মেট্রো চড়ে গিনেস বুকে নাম! করেছেন কী দিল্লির এই ব্যক্তি?
Delhi Man Guinness World Record: মেট্রোয় তো আমরা সকলেই চড়ি। তবে সেই মেট্রোই যে এনে দিতে পারে বিশ্বসম্মান, তা ভেবেছেন কখনও?

সকাল বেলা উঠে কোনও মতে নাকেমুখে গুঁজে অফিসে ছোটেন। বৃষ্টি-বাদলা রোদ মাথায় করে দৌঁড়ন মেট্রো ধরতে। কখনও রাস্তার নোংরা জল ছিটকে এসে লাগে গায়ে। কখনও বা চলন্ত সিঁড়ি বিকল। ফলে চড়তে হয় তেতাল্লিশখানা সিঁড়ি! সব মিলিয়ে বিরক্তির একশেষ। এ কমবেশি আমাদের সকলেরই রোজনামচা। আর এ সবের ভিড়ে মেট্রোকে নিয়ে আকাশকুসুম কল্পনা করার সময় আমাদের কার কাছেই বা থাকে! সুলভে সহজে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মেট্রোর জুড়ি মেলা ভার। এ শহরে একদিন-আধদিন মেট্রো পরিষেবা বন্ধ থাকলে আমাদের পরিস্থিতিটা কী দাঁড়াবে, তা আঁচ করা যায় সহজেই। জীবন সহজ করার পাশাপাশি এই মেট্রোই যে আপনাকে করে তুলতে পারে অনোন্য, এমনটা তলিয়ে ভেবেছেন কখনও।
শুধু ভাবেনইনি, তেমনটাই করে দেখিয়েছেন দিল্লির বাসিন্দা শশাঙ্ক মানু। পেশায় তিনি ফ্রিল্যান্স গবেষক। তবে এখন সেটুকু দিয়ে আর শশাঙ্ককে চেনানো যাবে না। এখন তাঁর পরিচয় তিনি গিনেস বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী। আর এই সম্মান তাঁকে এনে দিয়েছে মেট্রো। দিল্লি শহরে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম মেট্রো। গোটা শহরটাকেই প্রায় বেধে রেখেছে দিল্লি মেট্রো। আর এই শহরেই ২৮৬টি মেট্রো স্টেশন ঘুরে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন শশাঙ্ক। আর তা-ও মাত্র ১৫ ঘণ্টা ২২ মিনিট এবং ৪৯ সেকেন্ডে। আর এই কাজই তাকে জায়গা করে দিয়েছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে।
দিল্লি মেট্রোর গ্রিন লাইনের ব্রিগেডিয়ার হোশিয়ার সিং স্টেশন থেকে ভোর পাঁচটা নাগাদ যাত্রা শুরু করেছিলেন শশাঙ্ক। শেষ করেন রাত সাড়ে আটটা নাগাদ দিল্লি মেট্রোর ব্লু লাইনে। আর তার জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি টুরিস্ট কার্ড কিনে নেন তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে একদিনে আনলিমিটেড মেট্রোযাত্রা করতে পারেন পর্যটকেরা। তেমনটাই বিধি। আর ওই টুরিস্ট কার্ড পকেটে রেখেই ২৮৬টি স্টেশন ছুঁয়ে ছুঁয়ে গিয়েছেন তিনি। গোটাসফরের প্রতিটা মুহূর্তই ভিডিওবন্দি করেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, তাঁর এই সফরের দু'জন সাক্ষীও রাখেন শশাঙ্ক। তাঁদের থেকে প্রমাণস্বরূপ সইও সংগ্রহ করেছেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
World's first vegetarian restaurant : ১২৫ বছর ধরে হাউস হিল্টলে নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয় এখানে, জানেন কোথায় রয়েছে বিশ্বের প্রাচীনতম নিরামিষ রেস্টুরেন্ট?
Hey
look what just arrived, the certificate for my Guinness record of visiting all Delhi Metro stations in fastest time!
Also the news of my record was prominently covered by many media outlets in India. THANK YOU!
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Godwit bird : একটানা ১১ দিন ধরে উড়ে সে পার করেছে ১৩,৫৬০ কিলোমিটার অর্থাৎ ৮,৪৩৫ মাইল পথ
— Shashank Manu (@sskmnu)

