কেক বানাতে পারেন? শখ পেশা হলে উপার্জন লাখে, কীভাবে জানুন

আমরা অনেক সময়েই নিজেদের শখের কারণে অনেক কিছুই শিখে বা করে থাকি, যার মধ্যে অন্যতম, বাড়ির টুকটাক অনুষ্ঠানে কেক তৈরি করা। বাড়িতে কেক বানানোর শুরুয়াত কিন্তু বেশ কিছুটা আগের আমল থেকেই। বাজারে তখনও মাইক্রোওভেন আসেনি, সেই সময় কেক প্রস্তুত করার জন্য আলাদা করে রমরমিয়ে ‘কেক-ওভেন’ বিক্রি হতো। আজও কিছু কিছু বাড়িতে তখনকার সময়ের কেক-ওভেনের দেখা মেলে। সেই সময় থেকে আজ অবধি কখনও কেকের চাহিদা একবারের জন্যও কমেনি, বরং বাঙালির রোজের জীবনে কেকের প্রাধান্য বেড়েছে। চায়ের দোকানের কাটা কেক বা বাপুজী-র পাশাপাশি লাফিয়ে বাড়ছে ফ্যান্সি, ডেকরেটেড কেকের চাহিদা। তাই আপনি যদি এই সময় কোনও স্টার্ট আপ শুরু করতে চান, তাহলে কেকের কথাটা একেবারে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

কেকের ব্যবসা শুরু করার আগে, কয়েকটি বিষয় আপনাকে মাথায় রাখতে হবে,

১। প্রথমেই বেশি পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করবেন না, কারণ আজকাল এরকম ডিজাইনিং কেকের স্টার্ট আপ অনেকেই করছেন, তাই ব্যবসার উন্নতি দেখে অর্থ বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আরও পড়ুন: মাত্র দু’মাসেই লাখপতি হওয়ার সুযোগ অল্প পুঁজির এই পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়

২। একথা ঠিক যে, হাজারও দোকানের ভিড়ের মাঝেও আপনি যদি ভালো মানের কেক মানুষদের খাওয়াতে পারেন, তাহলে আপনার ব্যবসা অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু তার আগে আপনাকে নিজের তৈরি জিনিস সম্পর্কে মানুষকে জানাতেও হবে, তাই প্রথমেই কেকের দাম বেশি রাখা যাবে না। আবার ব্যবসার শুরুতে আপনি কিছু স্যাম্পেল প্রোডাক্ট প্রস্তুত করতে পারেন, অথবা একদিনের জন্য বিশেষ সেলের ব্যবস্থাও করতে পারেন।

৩। কেক বিক্রির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি কোন জায়গায় কেক বিক্রি করছেন। স্কুল অথবা ছোট বাজারের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি কেক বিক্রির আদর্শ জায়গা।

খরচ-সম্পর্কিত যাবতীয় হিসেব
বেকিং বিজনেস শুরু করতে গেলে প্রাথমিকভাবে আপনাকে কিছু টাকা খরচ করতে হবে। সেই খরচগুলো আগে থেকে হিসেব করে নেওয়াই ভালো। যেমন,

১। কেকের উপকরণ সামগ্রীর দাম
২। দোকানের ভাড়া
৩। ডেলিভারির খরচ
৪। কেকের প্যাকেটের খরচ
৫। কেকের হাইজিন মেন্টেনেন্সের খরচ
৬। লেবেল বা অন্যান্য স্টেশনারি জিনিসের খরচ
৭। গ্যাস বা ইলেকট্রিকের খরচ

এক্ষেত্রে একটি কথা না বললেই নয়, আমরা বেশিরভাগ সময়েই নিজের কায়িক শ্রম বা সময়ের হিসেবটা করি না, কিন্তু আপনি যদি একজন পাকাপোক্ত ব্যবসাদার হয়ে উঠতে চান, তাহলে অবশ্যই সময় অথবা শ্রমের মূল্য খরচের হিসেবে যোগ করতে ভুলবেন না।

সঠিক পরিকল্পনা
ছোট করে ব্যবসা শুরু করার পর আপনি যদি লাভবান হন, তাহলে আগে থেকে আগামী এক বছরের পরিকল্পনা সেরে রাখুন। পরিকল্পনা ব্যতীত কোনও কাজেই সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। কেক প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান, প্যাকেট বা ডেলিভারির সাপ্তাহিক অথবা মাসিক খরচ কতখানি হচ্ছে– তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব প্রস্তুত করে রাখতে হবে। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। জন্মদিন, অ্যানিভার্সারি অথবা বড়দিন ছাড়াও কীভাবে এবং কোথায় আপনি কেক বিক্রি করতে সক্ষম হবেন, তার হিসেবও করে রাখাই শ্রেয়। এছাড়াও আপনি এই ব্যবসায় কত টাকা বার্ষিক বিনিয়োগ করতে চান বা লাভের পরিমাণ-বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়গুলি নিয়েও আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখলে ভবিষ্যতে আপনি লাভবান হবেন।

