পুলওয়ামা বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড? ইমরানের কাঁটা নয়া পাক সেনাপ্রধানের আসল পরিচয় জানুন

Pakistan New Army in Chief: জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হতে চলেছেন জেনারেল আসিম মুনির আহমেদ। কী তাঁর পরিচয়?

Aritra Som
৩ মিনিট
পুলওয়ামা বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড? ইমরানের কাঁটা নয়া পাক সেনাপ্রধানের আসল পরিচয় জানুন

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির কথা নিশ্চয়ই সবার স্মরণে আছে। ভালোবাসার এমন দিন লাল হয়েছিল ঠিকই; তবে গোলাপে নয়, রক্তে। ভূস্বর্গ কাশ্মীর দেখেছিল ৪০ জন ভারতীয় সিআরপিএফ জওয়ানের মরদেহ। দেখেছিল আরও একটি আত্মঘাতী হামলার পরিণাম। পুলওয়ামার সেই ঘটনা আজও ভারতের ক্যালেন্ডারে কালো দাগ কেটে গিয়েছে। সেই ঘটনার সাড়ে তিন বছর অতিক্রম হয়ে গিয়েছে। আজ, ২০২২-এর নভেম্বর মাসে দাঁড়িয়ে হঠাৎ সেই হামলার ঘটনা মনে করা কেন? কারণ, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বরেই নতুন সেনাপ্রধানের নাম ঘোষণা করল পাকিস্তান। জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার পরিবর্তে সেই জায়গায় বসতে চলেছেন জেনারেল আসিম মুনির আহমেদ। সেই অসীম মুনির, যার নাম ২০১৯-র পুলওয়ামা হামলার সময় উঠে এসেছিল। অভিযোগ, তিনিই নাকি হামলার অন্যতম মস্তিস্ক ছিলেন। হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াও নাকি তিনিই ঠিক করেছিলেন। আপাতত, নতুন সেনাপ্রধানের অভিষেকের দিকেই তাকিয়ে আছে ভারত সরকার। তটস্থ সমস্ত মন্ত্রক। তাহলে কি এটাই ছিল আসিম মুনিরের ‘পুরস্কার’? প্রশ্ন উঠছে অনেকের মনেই।

বিশদে আসার আগে একবার আসিম মুনিরের দিকে একটু আলোকপাত করা যাক। ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের মাংলার অফিসার্স ট্রেনিং স্কুলের মাধ্যমে তাঁর সেনাবাহিনীর যাত্রা শুরু। প্রশিক্ষণের পর একটু একটু করে মাঠে নামা শুরু। নিয়মমাফিক তাঁর পদোন্নতিও ঘটতে থাকে। প্রায় ৩৬ বছরের সেনা অফিসারের কেরিয়ারে ঘাত প্রতিঘাত অনেক এসেছে। সেটাই স্বাভাবিক। ভারত ও পাকিস্তান – দুই দেশের সেনাদের ক্ষেত্রেই এই কথা সত্য। তার উপর নিজের সেনা কেরিয়ারে পাকিস্তান রাষ্ট্রের তরফ থেকে বিস্তর পুরস্কারও জুটেছে। ২০১৮ সালে আসিম মুনির পেয়েছেন হিলাল-ই-ইমতিয়াজ(মিলিটারি) সম্মান, যা পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার।

তবে ভারতের দিক থেকে বিষয়টি একটু অন্যরকম। ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের(Inter Services Intelligence) ২৩ তম ডিরেক্টর জেনারেল হন আসিম মুনির আহমেদ। অবশ্য তারও দু’বছর আগে থেকে তিনি মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উল্লেখ্য, আসিম মুনির যখন আইএসআইয়ের প্রধান হন, তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদে ইমরান খান। ২০১৯ সালের ১৬ জুন আইএসআই প্রধানের পদ থেকে সরে যান মুনির। তার মাত্র কয়েকমাস আগেই ঘটে গিয়েছে পুলওয়ামার সেই ভয়াবহ ঘটনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাকিস্তান মানেই দুর্নীতি! ইমরান খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে

ইমরান খানের গদিচ্যুতি হওয়ার পরেও ঠিক যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল তেহরিক-এ-ইনসাফ, তখনই এই ঘটনা সামনে আসা আবারও যে তাদের যথেষ্ট বিপদে ফেলবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

