রাম-হনুমান 'দেবতা'? প্রশ্ন করায় রামরাজ্যে যে ফল ভুগতে হল দলিত-কিশোরকে
Dalit Boy Slapped: রামরাজ্যে রামকে দেবতা না মানার পরিণাম ভালো মতোই ভুগতে হল বছর সতেরোর এক দলিত কিশোরকে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সদস্যদের তোপের মুখে পড়ল সে।

গোটা দেশ আপাতত রামমন্দিরে মগ্ন। যেখানে কান পাতা যায় রামমন্দিরের আলোচনা। সেই নিয়ে জোর চর্চা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সর্বোত্র। কোটি কোটি টাকা খরচ করে অযোধ্যায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেখানে রামলালার মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিতে মুখর গোটা দেশ। সেই রামরাজ্যে রামকে দেবতা না মানার পরিণাম ভালো মতোই ভুগতে হল বছর সতেরোর এক দলিত কিশোরকে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সদস্যদের তোপের মুখে পড়ল সে।
এ দেশে দলিত নিগ্রহের ঘটনা কোনও নতুন বিষয় নয়। তার উপর সে দলিত যদি আবার বিরুদ্ধস্বর হয়, তাহলে তো কথাই নেই। কর্ণাটকের বিদার জেলার সার্কেল এলাকার ঘটনা। ১৭ বছরের ওই দলিত কিশোরটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে বসেছিল, রাম এবং হনুমান দেবতা নয়। আর তার পরিণাম ভালো মতোই ভুগতে হয়েছে তাকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
SRK-Amir-Salman not invited in Ram Mandir : শাহরুখ-সলমান-আমির, দেশের তিন 'খান' তারকাই বাদ! ধর্মে অন্য বলে?
রামমন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী দেশ জুড়ে অকাল দীপাবলি পালনের নির্দেশ দেন। পরিবেশ দূষণের তোয়াক্কা না করেই সোমবার দেশ জুড়ে ফেটেছে অসংখ্য বাজি। জায়গায় জায়গায় দেখা গিয়েছে আলোর রশনাই। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে রামমন্দির উদ্বোধনের উদযাপন। তার মধ্যে বিরুদ্ধস্বরও যে একেবারে ছিল না, তা কিন্তু নয়। অনেকেই দেশ জুড়ে এই রামউৎসবের সমালোচনাও করেছেন। এই মরসুমে সোশ্যাল মিডিয়ায় আনফ্রেন্ড থেকে ব্লকও হয়েছে বহু বিরুদ্ধ স্বর।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Kangana Ranaut at Ram Mandir : কঙ্গনা নিজে দ্বারকা থেকে নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিয়ে ফেলেন। দ্বারকায় কঙ্গনা বলেছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ চাইলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন।
পূরাণ মতে রাম বিষ্ণুর অবতার। আর অবতার সেই অর্থে দেবতা নন। এ কথা সকলেই জানেন। পাশাপাশি রাম একটি মহাকাব্যের চরিত্র, এ কথাও অজানিত নয়। আর সেই মতই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে ফেলেছিলেন দলিত ওই কিশোর। আর সে কারণেই হিন্দুত্ববাদীদের তোপের মুখে পড়ল সে। না, সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়। বরং রিকশা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ওই স্কুলপড়ুয়ার মুখে উড়ে এল সপাট চড়। তাকে ঘিরে ধরল গলায় গেরুয়া ওড়না পরিহিত একদল উগ্রবাদী। পরে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি মন্দিরে। সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছেলেটিকে জোর করে মন্দিরে প্রণাম করতে বাধ্য করা হয়। আরও একটি ফ্রেমে দেখা যাচ্ছে, ওই কিশোরের মোবাইল চেক করছেন কয়েকজন ব্যক্তি।

স্বাভাবিক ভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরেছে ওই ভিডিও। সেই ভিডিওর ভিত্তিতে স্বতপ্রণদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসসি/এসটি আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
সকলেই দেখছে রাজা উলঙ্গ। কিন্তু তার মুখের উপর এসে এই সত্যটুকু জানিয়ে দিতে পেরেছিল একটি শিশু। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, এ যুগে সেই শিশুকে মারধর থেকে নানা ধরনের হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়। ঠিক যেমনটা হয়েছে কর্ণাটকের ওই দলিত কিশোরের সঙ্গে।
















