে। আছে মায়া। আর আছে একটা ‘জিয়ন কাঠি’। যা একবার ছুঁইয়ে দিলেই আবারও ছুটে, খেলে, হেসে বেড়াবেন ঝলমলে ঐন্দ্রিলা।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।