২০১৯-এর ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে কাশ্মীর দেখে নিয়েছে উরির সেনাঘাঁটিতে হামলা এবং ১৯ জন জওয়ানের মৃত্যু। তার পরেই ভারত সরকার ও ভারতীয় সেনাবাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সার্জিকাল স্ট্রাইক করে। এরপর আসে ২০১৯-এর ওই দিনটি। ভারতীয় সেনার একটা কনভয় জম্মু শ্রীনগর জাতীয় সড়ক ধরে কাচ্ছিল। পুলওয়ামার লিথাপোরা গ্রামে হঠাৎই একটি চারচাকার গাড়ি ধেয়ে আসে কনভয়ের দিকে। বাকিটা কেবল রক্ত, ধোঁয়া, বারুদ আর ৪০ জওয়ানের পরিবারের কান্নায় ভরা। নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে যায়। স্বাভাবিকভাবেই হামলার পর নজর যায় পাকিস্তানের দিকে। অন্যদিকে, জইশ-ই-মহম্মদও হামলার দায় স্বীকার করে। তবুও পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের দিক থেকে সন্দেহের চোখ সরেনি ভারতের।

সেই সময় আইএসআইয়ের শীর্ষ পদে রয়েছেন আসিম মুনির। অভিযোগ, পুলওয়ামায় হামলা চালানো, তার রুটম্যাপ সমস্ত কিছুর অন্যতম মাথা ছিলেন তিনিই। পাশাপাশি হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া কী হবে, দেশের নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা কীরকম হবে, সেটাও আসিম মুনিরই নাকি ঠিক করেছিলেন। ভারতীয় সেনার উচ্চপদস্থ অফিসারদের বক্তব্য ছিল, এই হামলা জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠী কিছুতেই একা করতে পারে না। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ, অস্ত্র ইত্যাদি পরীক্ষা করেও সেই ইঙ্গিতই পাওয়া গিয়েছে। পাক গুপ্তচর সংস্থা এবং তার প্রধান সাহায্য না করলে এই কাজ হতে পারে না।

সেই সেনা অফিসার, জেনারেল আসিম মুনির এখন পাকিস্তানের নতুন সেনাপ্রধান। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে তিনি নতুন দায়িত্ব নেবেন। বর্তমান পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজে তাঁর নাম সামনে আনেন। তারপরই এমন ঘোষণা। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে ভারত। কারণ, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পাশাপাশি নতুন সেনাপ্রধানের নিয়োগও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে। তাঁর মস্তস্কপ্রসূত সিদ্ধান্তের দিকে কড়া নজর থাকে সবার; বিশেষ করে ভারতের। আর এখন সেই জায়গায় আসিম মুনিরের অবস্থান কি পুলওয়ামা হামলার ‘পুরস্কার’? সেনাবাহিনীর অনেক অফিসারই কিন্তু তেমনটাই মনে করছেন। অবশ্য এর পাশাপাশি আরও একটা কারণ উঠে আসছে। আসিম মুনির যখন আইএসআই প্রধান হন, তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসনে ইমরান খান। প্রাক্তন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ ক্ষমতায়। সেই সময় থেকেই ইমরান আর আসিম মুনিরের দ্বন্দ্ব। সরকার বিরোধী চক্রান্তের অভিযোগ এনে তাঁকে আইএসআইয়ের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান। তারপর থেকেই সম্পর্কটা আদায়-কাঁচকলায়। কয়েকদিন আগেই ইমরান খান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর দল এবং তিনি সেই ইস্যুতে যথেষ্ট হাওয়া গরম করছেন। তেমন পরিস্থিতিতে আসিম মুনিরকে সেনাপ্রধান করা কি শাহবাজ শরিফের ‘মাস্টারস্ট্রোক’? অন্তত পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় রাজনীতির আঙিনায় এই সম্ভাবনাকে ফেলে দিচ্ছে না কেউ। আপাতত কোন দিকে যায় পরিস্থিতি, সেনাপ্রধানের পদ থেকে কী পরিকল্পনা নেন আসিম মুনির আহমেদ, সেটাই এখন দরকার।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?