কোটি টাকার উপহার ইমরান বিক্রি করছেন চোরবাজারে?
Bushra Bibi Audio Clipping viral: পাক প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় এমনই বিভিন্ন জিনিস উপহার পেয়েছিলেন ইমরান খান। বিতর্কের সূত্রপাত এখান থেকেই।

মাত্র ২১ সেকেন্ডের একটি টেলিফোনিক অডিও ক্লিপ। ফোনের একপ্রান্ত থেকে এক মহিলা বলছেন, তাঁর স্বামী অনেক মূল্যবান ঘড়ি উপহার পেয়েছেন। সেগুলি এখন আর কোনও কাজে লাগে না। সেসব বিক্রি করে দিতে হবে। অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি সেই বক্তব্যে সায় দিচ্ছেন। সামান্য এই অডিও ক্লিপিংয়ে আপাতদৃষ্টিতে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ছে না। কিন্তু গভীরে গেলেই ‘আসল ব্যাপারটি’ বোঝা যাবে। কারণ, অডিওয়ে যে মহিলার গলা শোনা গিয়েছে, তিনি আর কেউ নন, বুশরা বিবি। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্ত্রী।
ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান অধিনায়কের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এখনও পুরনো হয়ে যায়নি। তার মধ্যেই তাঁর স্ত্রীর এই অডিও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, ঘরের জিনিস তো যে কেউ বিক্রি করতে পারে। ইমরান-পত্নী তাতে কি দোষ করলেন? কিন্তু ব্যাপারটি হল, যে বিশেষ মূল্যবান ‘ঘড়ি’গুলির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি আদতে উপহার। পাক প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় এমনই বিভিন্ন জিনিস উপহার পেয়েছিলেন ইমরান খান। বিতর্কের সূত্রপাত এখান থেকেই।
یہ ہے ایمان دار عمران خان کی کہانی جن کی بیگم صاحبہ وزیراعظم ہاؤس میں بیٹھ کر گھڑیوں کا کاروبار کر رہی تھیں۔۔آج بشری بی بی نے نیازی صاحب کو پکا گھڑی چور ثابت کر دیا
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইমরান খানের গদিচ্যুতি হওয়ার পরেও ঠিক যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল তেহরিক-এ-ইনসাফ, তখনই এই ঘটনা সামনে আসা আবারও যে তাদের যথেষ্ট বিপদে ফেলবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
— Hina Parvez Butt (@hinaparvezbutt)
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Pakistan New Army in Chief: জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হতে চলেছেন জেনারেল আসিম মুনির আহমেদ। কী তাঁর পরিচয়?
যদিও অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। ওই ক্লিপে বুশরা বিবির সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন জুলফি বুখারি। তাঁর পরিচয়, ইমরানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের এক উচ্চপদস্থ নেতা। বুশরা বিবি তাঁকে বলছেন, ‘খান সাহেব’ তাঁর বেশকিছু উপহার জুলফিকে দিতে চান। তিনি যেন সেগুলি কোথাও বিক্রির ব্যবস্থা করেন। বিরোধীদের দাবি, এই উপহার একান্তই রাষ্ট্রের। কারণ, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকে এই উপহার পেয়েছিলেন ইমরান খান। পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, অন্য রাষ্ট্র যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে কোনও উপহার দেয়, তখন সেটি রাষ্ট্রের আওতায় চলে আসে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা ‘তোষাখানা’-এ সেটি রেখে দিতে হয়। সেটি ব্যক্তিগত মালিকানার জিনিস হতে পারে না।
এর আগেও ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। চলতি বছরের নভেম্বরে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সালেমের দেওয়া একটি ঘড়ি তিনি বিক্রি করে দেন। ভারতীয় মুদ্রায় যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা! এর আগেও নাকি ইমরান এমন উপহার বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বিরোধীরা।
সেইসঙ্গে তাঁর বেগম বুশরা বিবিও বিভিন্ন সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এর আগেও তাঁর একটি বিতর্কিত অডিও ভাইরাল হয়েছিল। বিরোধীদের বক্তব্য, ইমরান খানের মঙ্গলের জন্য তিনি নাকি ‘তুকতাক’ও করেন। সেই কথার আদৌ কোনও ভিত্তি আছে কিনা, জানা নেই। কিন্তু ঘড়ি বিক্রি যে ইমরানকে বারবার চাপে ফেলেছে, সে কথা বলাই বাহুল্য।
















