হারানো দুল খুঁজতে গিয়ে হাতে গুপ্তধন! ভাইকিংদের দুর্মূল্য শিল্পকর্ম মিলল বাগানেই
1200-Year-Old Viking Treasure: ছোট্ট সোনার কানের দুলের তল্লাশিতে নেমে তাঁরা যা পেয়েছেন, তা ওই সোনার দুলের থেকে দামী তো বটেই, বলা যায় দুর্মূল্যও।

জরুরি জিনিস হারিয়ে গেলে মনখারাপ তো হয়ই, আর তা যদি সোনার কানের দুল হয়, তাহলে তো কথাই নেই। তেমনই একটি সোনার কানের দুলের খোঁজে বেরিয়েছিলেন নরওয়ের একটি পরিবার। রীতিমতো মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে সেই সোনার দুলটি খুঁজতে বেরোন পরিবারটি। তবে দুলের বদলে যা খুঁজে পেল পরিবারটি, তা অমূল্য। খুঁজতে খুঁজতে তাদের হাতে এসেছে ভাইকিং সভ্যতার একাধিক শিল্পকর্ম। যার বয়স এক হাজার বছরের বেশি তো হবেই।
হিন্দিতে একটি কথা আছে, 'ভগবান যব দেতা হ্যায় তো ছপ্পর ফড়কে দেতা হ্যায়'। এই পরিবারটির সঙ্গে ঘটেছে ঠিক তেমনটাই। ছোট্ট সোনার কানের দুলের তল্লাশিতে নেমে তাঁরা যা পেয়েছেন, তা ওই সোনার দুলের থেকে দামী তো বটেই, বলা যায় দুর্মূল্যও। নরওয়ের জমফ্রুল্যান্ডের বাসিন্দা ওই অসভিক পরিবারটি মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে বাগানে সোনার দুল খুঁজে বেড়াচ্ছিল, সে সময় তাঁদের হাতে আসে ভাইকিং সভ্যতার বেশ কিছু শিল্পকর্ম।
পরীক্ষানিরিক্ষার পরে বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন, সম্ভবত সেই জিনিসগুলি ভাইকিং সভ্যতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সামগ্রী। রয়েছে বাটি আকৃতির একটি বকলস। নৃতাত্ত্বিকদের মত, নবম শতাব্দীতে সেগুলি ব্যবহার করা হত ভাইকিং মানুষদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়। কালচারাল হেরিটেজ অব ভেস্টফোল্ড ও টেলিমার্ক কাউন্টি কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞেরা প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন, কোন ভাইকিং মহিলার সমাধি ছিল ওই পরিবারের বাগানে কোনও একটি বিরাট গাছের তলায়। কম করে হলেও ওই নিদর্শনগুলি ৪০০ খ্রিস্টাব্দের তো হবেই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gujarat Mass Graveyard : কবরগুলিতে মেলা মৃতদেহের স্বাস্থ্য বলে দিচ্ছে বেশিরভাগই ভালো খাওয়াদাওয়া করা মানুষ ছিলেন, স্বাস্থ্যবানও ছিলেন কেউ কেউ।


ভাইকিংরা ছিল স্ক্যান্ডেনেভিয়ার একদল সমুদ্রচারী জলদস্যুর দল। যারা একাধারে ছিল যোদ্ধা ও ব্যবসায়ী। অষ্টম শতক থেকে একাদশ শতক পর্যন্ত ইউরোপের বিরাট অংশ জুড়ে লুঠতরাজ চালিয়েছে তারা। করেছে বসতি স্থাপনও। তৎকালীন সেই স্ক্যান্ডেনেভিয়াই এখনকার ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন। পূর্ব দিকে রাশিয়া ও কনস্টান্টিনোপল পর্যন্ত পৌঁছেছিল ভাইকিংরা। অন্যদিকে ৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে গ্রিনল্যান্ডে প্রথম ইউরোপীয় বসতি স্থাপন করে তারা। সম্ভবত প্রথম ইউরোপীয় জাতি হিসেবে ১০০০ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কারও তাদেরই কীর্তি। আইসল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অনেক গাথায় ভাইকিংদের শৌর্য-বীর্যের উল্লেখ রয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mohenjo-daro : শতবর্ষ আগে এক বাঙালি প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার করেছিলেন এই শহর, কেমন আছে প্রাচীন মহেঞ্জোদারো?

সেই ভাইকিং সভ্যতার একটি পর্ব থেকে পর্দা তুলেছে নরওয়ের ওই পরিবার। মেটাল ডিটেক্টর বেজে উঠতেই খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছিলে পরিবারের সদস্যেরা, যদি পছন্দের দুলটি পাওয়া যায়। তবে হাতে এসে পড়ে দুর্মূল্য ওই সব সামগ্রী। যা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অসভিক পরিবারটি। জমফ্রুল্যান্ড আসলে নরওয়ের দক্ষিণ উপকূলের ছোট্ট একটি দ্বীপ। তবে এই আবিষ্কারের আগে নৃতাত্ত্বিকরা জানতেনই না, ওই দ্বীপে কোনওদিন ভাইকিং সভ্যতার জনবসতি ছিল। এতদিন পর্যন্ত মনে করা হত, মধ্যযুগীয় মানুষেরা বসবাস করেছেন ওই দ্বীপটিতে। তবে এই প্রথম ভাইকিংদের চিহ্ন মিলল ওই এলাকায়।
পেশাদার না হলেও প্রত্নতাত্বিক হিসেবে বেশ পরিচিত এরল্যান্ড বোর। তিনি জানিয়েছেন, নরওয়ের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ রেনেসোতেও মেটার ডিটেক্টর ব্যবহার করে এমনই একগুচ্ছ জিনিস উদ্ধার করেছিলেন তিনি। ৫০০ খ্রিস্টাব্দেরও পুরনো ৯টি পেনডেন্ট, তিনটি আংটি ও ১০টি সোনার মুক্ত খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। নৃতাত্বিকেরা এই আবিষ্কারকে আখ্যা দিয়েছিলেন নরওয়েতে শতাব্দীর সোনার সন্ধান বলে। ঠিক তেমন ভাবেই এবার ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় সামনে নিয়ে এল অসভিক পরিবারটি।
















