মোট ৩৫টি স্থানে ইডির হানা! কেন বিপাকে অনিল আম্বানি?
Anil Ambani : ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, একাধিক সংস্থার খোঁজখবর না নিয়েই ঋণের শর্ত ভেঙে অর্থ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাগুলির আর্থিক পরিস্থিতি কেমন তা যাচাই করা হয়নি। এমন বহু সংস্থা ঋণ পেয়েছে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল।

এবার বিপাকে অনিল আম্বানি। শিল্পপতির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ার পর ইডি তল্লাশি চালাল। দিল্লি, মুম্বাই-সহ মোট ৩৫টিরও বেশি অফিস, দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট স্থানে ২৪ জুলাই সকালে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অনিল আম্বানি ও তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠছে?
২৩ জুলাই স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (SBI), রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস (RCom) এবং সংস্থাটির প্রোমোটার-ডিরেক্টর অনিল আম্বানিকে ‘প্রতারক’ বলে দাবি করেছিল। এর পরপরই এই অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনিলের সংস্থা ‘রিল্যায়ান্স অনিল অম্বানী গ্রুপ’ বা ‘রাগা’ আর্থিক তছরুপ করেছে। এর তদন্ত করতে ইডি ৫০টিরও বেশি সংস্থা ও ২৫ জন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
অর্থলগ্নি নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ব স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) সঙ্গে অনিল আম্বানির বিভিন্ন সংস্থার সমস্যা চলছে। এই শিল্পপতির বিরুদ্ধে এসবিআই ভেবেছিল সিবিআইয়ের দ্বারস্থ হবে। এসবিআই আগেও ২০২০ সালের নভেম্বরে অনিল আম্বানি ও তাঁর সংস্থা রিলায়েন্স কমিউনিকেশন্স-কে প্রতারক বলেছিল। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগও করেছিল এসবিআই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mukesh Ambani : ভারত তথা এশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তির রোজকার রুটিন
এখন ইডির অভিযোগ, বিপুল ঋণ পেতে এই সংস্থা ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ কর্তাদের ঘুষ দিয়েছিল। এমনকি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বেসরকারি ইয়েস ব্যাঙ্ক অনিলের সংস্থা ‘রাগা’ গোষ্ঠীর বিভিন্ন কোম্পানিকে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে ইডি। এর বিনিময়ে নাকি ইয়েস ব্যাঙ্কের তৎকালীন কর্মীরা ব্যক্তিগত লাভ পেয়েছিল। ইডি দাবি করেছে, এটি একটি ‘দেওয়া-নেওয়া চুক্তি’ বা ‘কুইড প্রো কো’।
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, একাধিক সংস্থার খোঁজখবর না নিয়েই ঋণের শর্ত ভেঙে অর্থ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাগুলির আর্থিক পরিস্থিতি কেমন তা যাচাই করা হয়নি। এমন বহু সংস্থা ঋণ পেয়েছে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল। দেখা গিয়েছে, একাধিক সংস্থার পরিচালক এক জনই। প্রয়োজনীয় নথি না দেখেই একের পর এক ঋণ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য নথিও ছিল না। ঋণের টাকা বিভিন্ন ভাবে শেল কোম্পানিতেও পাঠানো হয়েছে। আবার পুরোনো ঋণ মেটাতে নতুন করে ঋণ নেওয়া হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Anant Ambani-Radhika Merchant Pre-Wedding: দেশের এই ধনকুবেররাই, অর্থাৎ আদানি-আম্বানিরাই কিন্তু সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে বিজেপিকে।
উল্লেখ্য, এর আগেও রিলায়্যান্স হোম ফিনান্সের ঋণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল অনিলের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালে এরিকসন মামলায় ৪৫৮.৭৭ কোটি টাকা জরিমানা দিতে ব্যর্থ হন তিনি। জেলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অনিল আম্বানির বড় ভাই শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি। তখন দাদা মুকেশই সাহায্যে করেন।
ইডিকে তদন্তে সহায়তা করছে ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাঙ্ক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া বা সেবি, ন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি বা এনএফআরএ ও ব্যাঙ্ক অব বরোদা।
সেবি-র রিপোর্টে রিলায়েন্স হোম ফিন্যান্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ সালে ওই সংস্থার ঋণ ছিল ৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা, তা ২০১৮-১৯ সালে হয় ৮ হাজার ৬৭০ কোটি। প্রশ্ন উঠছে, কেন বারে বারে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে?