নেটওয়ার্কিং
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে আপনি বাড়িতে বসেও অসংখ্য লোকের কাছে পৌঁছে যেতে পারেন। লকডাউনের সময় থেকে ফেসবুকে একাধিক বিজনেস গ্রুপ তৈরি হয়েছে, যেখানে আপনি নিজের জিনিস সম্পর্কে অ্যাডভার্টাইসমেন্ট করা থেকে শুরু করে অর্ডার নেওয়া অবধি সবকিছুই করতে পারবেন। এইরকম গ্রুপগুলিতে আপনি জয়েন করতে পারেন। এছাড়াও ইন্সটাগ্রামে নিজের কেকের ছবি দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত করতে পারেন আপনি, সেখানে নিয়মিত পোস্ট করলে, ফলোয়ারও বাড়বে দ্রুত গতিতে। এছাড়াও নিজের ব্যবসার একটি কার্ড আপনি প্রস্তুত করতে পারেন। কোনও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের কাছে কিংবা কোনও কেকের দোকানে নিজের কার্ড এবং সঙ্গে কিছু স্যাম্পেল প্রোডাক্ট দিয়ে আসতে পারেন।

মানুষের পছন্দকে গুরুত্ব দিন

অনেক সময় দেখা যায়, আমরা যে জিনিসটা খুব ভালবেসে বা যত্ন নিয়ে প্রস্তুত করি, তা লোকের পছন্দ হয় না। এমনটা হলে আবার অনেকসময় আমাদের মনও খারাপ করে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ব্যবসার ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ কিংবা মনখারাপের কোনও জায়গা নেই। শুধু কেকের স্বাদের ক্ষেত্রেই নয়, মানুষ কত টাকা কেকের পিছনে খরচা করতে চায়- সেই বিষয়টিও আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ফ্যান্সি কেক মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন বস্তু নয়, মানুষ সেই কেক কেনে শখে। ব্যবসা শুরুর আগেও আপনি মানুষের সঙ্গে কথা বলে, তাদের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।

কেকের সঙ্গে এক্সপেরিমেন্ট
আপনার ব্যবসা একবার দাঁড়িয়ে গেলে এবং কিছু চেনাজানা খরিদ্দার তৈরি হয়ে যাওয়ার পরেই এক্সপেরিমেন্ট শুরু করা যেতে পারে, তার আগে একেবারেই নয়। বিভিন্ন স্বাদের কেক তৈরির পাশাপাশি আপনি কেকের ভেতরের ফিলিং-এর পরিবর্তন করতে পারেন। কেকের ব্যবসার পাশাপাশি তখন আপনি চকোলেট বা পুডিং অথবা ফাজ-জাতীয় জিনিসও প্রস্তুত করতে পারেন। বর্তমানে বহু মানুষই ভেগান কেক বা ডিম ছাড়া কেকের খোঁজ করে থাকেন। সেক্ষেত্রে আপনি এই ভেগান কেকের নানা ভ্যারাইটিজ নিয়ে আসতে পারেন আপনার গ্রাহকদের জন্য।

হ্যাম্পারের বন্দোবস্ত
ছোটবেলা থেকেই আমরা কমবেশি একটি কথা শুনে এসেছি, ‘প্রথমে দর্শনধারী, পরে গুণ বিচারি’। বর্তমান যুগে এই কথাটি অনেক বেশিমাত্রায় প্রযোজ্য। মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে শৌখিনতায় গা ভাসাচ্ছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণেই মানুষের ‘দেখনদারি'-র বিষয়টি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই বিষয়টি আপনি যদি ব্যবসার কাজে লাগাতে পারেন, তবে আপনি লাভবান হবেন। জন্মদিনে বা অ্যানিভার্সারিতে উপহার দেওয়ার জন্য সুন্দর দেখতে কেকের হ্যাম্পার বানানো যেতে পারে। যেহেতু এখানে উপহার দেওয়ার একটা ব্যাপার থাকে, তাই অনেক সময়েই মানুষ এইসব হ্যাম্পারের জন্য খানিক বেশি টাকা দিতেও পিছপা হয় না। ক্রিসমাসের সময় সাধারণ কেকের থেকেও মানুষ স্যান্টাক্লসের অবয়বের কেক কিনতে পছন্দ করে থাকেন, সেইমতো বড়দিনকে মাথায় রেখে নানা আকৃতির কেক আপনি বানাতে পারেন।

 

More Articles

;