তবে যতটা মনে হচ্ছে, ততটাও সহজ ছিল না তাঁর এই সাফল্য। করোনা পরবর্তী সময়ে এই মেট্রোযাত্রার চ্যালেঞ্জটি নিয়েছিলেন শশাঙ্ক। এই গোটা যাত্রাটা তিনি করেছিলেন ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে। তবে ওই বছরেরই ২৯ অগস্ট তারিখে প্রফুল্ল সিং নামে এক ব্যক্তি একই কাজ করে বসেন। তিনি পেশায় একজন রাজস্বকর্তা। তাঁর সময় লেগেছিল ১৬ ঘণ্টা ২ মিনিটের কাছাকাছি। তবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড থেকে স্বীকৃতি এসে ঢোকে প্রফুল্লের ঝুলিতেই। তবে পরে জানা যায়, যে কাজের জন্য বিশ্বরেকর্ডের খেতাব পেয়েছেন প্রফুল্ল, সেই কাজ এর আগেই সেরে ফেলেছেন শশাঙ্ক। তা-ও আবার কম সময়ে।
তবে শেষপর্যন্ত সামনে আসে আসল সত্য। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তরফে ভুল স্বীকার করে সম্মান তুলে দেওয়া শশাঙ্কের হাতে। প্রতিটি মেট্রোস্টেশনের ছবিও ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন তিনি প্রমাণস্বরূপ। সে সমস্ত কিছুও গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা করেন তিনি। দেরিতে হলেও সুখবর আসে। প্রায় দু'বছর বাদে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তরফে শংসাপত্র পেয়েছেন শশাঙ্ক। টুইট করে নিজেই জানিয়েছেন সে কথা। তবে শুধু এই বিশ্বরেকর্ডটিই নয়। আরও বিশ্বরেকর্ড রয়েছে শশাঙ্কের ঝুলিতে। ২৪ ঘণ্টায় সব চেয়ে বেশি সংখ্যক মিউজিয়াম বা সংগ্রহশালা ভ্রমণের রেকর্ডটিও রয়েছে তাঁর ব্যাগেই। পাশাপাশি রয়েছে এক মাসে সব চেয়ে বেশি ধর্মীয়স্থান ঘোরারও রেকর্ডও। অন্তত পক্ষে ৭০টি দেশ ইতিমধ্যেই ঘুরে ফেলেছেন তিনি।

মেট্রোয় তো আমরা সকলেই চড়ি। তবে সেই মেট্রোই যে এনে দিতে পারে বিশ্বসম্মান, তা ভেবেছেন কখনও? আসলে ক্রমাগত যে যুগে আমরা ঢুকে পড়েছি, সেখানে আমাদের হাতে সময় ক্রমশ কমছে। আরও স্বল্পদৈর্ঘ্য, আরও দ্রুতের দিকে ঝুঁকছে মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে বিনাপরিশ্রমে বিখ্যাত হওয়ার সরল টোটকা। আর সেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ গুঁজে থাকতে থাকতে চারপাশে তাকাতেই আসলে ভুলে গেছে মানুষ। শশাঙ্ক কিন্তু সেই ভুলটা করেনি। সামান্য মেট্রোতে বা রোজের একঘেয়ে রোজনামচার মধ্যেই যে লুকিয়ে থাকতে পারে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সহজ শর্টকাট,তা কিন্তু গোড়া থেকেই বুঝে গিয়েছিলেন গিনেসজয়ী এই গবেষক।
















