একেই বলে 'আচ্ছে দিন'! বহুজাতিকের চাকরি ছেড়ে ক্যাব চালিয়েই বেশি স্বচ্ছল এই ব্যক্তি
Engineer earns more by driving cab: কোনও ছোট সংস্থা নয়, এর আগে তিনি কাজ করতেন বিখ্যাত এমএনসি কোয়ালকমে। সেখানে তিনি যা আয় করে এসেছেন, তার থেকে অনেক বেশি আয় করতে পারছেন এখন গাড়ি চালিয়েই।

যত দিন যাচ্ছে শিক্ষার দাম কমছে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মরছেন শিক্ষিতরা, কিন্তু চাকরি অমিল। এদিকে গদি আলো করে ভিড় অর্ধ শিক্ষিত, অশিক্ষিতদের। শিক্ষার মাপকাঠিতে চাকরি দিতে যে ব্যর্থ সরকার, তা বারবার প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। কেউ বলেছেন, চপ ভাজতে তো কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন চায়ের দোকান খোলার। সংসারের জোয়াল টানতে তেমনই কোনও পথ বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন তরুণ প্রজন্মও। পাশাপাশি এ কথাও সত্য দীর্ঘদিন ধরে কোনও 'মার্কেট কারেকশন'-এর বালাই নেই এ দেশে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ে প্রতিদিন, কিন্তু বেতন! বেতন দাঁড়িয়ে থাকে একই জায়গায়। সেখানে কোনও রদবদল নেই। ফলে শুধু সরকারি চাকুরিজীবীরাই নয়, বহু কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরতকেই বেছে নিতে হচ্ছে বিকল্প রুজির পথ।
বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আমাদের লাইফস্টাইল। 'চাড্ডি যায়ে পর পাগড়ি না যায়ে!' আধুনিক সমাজে শেষ কথা বলে 'স্ট্যাটাস'। ফলে পড়িমরি করে তা ধরে রাখতে উদগ্রীব আজকের প্রজন্ম। আর সেই সব কিছু সামাল দিয়ে উঠতে স্বাভাবিক ভাবেই হিমশিম অবস্থা তাঁদের। সমাজ আমাদের সামনে এমন একটা কাঠামো এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যেখানে এই 'স্ট্যাটাস' বিষয়টি ভীষণ জরুরি হয়ে পড়েছে আমাদের কাছে। আর এটা একেবারেই যুগের ধর্ম। এর থেকে মুখ ঘুরিয়ে সহজ, সাদামাটা জীবনের দিকে ফিরে তাকানোর অবকাশ আমাদের কাছে নেই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চায়ের দোকানের কাটা কেক বা বাপুজী-র পাশাপাশি লাফিয়ে বাড়ছে ফ্যান্সি, ডেকরেটেড কেকের চাহিদা। তাই আপনি যদি এই সময় কোনও স্টার্ট আপ শুরু করতে চান, তাহলে কেকের কথাটা একেবারে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

তবে এই সব কিছুর মধ্যেই চমকে দেওয়া একটি তথ্য সামনে এনেছেন এক তরুণী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের কথা, যিনি কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে ট্যাক্সি চালানোর পেশা বেছে নিয়েছেন। কারণ ক্যাবচালক হিসেবে তিনি যা আয় করতে পারছেন, তা বড় বড় বহুজাতিক সংস্থার চাকরি থেকে করা আয়ের থেকে কয়েক গুণ বেশি। আর তাই জন্যেই তিনি তাঁর বিষয়, পড়াশোনা সব কিছু ছেড়ে নেমে পড়ছেন রাস্তায়, হাতে তুলে নিচ্ছেন স্টিয়ারিং।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Money and Happiness: ঠিক কত উপার্জন করলে একজন মানুষ সুখী হতে পারবেন তার কোনও 'কাটঅফ পয়েন্ট' মেলেনি গবেষণাতে।

সম্প্রতি শ্বেতা কুকরেজা নামে এক মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। বন্ধুদের সঙ্গে যাওয়ার পথে একটি অ্যাপক্যাবে ওঠেন শ্বেতা। তখনই এক ক্যাবচালকের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়, যিনি পেশায় আদতে ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু আরও একটু বেশি আয়ের আশায় তিনি বদলে ফেলেছেন পেশা। কোনও ছোট সংস্থা নয়, এর আগে তিনি কাজ করতেন বিখ্যাত এমএনসি কোয়ালকমে। অবাক করা ব্যাপারে, সেখানে তিনি যা আয় করে এসেছেন এতদিন যাবৎ, তার থেকে অনেক বেশি আয় করতে পারছেন এখন গাড়ি চালিয়েই।
টুইটারে সেই অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিয়েছিলেন শ্বেতা। আর সেই পোস্টটিই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা যারপরনাই অবাক করেছে নেটদুনিয়ার বাসিন্দাদের। আর সবচেয়ে বড় কথা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরিক্ষেত্রের একটি নগ্ন রূপ তুলে ধরেছে আমাদের সামনে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের জোগান দিতে বহু দিন ধরেই ব্যর্থ আমাদের কেন্দ্র-রাজ্য দুই সরকারই। শিল্প আসছে না, এদিকে সমস্ত সরকারি সংস্থাগুলির নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ চলে যাচ্ছে আদানি-আম্বানিদের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে। স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ তরুণ-তরুণীরা বাধ্য হচ্ছেন চা-চপের দোকান দিতে, ঘুগনি বেচতে। আশপাশে তাকালেই চোখে পড়ছে 'এমএ পাশের চায়ের দোকান', 'এমবিএ পাশের চপের দোকান'। আর এ ভাবেই এগোচ্ছে আগামীর ভারত। আর সে কথাটাই বোধহয় ফের আরেকবার চোখে আঙুল দিয়ে মনে করিয়ে দিল সাম্প্রতিক এই ঘটনা।
















